আওয়ামী লিগের তরফে বুধবার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মহান সংসদ কলঙ্কিত হল। ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হল। তথাকথিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গঠিত সংসদ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি কোনও ভ্রুক্ষেপ না করে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধের বিল পাশ করেছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

শেষ আপডেট: 8 April 2026 19:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে বুধবার বাংলাদেশ সংসদে আইন পাশ করিয়েছে তারেক রহমানের (Tarique Rahman) সরকার। এই ব্যাপারে মহম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus) সরকারের জারি করা অধ্যাদেশটি বুধবার থেকে আইন হয়ে গেল। নিষেধাজ্ঞা বহাল রইল আওয়ামী লিগের (Awami Leauge) উপর।
বিএনপি সরকারের এই সিদ্ধান্তের নিন্দা করে আওয়ামী লিগ দলগতভাবে বিবৃতি দিয়েছে। তবে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কোনও আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করেনি। যা নিয়ে দলের তৃণমূল স্তরের নেতা-কর্মীদের অনেকেই হতাশ। তাদের বক্তব্য, নতুন সরকারকে কিছুদিন ছাড় দেওয়ার কথা বলে আপাতত আন্দোলন না করার কথা বলা হয়েছিল দলের তরফে। অথচ সরকার দলের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি রাখতে আইন প্রণয়ন করলেও দল উচ্চবাচ্য করছে না। দ্য ওয়াল এর তরফে একাধিক প্রথমসারির নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাঁরা বলেন, আন্দোলন নিয়ে দলের সাম্প্রতিক অতীতে কোনও বৈঠকে কথা হয়নি। শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার প্রতিবাদে দেশব্যাপী হরতালের কর্মসূচি সফল করতে না পারার পর থেকে আন্দোলন নিয়ে শীর্ষ নেতত্ব উচ্চবাচ্য করছে না। তবে ওই নেতারা কেউ নিজেদের নাম প্রকাশ করতে চাননি। তবে এটা নতুন নয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসছে স্পষ্ট হতেই দলের প্রথমসারির নেতারা মুখ খোলা বন্ধ করে দিয়েছেন। তুলনায় মাঝারি স্তরের নেতারা বিএনপি ও তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছেন বেশি। সেটা আবার প্রবীণ নেতাদের অনেকেরই পছন্দ নয়। ফলে এমন সংকটময় মুহূর্তেও আওয়ামী লীগের অন্দরে নেতাদের গোষ্ঠীবাজির বিরাম নেই।
আওয়ামী লিগের তরফে বুধবার বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের মহান সংসদ কলঙ্কিত হল। ইতিহাসে ন্যাক্কারজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি হল। তথাকথিত নির্বাচনের মধ্যে দিয়ে গঠিত সংসদ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি কোনও ভ্রুক্ষেপ না করে বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ নিষিদ্ধের বিল পাশ করেছে। আমরা এই ন্যাক্কারজনক ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, মহান জাতীয় সংসদ একটি পবিত্রতম স্থান। দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির বাতাবরণ মেলে ধরে। সেই মহান সংসদকে ব্যবহার করে স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী শক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এহেন অপতৎপরতা। এই ধরনের সিদ্ধান্ত কেবল একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে নেওয়া পদক্ষেপ নয়; বরং এটি দেশের গণতান্ত্রিক চর্চা, সুষ্ঠু রাজনৈতিক ব্যবস্থা এবং জনগণের মৌলিক অধিকারের উপর সরাসরি আঘাত। ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংগ্রামের পথ বেয়ে গড়ে ওঠা গণমানুষের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ গণতন্ত্রের মূল চেতনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে এবং রাষ্ট্রকে একদলীয় বা স্বৈরতান্ত্রিক ধারার দিকে ঠেলে দেয়। তা ইতিহাসের প্রতি রক্তচক্ষু দেখানো। যা দেশের জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, একটি রাজনৈতিক দলের কার্যকারিতা নির্ভর করে জনগণের উপর। জনগণের প্রিয় সংগঠন হয়ে থাকলে পৃথিবীর কোনো শক্তি প্রয়োগ করে সেটা আটকানো যায় না। দমন-পীড়ন, নিষেধাজ্ঞা বা আইনের অপপ্রয়োগ কখনোই স্থায়ী সমাধান বয়ে আনতে পারে না; বরং এটি সমাজে অস্থিরতা ও বিভাজন সৃষ্টি করে। গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অন্তরায়।
আওয়ামী লিগ বলেছে, এই প্রেক্ষাপটে আমরা দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ, রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী সংগঠন এবং তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি—গণতান্ত্রিক অধিকার, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে শামিল হোন। জনগণ ও গণতন্ত্রের বিজয় অবশ্যম্ভাবী। ইতিহাস থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ও নিজেদের বিশ্বাসকে দৃঢ় আমরা আন্দোলন-সংগ্রাম অব্যাহত রাখব।