
নগর ভবনে আগুন - ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 6 August 2024 16:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভাঙচুর, লুটপাট, আগুন... বাংলাদেশের যে দিকে তাকানো হবে, সেই দিকেই এখন এই চিত্র। সোমবার প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার পর আরও হিংসার ঘটনা বেড়েছে বাংলাদেশে। ঢাকা থেকে শুরু করে সিলেট, যশোর, সাতক্ষীরা, উত্তরা সব জায়গায় লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। বাদ যায়নি রাজশাহীও। সেখানের নগর ভবনেও আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুড়ে ছাই ওই ভবনের দুটি তলা।
পশ্চিমবঙ্গ থেকে মাত্র ৫ ঘণ্টার দূরত্ব রাজশাহীর। সেখানেই সোমবার বিকেলের পর থেকে চলে তাণ্ডব। নগর ভবনে ঢুকে পড়ে উন্মত্ত জনতা। প্রথমে লুটপাট চালানোর পর আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। আবাসনের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলা পুড়ে ছাই হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকাল থেকেও এলাকায় ছিল উত্তেজনা। সোমবার যে আগুন লাগানো হয়েছিল তা মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্তও নেভানো সম্ভব হয়নি। সোশ্যাল মিডিয়ায় একাধিক ভিডিও ভাইরাল হয়েছে যেখানে দেখা যাচ্ছে নগর ভবন থেকে কালো ধোঁয়া বেরোচ্ছে।
নগর ভবনে আগুন লাগানো ছাড়াও বহু জায়গায় পুলিশের গাড়িতে আগুন লাগানো হয়। পুড়ে নষ্ট গেছে একাধিক গাড়ি। তবে এতেও শান্ত হয়নি বিক্ষোভকারীরা। পুড়ে যাওয়া গাড়ির থেকে যন্ত্রাংশ চুরি করেন অনেকে। সাধারণ পুলিশের গাড়ি তো বটেই, সাঁজোয়া গাড়ি থেকেও যন্ত্রাংশ খুলে নেওয়া হয়। পুলিশের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ক্ষোভ শুরু থেকেই ছিল। সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ দেখা না গেলেও পুলিশের সঙ্গে তাঁদের ব্যাপক বিরোধ হয়েছে।
সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থানায় ঢুকে ১৩ জন পুলিশ কর্মীকে আন্দোলনকারীরা পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছিল রবিবারই। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান আরও একজন। সিরাজগঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরে বেলকুচি, শাহাজাদপুর ও চৌহালী উপজেলার সীমান্তবর্তী কিছু এলাকা নিয়ে গঠিত এনায়েতপুর থানা। এই থানার শীর্ষকর্তা শাহিনুর আলম। তিনি গুরুতর চোট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি। তিনিই জানিয়েছেন, হাজার চার-পাঁচ লোক মিলে থানায় ঢুকে তাঁদের মারধর করেন।
তাঁরা সকলে আত্মসমর্পণ করতে চাইলেও বিক্ষোভকারীরা কোনও কথা না শুনে থানায় ভাঙচুর করে গেটে আগুন লাগিয়ে দেয়। পরিস্থিতি এমনই ভয়াবহ হয়ে ওঠে, যে পালানো ছাড়া উপায় ছিল না। এরপরই একে একে ১৪ জন পুলিশকে খুঁজে খুঁজে হত্যা করা হয়।