হাসিনার আমলে খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা ও ‘বিষ প্রয়োগ’-এর অভিযোগ তুললেন মেডিকেল টিম প্রধান। এই অভিযোগের পর তারেক রহমান কি তদন্ত চাইবেন? জোর চর্চা রাজনৈতিক মহলে।

খালেদা জিয়া
শেষ আপডেট: 16 January 2026 22:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের সদ্যপ্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসার সময় উইলফুল নেগলিজেন্স বা ইচ্ছাকৃত অবহেলা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন তাঁর মেডিক্যাল বোর্ডের প্রধান এফ এম সিদ্দিকী। তাঁর বিস্ফোরক অভিযোগ, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার অবনতির কারণ হতে জেনেও একটি ওষুধ দিনের পর দিন তাকে খাওয়ানো হয়েছিল যা একপ্রকার পরিকল্পনা করে বিষ প্রয়োগের সমান।
শুক্রবার বিকালে ঢাকায় নাগরিক সমাজ আয়োজিত খালেদা জিয়ার স্মরণসভায় এই কথা বলেন ওই চিকিৎসক। গত ৩০ ডিসেম্বর ঢাকার বেসরকারি হাসপাতাল এভার কেয়ারে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন খালেদা জিয়া। ২০২১ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে ওই হাসপাতালে তাঁর চিকিৎসা চলছিল। প্রথম থেকেই তাঁর চিকিৎসায় গঠিত মেডিক্যাল টিমের প্রধান ছিলেন অধ্যাপক সিদ্দিকী।
স্মরণসভায় হাজির হয়ে তিনি ভাষনে বলেন খালেদা জিয়া ২০২১ এর ২৭ এপ্রিল করনায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় এবার কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। তার আগে তাঁর চিকিৎসা চলছিল ঢাকার বঙ্গবন্ধু মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
ওই চিকিৎসক জানান সাবেক প্রধানমন্ত্রীর আর্থ্রাইটিসের সমস্যা ছিল। এজন্য মেথোট্রেক্সেট নামের একটি ট্যাবলেট তাকে নিয়মিত খাওয়ানো হয়। ড. সিদ্দিকী বলেন, এভারকেয়ার হাসপাতালে আসার পর ওষুধ কি বন্ধ করে দেওয়া হয়। কারণ ওই ওষুধ থেকে লিভারের গুরুতর সমস্যা হয় এটা জানাই ছিল। তিনি বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লিভার টেস্ট না করে দিনের পর দিন ওই ওষুধটি খাওয়ানোর ফলে তার শরীরে নানান ধরনের জটিলতা তৈরি হয়েছিল। তার মধ্যে অন্যতম হল লিভারের সমস্যা।
মেডিক্যাল টিম প্রধানের কথায়, ওই ওষুধটি দিনের পর দিন খেলে যে লিভারের সমস্যা হতে পারে তার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। অথচ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর লিভার ফাংশন টেস্ট এবং ইউএসজি করে লিভারের পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়নি। এভারকেয়ার হাসপাতালের পরীক্ষা-নিরীক্ষায় ধরা পড়ে খালেদা জিয়ার লিভারের অবস্থা ভালো নয়।
প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য সরকারি মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসার সময় খালেদা জিয়া তার চিকিৎসক দলে ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের যুক্ত করতে চেয়ে আদালতে শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত নাগরিক সমাজের সরল সভায় খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক রহমান এবং তার স্ত্রী ও কন্যা সহ বিএনপি শীর্ষ নেতৃত্ব উপস্থিত ছিল। মেডিকেল টিমের চিকিৎসকের বিস্ফোরক অভিযোগ নিয়ে তারেক জিয়া বা বিএনপি নেতৃত্ব শুক্রবার রাত পর্যন্ত কোন মন্তব্য করেনি। এখন দেখার বাংলাদেশ সরকার স্বয়:প্রণোদিত হয়ে কোনও তদন্তের নির্দেশ দেয় কিনা।
ওই চিকিৎসক বলেন খালেদা জিয়াকে স্লো পয়জন দেওয়া হয়েছিল কিনা, অনেকে জানতে চান। আমার উত্তর হল, মেথোট্রেক্সেট হলো সেই ওষুধ যেটা তার ফ্যাটি লিভার অসুখ বাড়িয়েছিল এবং লিভার সিরোসিস হয়ে যায়। বলা চলে ওই ওষুধটি প্রয়োগ করা ছিল স্লো পয়জনের নামান্তর।
সরল সভায় ওই চিকিৎসক খালেদা জিয়ার সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত তদন্তের দাবি তুলেছেন। তিনি বলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের উচিত এই বিষয়ে সরকারের কাছে তদন্ত দাবি করা। তাঁর দাবি সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভুল চিকিৎসার নথিপত্র তাদের কাছে রয়েছে। তিনি বলেন কয়েকটি বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার। যেমন, ক. সরকার গঠিত মেডিক্যাল বোর্ডের সদস্য কারা ছিলেন এবং কোন দক্ষতার ভিত্তিতে তারা খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতার দায় তাদের ওপর বর্তায় কি না। খ. ভর্তি কালীন সময়ে কোন কোন চিকিৎসক তার চিকিৎসার সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চিকিৎসায় অবহেলার প্রমাণ পাওয়া যায় কিনা। গ. মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসা চলাকালে খালেদা জিয়া আইনজীবির মাধ্যমে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের অন্তর্ভুক্ত করতে চেয়েছিলেন। কেন তা হয়নি এবং তারা এতে বাধা দিয়েছিল সেটাও জানা দরকার।