১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ এর শেখ হাসিনা (Seikh Hasina) সরকারের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থানকে এক বন্ধনীতে রেখে বিএনপির শীর্ষ নেতা বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 18 January 2026 15:57
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিএনপি বাংলাদেশে সরকার (Bangladesh Govt) গঠন করতে পারলে মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে জুলাই বিপ্লবীদের জন্য পৃথক বিভাগ গঠন করা হবে। দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) রবিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে এই কথা ঘোষণা করেছেন।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন (Election in Bangladesh) হওয়ার কথা। একাধিক সমীক্ষা রিপোর্ট অনুযায়ী স্বস্তিদায়ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গড়তে পারে বিএনপি। সে ক্ষেত্রে তারেক রহমানই হবেন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী। রবিবার তিনি ঢাকার অনুষ্ঠানে বলেন বিএনপি (BNP) সরকার গঠন করতে পারলে ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহত ব্যক্তিদের এবং তাদের পরিবারের দেখভালের জন্য মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে একটি বিশেষ বিভাগ খোলা হবে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচন (Election in Bangladesh) নিয়ে বিএনপি-সহ কোন দলই এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী ইস্তাহার প্রকাশ করেনি। ২১ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার। তার আগে সব দল ইস্তাহার প্রকাশ করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তারেকের রবিবারের প্রতিশ্রুতি তাতে স্থান পাবে।
রবিবার ঢাকার খামার বাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ২০২৪ এর জুলাই-অগস্ট গণঅভ্যুত্থানে শহিদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মিলিত হন বিএনপি চেয়ারম্যান। সেখানে তিনি বলেন ১৯৭১ সালে যারা দেশের স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছেন ও ত্যাগ স্বীকার করেছেন আর ২০২৪-এ যারা স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য লড়াই করেছেন তারা একই ধারার যোদ্ধা।
শহিদ ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে বিএনপি চেয়ারম্যান (BNP Chairman) বলেন, আপনারা যখন নিজেদের কষ্ট ব্যথা ও ত্যাগের কথা ব্যাকুল ভাবে তুলে ধরছিলেন তখন আমি এবং নজরুল ইসলাম খান সাহেব (বিএনপি'র স্থায়ী কমিটির সদস্য) বসে একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। বিএনপি আগে যখন রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে ছিল তখন ১৯৭১ সালের মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের পরিবারদের কল্যাণের জন্য মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেছিল। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, জনগণের সমর্থনে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদ পরিবার ও যোদ্ধাদের দেখভালের জন্য সেই মন্ত্রণালয়ের অধীনে একটি আলাদা বিভাগ তৈরি করা হবে।'
প্রসঙ্গত, গত সপ্তাহে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৪ এর জুলাই-অগস্ট মাসে শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের যাবতীয় ফৌজদারী অপরাধের অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দিতে অর্ডিন্যান্স জারি সিদ্ধান্ত নেয়। এক দু দিনের মধ্যে সেই অর্ডিন্যান্স জারি হয়ে যাবে। মনে করা হচ্ছে, সরকারের পাশাপাশি বিএনপিও জুলাই যোদ্ধাদের ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে দিল।
জুলাই শহিদ ও আহত এবং তাদের পরিবারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার একাধিক সহায়তা প্রকল্প গ্রহণ করেছে। ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাকাপাকিভাবে একটি বিভাগ খুলে জুলাই যোদ্ধাদের কল্যাণের কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী বিএনপি।
তবে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪ এর শেখ হাসিনা (Seikh Hasina) সরকারের বিরুদ্ধে গণ অভ্যুত্থানকে এক বন্ধনীতে রেখে বিএনপির শীর্ষ নেতা বিতর্ক উসকে দিয়েছেন বলে অনেকেই মনে করছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল বিএনপি এতদিন দলগতভাবে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর জুলাই গণ অভ্যুত্থানকে এক দৃষ্টিতে, এক বন্ধনীতে রাখা নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছিল। বিএনপি নেতারা বারে বারেই বলছিলেন মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানকে এক করে দেখার কোনও সুযোগ নেই।
রবিবার তারেক রহমানের কথায় ভিন্ন সুর ধরা পড়েছে। মুক্তিযোদ্ধা এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থানকারীদের একই ধারার যোদ্ধা বলে তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধকে খাটো করলেন কিনা তা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে নানা মহলে। বিশেষ করে মুক্তিযুদ্ধে একটি সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন তাঁর পিতা সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় তিনি বীর উত্তম উপাধি পান। রবিবার জিয়াউর রহমানের পুত্র তারেক ১৯৭১ এবং ২০২৪-কে এক বন্ধনীতে রাখায় অনেকেই বিস্মিত।
ঢাকার অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন ১৯৭১ সালে এই দেশের মানুষ স্বাধীনতা অর্জনের জন্য জীবন দিয়েছেন। আর ২০২৪ সালে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য মানুষ আবার রাজপথে নেমেছেন। স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছিল ১৯৭১-এ। সেই স্বাধীনতা রক্ষা হয়েছে ২০২৪-এ।
তারেক রহমান (Tarique Rahman) বলেন, 'শুধু জুলাই অভ্যুত্থানেই ১৪০০ বেশি মানুষ শহিদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় তিন হাজার জন। আহতদের মধ্যে কয়েকশো মানুষ আছেন যাদের এক বা দুই চোখ নষ্ট হয়ে গেছে। অনেকেই স্থায়ীভাবে পঙ্গু হয়েছেন। যেভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে সেটিকে এক কথায় গণহত্যা বলা যায়।'
ঢাকার ওই অনুষ্ঠানে ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে নিহত এবং আহত ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলার সময় তারেক রহমান আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। চশমা খুলে তাঁকে রুমাল দিয়ে চোখ মুছতে দেখা যায়।