তারেক রহমানের লন্ডনের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনে শিবলী ও মেহেদী ছিলেন অন্যতম সঙ্গী। লন্ডনে থাকাকালীন প্রথমে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরে কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন শিবলী ও মেহেদী। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার পর শিবলী এবং মাহদীও দেশে ফিরে আসেন।

আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ শিবলী এবং মাহদী আমিন
শেষ আপডেট: 5 April 2026 22:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন স্পষ্ট হতেই বোঝা গিয়েছিল তাঁর প্রেস সচিব হবেন আবু আব্দুল্লাহ এম ছালেহ শিবলী। এখন তিনি একইসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর অফিসের মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করবেন। এই একই অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবেন মাহদী আমিন। তিনি গোড়া থেকেই প্রধানমন্ত্রীর একজন উপদেষ্টার দায়িত্বে রয়েছেন।
তারেক রহমানের লন্ডনের দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবনে শিবলী ও মেহেদী ছিলেন অন্যতম সঙ্গী। লন্ডনে থাকাকালীন প্রথমে দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং পরে কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান পদে তারেক রহমানের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে ছিলেন শিবলী ও মেহেদী। গত বছর ২৫ ডিসেম্বর তারেক রহমান দেশে ফেরার পর শিবলী এবং মাহদীও দেশে ফিরে আসেন।

প্রশ্ন হল, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব এবং অতিরিক্ত প্রেস সচিব থাকা সত্ত্বেও কেন মুখপাত্র পদ তৈরি করা হল। বাংলাদেশে অতীতে সরকার প্রধানদের কারও অফিসেই আলাদা করে মুখপাত্র পদ ছিল না। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে দীর্ঘ সতেরো বছর লন্ডনে কাটিয়ে আসা তারেক রহমান ইউরোপের সরকার প্রধানদের মতো করে প্রশাসন চালাতে চাইছেন। তিনি নিজে মিডিয়াতে যত না বলবেন তুলনায় মুখপাত্রদের দিয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার কাজ চালাবেন বেশি। সেই কারণে এমন দুজনকে তিনি বেছে নিয়েছেন যাঁরা তাঁর দলীয় এবং ব্যক্তিগত বিষয় সম্পর্কে ওয়াকিবহাল। প্রধানমন্ত্রীর তরফে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি মিডিয়ার মাধ্যমে দেশবাসীর সামনে তুলে ধরার কাজটি করবেন মুখপাত্রেরা। এর পাশাপাশি অতিরিক্ত প্রেস সচিব প্রধানমন্ত্রীর সার্বক্ষণিক এবং রুটিন বিষয় সম্পর্কে মিডিয়াকে অবহিত করবেন। অনেকেই মনে করছেন সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রক্ষার লক্ষ্যেই তারেক রহমান মুখপাত্র পদ তৈরি করলেন। কারণ আগামী দিনে সরকারের সামনে বেশ কিছু চ্যালেঞ্জ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ইরান ও আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জ্বালানি সংকট এবং সেই সূত্রে অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতা সরকারের প্রতিশ্রুতি পালনে বড় ধরনের বাধা হয়ে উঠতে পারে। এই জাতীয় পরিস্থিতিতে সরকারের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন রাখতে মুখপাত্রদের বয়ান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে। দুজন ঘনিষ্ঠকে সেই দায়িত্ব দেওয়ার পেছনে আর কোনও প্রশাসনিক সমীকরণ আছে কিনা তা এখনও পর্যন্ত স্পষ্ট নয়।
বাংলাদেশ সরকারের একজন পদস্থ হামলার কথায় তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরকে পেশাদারিত্বের সঙ্গে পরিচালিত করতে চাইছেন। সেই সঙ্গে চাইছেন সরকারের যাবতীয় বিষয়ে জনসাধারণের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ স্থাপন। এরফলে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক বাদে বাকি মন্ত্রকগুলির কাজকর্মের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের মুখপাত্রেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবেন বলে মনে করা হচ্ছে। যেমনটি করতেন বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময় প্রধান উপদেষ্টা মোহাম্মদ ইউনুসের প্রধান প্রেস সচিব শফিকুল আলম। তিনি অবশ্য বিদেশ মন্ত্রক সংক্রান্ত বিষয়ে কখনও মুখ খুলতেন না।
শিবলী ও মাহেদীর নিয়োগ সংক্রান্ত সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘রুলস অব বিজনেস, ১৯৯৬’-এর রুল ২৮(৪) অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সংশ্লিষ্ট দাপ্তরিক তথ্য প্রেস, মিডিয়া বা অন্যান্য মাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে তারা মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
ছালেহ শিবলী দীর্ঘদিন সাংবাদিকতা করেছেন। তিনি ইংরেজি নিউজ এজেন্সি ইউএনবি, দৈনিক মানবজমিন, বাংলাবাজার পত্রিকা ও চ্যানেল আইসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষতার সঙ্গে সাংবাদিকতা করেন। বাংলাদেশের প্রথম সারির সাংবাদিকদের একজন তিনি। ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত বাংলাদেশে বিএনপি'র নেতৃত্বে ক্ষমতাসীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে কলকাতায় বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনে ফার্স্ট সেক্রেটারি (প্রেস) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গিয়েছেন শিবলী। ব্যক্তি তারেক রহমানের অত্যন্ত আস্থাভাজন ব্যক্তিদের মধ্যে শিবলী একজন।
অন্যদিকে, মাহদী আমিন নতুন সরকারের শুরু থেকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন। তাঁকে প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তিনি বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তখন নির্বাচন বিষয়ে দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
তিনি শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, যুব ও নারী ক্ষমতায়ন এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন ও রাষ্ট্রীয় সংস্কার বিষয়ে বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত ছিলেন। ২০১৪ সালে তিনি বিএনপির তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের উপদেষ্টা ছিলেন। পরবর্তীকালে দলের ফরেন অ্যাফেয়ার্স অ্যাডভাইজরি কমিটির সদস্য হিসেবেও কাজ করেন।