বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন দুটি কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবার ভোটের দিনই একইসঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট নেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রতি বুথে দুটি করে ব্যালট বাক্স থাকবে। দেশটিতে অতীতে তিনবার গণভোট হলেও সেগুলি পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শেষ আপডেট: 10 December 2025 18:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের (Bangladesh Election) নির্ঘণ্ট ঘোষণা করা হবে। সন্ধ্যা ছটায় এজন্য জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন দেশটির মুখ্য নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন (AMM Nasir Uddin)। বাংলাদেশে এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গেই অনুষ্ঠিত হবে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট।
এদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে বুধবার উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। মাহফুজ আলম ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উপদেষ্টা। ওদিকে ক্রীড়া ও যুব কল্যাণ এবং স্বশাসিত সংস্থা বিষয়ক মন্ত্রকের উপদেষ্টা ছিলেন আসিফ। দুজনেই বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রথম সারির মুখ ছিলেন। সেই আন্দোলনের নেতৃত্ব বর্তমানে জাতীয় নাগরিক পার্টিতে যুক্ত হয়েছেন। তবে আসিফ ও মাহফুজ জাতীয় নাগরিক পার্টির প্রার্থী হবেন কিনা তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সংসদ নির্বাচন করা নিয়ে বুধবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার রাষ্ট্রপতি মহম্মদ শাহাবুদ্দিনের সঙ্গে দেখা করেন। তার আগে তিনি প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এবং প্রধান বিচারপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
বাংলাদেশের এবারের নির্বাচন দুটি কারণে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এবার ভোটের দিনই একইসঙ্গে জুলাই সনদ নিয়ে গণভোট নেওয়া হবে। অর্থাৎ প্রতি বুথে দুটি করে ব্যালট বাক্স থাকবে। দেশটিতে অতীতে তিনবার গণভোট হলেও সেগুলি পৃথকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
দ্বিতীয় তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়টি হল এই প্রথম বাংলাদেশের নির্বাচনে দেশটির মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সংগঠক দল আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। মহম্মদ ইউনুসের সরকার সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে। বিভিন্ন মহল থেকে চাপ তৈরি করা হলেও, আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না।
আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা আগেই ঘোষণা করেছেন তার দলকে ভোটে অংশ নিতে না দিলে সেই নির্বাচন জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্তরে স্বীকৃতি পাবে না। তাঁর পুত্র সজীব ওয়াজে জয়ের বক্তব্য, আওয়ামী লিগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন হলে বাংলাদেশে অশান্তি বিরাজ করবে। হাসিনা এবং জয় দুজনেই বাংলাদেশ সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন। অন্যদিকে দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের হুংকার দিয়েছেন আওয়ামী লিগকে ভোটে অংশ নিতে না দিলে নির্বাচন করতে দেওয়া হবে না। তবে নির্বাচন আটকাতে আওয়ামী লিগ কী করবে তা স্পষ্ট করেননি এই প্রবীণ নেতা। দ্য ওয়াল কে কয়েকদিন আগে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি হুঁশিয়ারি দেন বঙ্গবন্ধুর দলকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের নির্বাচন অসম্ভব।