বগুড়া-৬ আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে সব ১৫০ কেন্দ্রে বিজয়ী হয়েছেন।

তারেক রহমান
শেষ আপডেট: 13 February 2026 00:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বগুড়া পৌরসভার ২১টি ওয়ার্ড ও সদর উপজেলা নিয়ে গঠিত বগুড়া–৬ আসনে বিপুল ব্যবধানে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman)। ১৫০টি কেন্দ্রের সব কটিতেই বিজয়ী হয়ে তিনি মোট ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় জোটের প্রার্থী ও জামায়াতের বগুড়া শহর শাখার আমির আবিদুর রহমান। তিনি পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট (Bangladesh Election)।
এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩ জন। এর মধ্যে ৭১ দশমিক ৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ১৯৯৬ থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত এই আসনে বিএনপির প্রয়াত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছিলেন। এদিকে গণভোটের ফলাফলেও একই আসনে মোট ২ লাখ ৯৫ হাজার ৭৮২ ভোট পড়েছে। এর মধ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোট পেয়েছে ২ লাখ ১৫ হাজার ৫৭৯ এবং ‘না’ ভোট পড়েছে ৮০ হাজার ২০৩।
তারেকের বাবা জিয়া উর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের সপ্তম রাষ্ট্রপতি, আর তাঁর মা খালেদা জিয়া ছিলেন দেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী। তারেকের পিতার আগে উর রহমান অবিভক্ত বাংলাদেশে পাকিস্তানি সেনার একজন তাবড় অফিসার ছিলেন।
ঢাকার বিএএফ শাহিন কলেজ থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর, ১৯৮৫-৮৬ শিক্ষাবর্ষে তিনি প্রথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। পরে তিনি বিভাগ পরিবর্তন করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে ভর্তি হন। তবে স্নাতকের দ্বিতীয় বর্ষে তার বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ হয় এবং তিনি টেক্সটাইল শিল্প ও জাহাজ চলাচল খাতে ব্যবসা শুরু করেন।
তারেকের রাজনৈতিক উত্থান ঘটে তার মা খালেদা জিয়ার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে। তবে ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দাপুটে জয়ে ক্ষমতায় ফেরার পর প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। সেই সময় তারেককে দুর্নীতি, আর্থিক জালিয়াতি সহ একাধিক অভিযোগে আদালতে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। তার বিরুদ্ধে মোট ৮৪টি মামলা ছিল। নিরাপত্তার কারণে তিনি এক সময় ইউরোপে চলে যান।
কয়েক বছর পর ২০২৫ সালের শেষ দিকে তিনি দীর্ঘ সময় পর আবার বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসেন। তবে তখনই তিনি হারান তাঁর মা খালেদা জিয়াকে, যিনি বহুদিন ধরে শয্যাশায়ী ছিলেন।