বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিদেশমন্ত্রীর প্রথম সফরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকর, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠক করবেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী। প্রত্যেকেই নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন। এদের মধ্যে দিল্লিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকর এবং শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
.jpeg.webp)
নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমান।
শেষ আপডেট: 6 April 2026 11:39
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামীকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান দিল্লি আসছেন। ৯ এপ্রিল পর্যন্ত তিনি ভারতের রাজধানীতে একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেবেন। তবে সেগুলি মূলত দ্বিপাক্ষিক বৈঠক। খলিলুরের সঙ্গে আসছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।

আজ ৬ এপ্রিল ২০২৬, সোমবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
খলিলুর রহমানের সফরে গঙ্গাজল চুক্তি, সীমান্ত সমস্যা, ভিসা প্রদান এবং নিরাপত্তা ও জ্বালানি বিষয়ে কথা হবে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের বিদেশমন্ত্রীর প্রথম সফরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছে ভারত। জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল, বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকর, শিল্প ও বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল এবং পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরির সঙ্গে বৈঠক করবেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী। প্রত্যেকেই নরেন্দ্র মোদীর মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের দায়িত্বে রয়েছেন। এদের মধ্যে দিল্লিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সম্প্রতি বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকর এবং শিল্প বাণিজ্যমন্ত্রী পীযুষ গয়ালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছিল এই সফর হবে একদিনের। ঢাকার তরফে একাধিক ইস্যু নিয়ে আলোচনার প্রস্তাব আসায় খলিলুর রহমানের সফর হতে যাচ্ছে তিনদিনের। প্রাথমিক আলোচনায় খলিলুর রহমানের ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের বিষয়ে কথা হয়েছিল বলে জানা যায়। যদিও তেমন সাক্ষাৎকারের সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। আবার এ কথাও ঠিক কোন পক্ষই প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সম্ভাবনা নিয়ে মুখ খোলেনি। তবে কূটনৈতিক মহলের অনেকেই মনে করছেন বিদেশমন্ত্রীর হাত দিয়ে চিঠি পাঠিয়ে সাধারণত রাষ্ট্রপ্রধান তথা সরকার প্রধানকে সফরের আমন্ত্রণ জানানো হয়ে থাকে। তারেক রহমান তেমন কোনও উদ্যোগ নিচ্ছেন কিনা তা খলিলুর রহমান দিল্লি এলে স্পষ্ট হবে। অবশ্য তারেক রহমান তাঁর শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। ভারতে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ব্যস্ত থাকায় মোদী যেতে পারেননি। তবে খুবই গুরুত্ব দিতে ওই অনুষ্ঠানে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে পাঠান। জবাবই চিঠিতে মোদী তারেক রহমানকে যত দ্রুত সম্ভব সপরিবারে ভারত সফরে আসার আমন্ত্রণ জানান।তবে তারেকের তরফে এখনও ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিক দ্বিপাক্ষিক সফরে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে জানা যায়নি।

ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভাল ও বাংলাদেশের সাবেক নিরাপত্তা উপচেষ্টা তথা বর্তমান বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান।
এর আগে খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর ভারত সরকারের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর অন্ত্যেষ্টি অনুষ্ঠানে অংশ নেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী। দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে শোক পুস্তিকায় শোক জ্ঞাপন করেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
কূটনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশ বলছেন, ঢাকার তরফে তাদের বিদেশ মন্ত্রীর এই সফর নিয়ে আলোচনাকে সীমিত রাখার প্রয়াস লক্ষ্য করা গিয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এখনও সরকারিভাবে বিদেশ মন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করছে সে দেশের সংবাদ মাধ্যম। শুধু এক দুটি সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন বিদেশ মন্ত্রী। কূটনৈতিক সূত্রগুলি আরও বলছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারকে ভারত যে আন্তরিকতার সঙ্গে স্বাগত জানিয়েছে, তুলনায় বাংলাদেশের তরফে প্রতি উচ্ছ্বাস কম। এমনকী জরুরি ভিত্তিতে ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইন দিয়ে ভারত সে দেশকে ডিজেল সরবরাহ করলেও সরকারিভাবে তা নিয়ে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেনি ঢাকা। যদিও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে ডেকে বাংলাদেশের তিনজন মন্ত্রী জ্বালানি সংকট নিরসনে নয়াদিল্লির সহযোগিতা চান।
ঢাকার এই নির্লিপ্ততা নজর এড়ায়নি নয়া দিল্লির। ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে সেই কারণেই খলিলুর রহমানের সফরে ভারত স্বতঃপ্রণোদিত আগ্রহ প্রকাশ করলেও বৈঠকে ইস্যুভিত্তিক আলোচনায় মূলত বাংলাদেশের নতুন সরকারের মন-মানসিকতা বোঝার চেষ্টা হবে। নয়া দিল্লি মনে করছে নতুন সরকার এখনও চিন, পাকিস্তান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ককে প্রাধান্য দিয়ে ভারতকে বিবেচনায় রাখছে। মহম্মদ ইউনুসের জামানার সঙ্গে নির্বাচিত সরকারের সময়ে বিদেশ নীতি, বিশেষ করে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়টি নতুন দিকে মোড় নেবে কিনা সে বিষয়ে এখনও নয়া দিল্লির কর্তাদের মধ্যে ধোঁয়াশা আছে।
তবে এই ব্যাপারে পাল্টা জোরালো নালিশ আছে বাংলাদেশেরও। ঢাকার বর্তমান সরকারের বক্তব্য, তারা সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে চায় দু-দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ককে। আর সেটা করতে হলে ভিসা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। ঢাকার বক্তব্য নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বাংলাদেশের মিশনগুলি থেকে ভারতীয়দের সব ধরনের ভিসা দেওয়ার কাজ পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভারত এখনও বাংলাদেশে তাদের মিশনগুলি থেকে বাংলাদেশিদের চাহিদা মত ভিসা দিচ্ছে না। অন্যদিকে ভারতের বক্তব্য বাংলাদেশে অবস্থিত ভারতীয় মিশন গুলির নিরাপত্তা অনেক জোরদার করা প্রয়োজন। এই ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে এখনও কার্যকর পদক্ষেপ করা হয়নি।
বাংলাদেশের তরফে আরও একটি অনুযোগ হল, মহাম্মদ ইউনুসের জমানায় ভারতের আকাশ ও স্থলপথ ব্যবহার করে পাট সহ বিভিন্ন বাংলাদেশি সামগ্রী তৃতীয় দেশে রপ্তানির অনুমতি প্রত্যাহার করে নিয়েছিল নয়া দিল্লি। নতুন সরকার চাইছে ভারত সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিক।
তবে এত কিছুর মধ্যেও বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রীর সকলকে গুরুত্ব এবং সৌহার্দ্যপূর্ণ করার পূর্ণ তৎপরতা রয়েছে নয়া দিল্লির, এমনটাই দাবি বিদেশ মন্ত্রকের। নয় দিল্লির কর্তারা বলছেন অতীতের শেখ হাসিনা সরকারের সময়ে বিদেশের সম্পর্ক যে অনন্য উচ্চতায় উঠেছিল দ্রুত তা সে জায়গায় ফিরে যাবে এমনটি প্রত্যাশা করা ঠিক হবে না। তবে ভারত চেষ্টা চালিয়ে যাবে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করার।