বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান ১০-১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে ৭ এপ্রিল ঢাকা ত্যাগ করবেন। পথিমধ্যে তিনি নয়া দিল্লিতে যাত্রা বিরতি করবেন। সেখানে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য বৈঠকে অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।

ছবি (AI)
শেষ আপডেট: 7 April 2026 19:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমানের ভারত সফরকে 'যাত্রা বিরতি' বলল সে দেশের বিদেশ মন্ত্রক। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি দিল্লি পৌঁছান। তাঁর সঙ্গে দিল্লি এসেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। আগামী পরশু বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাঁদের দিল্লিতে থাকার কথা।
তবে বাংলাদেশ সরকারের তরফে মঙ্গলবার খলিলুর ও হুমায়ুনের সফরকে দিল্লিতে যাত্রা বিরতি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, তাদের ঢাকা ত্যাগের প্রধান কারণ মরিশাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ভারত মহাসাগর সম্মেলনে যোগদান। প্রসঙ্গত দু'দেশের মধ্যে সম্পর্কের বার্তা দিতে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয় শংকর এবং বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রীর খলিলুর রহমান ও উপদেষ্টা হুমায়ুন কোভিদ নয়া দিল্লি থেকে একই বিমানে মরিশাস যাবেন।
বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বিদেশ মন্ত্রী খলিলুর রহমান ১০-১২ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে মরিশাসে অনুষ্ঠিতব্য ভারত মহাসাগর সম্মেলনে অংশগ্রহণ করার উদ্দেশ্যে ৭ এপ্রিল ঢাকা ত্যাগ করবেন। পথিমধ্যে তিনি নয়া দিল্লিতে যাত্রা বিরতি করবেন। সেখানে ভারতের বিদেশ মন্ত্রী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সৌজন্য বৈঠকে অংশগ্রহণ করার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের এই বক্তব্যে তথ্যগত ত্রুটি বা বিভ্রান্তি না হলেও কূটনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভারতের তরফে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে যে দ্রুততার সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু হয়েছে, তারেক রহমান তাল মিলিয়ে সমান গতিতে চলতে চাইছেন না। তিনি ঘরে-বাইরে ভারসাম্য রক্ষা করে চলতে চাইছেন। নয়াদিল্লির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে গিয়ে চিন, পাকিস্তান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বোঝাপড়ার বিষয়টি মাথায় রাখতে হচ্ছে তাঁকে। আবার দেশের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী, এনসিপির মতো বিরোধী দলগুলির ভারত বিরোধিতাকে বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে তাঁকে। ভারত বিরোধিতার চড়া সুর আছে বিএনপি'র অন্দরেও। সরকারিভাবে তার এই সফরকে শুভেচ্ছা সফর বলা হয়েছে। ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির প্রথম শুভেচ্ছা সফর শব্দটি ব্যবহার করেন। তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর শোক জ্ঞাপন করতে ঢাকা এসেছিলেন ভারতের বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের প্রতিনিধিত্ব করেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেই কারণেই ভারতে শুভেচ্ছা সফরের সিদ্ধান্ত হয়।
তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর বাংলাদেশ থেকে ভারত বিরোধী প্রচারে কিছুটা রাশ টানা হলেও নয়া দিল্লি তরফে বন্ধুত্বের যে জোরালো বার্তা দেওয়া হচ্ছে ঢাকা থেকে তেমন আন্তরিক প্রত্যুত্তর পাওয়া যাচ্ছে না বলে কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত। এখনই কোনও কোনও মহল থেকে বলার চেষ্টা হচ্ছে, বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে ভারত সরকারের তৎপরতাকে এক ধরনের ব্যাকুলতা মনে হচ্ছে। বিদেশ নীতি বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে নয়াদিল্লির তরফে নানা পদক্ষেপে এমন বার্তা জোরালো হচ্ছে যে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়াটা ভারতেরই দায়।
খলিলুর ও হুমায়ুনের সফর নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সব বৈঠকে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আস্থা ও স্বার্থের ভিত্তিতে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের স্থিতিশীলতা ও ধারাবাহিক উন্নয়নের ওপর গুরুত্বারোপ করা হবে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সহযোগিতার ক্ষেত্র সমূহকে ভবিষ্যতে আরও ফলপ্রসূ ও সুস্থায়ী পর্যায়ে উন্নীত করার লক্ষ্যে এ সফর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি রচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ বিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বিদেশ মন্ত্রীর সঙ্গে মরিশাস সম্মেলন ও ভারত সফরে যাবেন।