ইতিমধ্যে তারেক জিয়ার জন্য ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান-২’এর অ্যাভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাংলোটি সাজানোর কাজ চলছে।

হাসিনা ও তারেক (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 7 July 2025 11:59
বিএনপি’র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক জিয়া (Tarek Ziam the acting chairperson of BNP) কবে ফিরবেন দেশে?
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিগত কয়েক মাস যাবত এই প্রশ্নের জবাবে জানাচ্ছেন, দ্রুতই দেশে ফিরে আসছেন তারেক জিয়া (Mr Zia will return soon) । কোনও কোনও নেতা একান্তে এমনও বলছেন, লন্ডনের বাড়িতে তারেক ও তাঁর স্ত্রী-কন্যা ব্যাগপত্তর গোছানো শুরু করেছেন। কোন কোন জিনিস বিমানে সঙ্গে করে আনবেন আর কী কী ক্যুরিয়র কোম্পানিকে দেওয়া হবে সেই তালিকাও চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। কিন্তু দিনক্ষণ নিয়ে মুখ খুলছেন না বিএনপি নেতারা।
জানা যাচ্ছে, খালেদা (Khaleda Zia, mother of Tarek and BNP Chairperson) পুত্রের দেশে প্রত্যাবর্তণের সময় নিয়ে দলে দুটি মত আছে। একটি মহলের মতে, নির্বাচন কমিশন ভোটের সম্ভাব্য সময় ঘোষণার পর নেতার দেশে ফেরা উচিত। কোনও কারণে নির্বাচন না হলে তখন অন্তর্বর্তী সরকারের মুখাপেক্ষি হয়ে রাজনীতি করতে হতে পারে তারেক রহমানকে। সেটা দলের জন্য ভাল বার্তা যাবে না। এই মতের অনুসারীরা দলীয় স্বার্থের পাশাপাশি তারেকের নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় রেখে এই কথা বলছেন।
আর এক দলের মত, ভোটের দিনক্ষণ নিয়ে কমিশন এবং সরকারের উপর চাপ তৈরি করতেই তারেক জিয়ার দেশে ফিরে আসা দরকার। নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে দেশের মাটিতে তাঁর হাজির থাকা সময়ের দাবি।
ইতিমধ্যে তারেক জিয়ার জন্য ঢাকার অভিজাত এলাকা গুলশান-২’এর অ্যাভিনিউ রোডের ১৯৬ নম্বর বাংলোটি সাজানোর কাজ চলছে। বাড়িটি খালেদা জিয়ার নামে বরাদ্দ। তাঁর স্বামী প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর সরকার খালেদা জিয়ার জন্য বাড়িটি বরাদ্দ করে।
যদিও বিএনপি সুপ্রিমো খালেদা বহু বছর ওই বাড়িতে থাকেন না। তিনি কাছেই ‘ফিরোজা’ নামে আর একটি বাংলোয় থাকেন। দলনেত্রীর জন্য বিএনপি মাসে সাড়ে তিন লাখ টাকায় বাড়িটি ভাড়া নিয়েছে। খালেদা জিয়ার জন্য দলের নিরাপত্তা বাহিনীও বরাদ্দ আছে।
একই সুবিধা তারেকের জন্য বরাদ্দ হবে। তাঁর জন্য ইতিমধ্যে বাংলাদেশ সরকার বুলেট প্রুফ গাড়ি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আলাদা করে বুলেটপ প্রুফ গাড়ি কিনছে বিএনপি-ও।
দলীয় সূত্রের খবর, তারেকের দেশে ফেরার ইস্যুতে দ্বিতীয় মতের অনুসারীরা সংখ্যায় ভারী। তাই শুধু নয়, জুলাই-অগস্ট আন্দোলনের বর্ষপূর্তির মধ্যে বিএনপি নেতাকে দেশে ফেরানোর নানা উদ্যোগ আয়োজন চলছে।
খালেদা জিয়ার পার্টির একাংশের মতে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনে বিএনপির কৃতিত্বের বার্তা জোরদার করতেই তারেক জিয়ার এই সময় দেশে ফেরা দরকার। দলীয় সূ্ত্রে জানা যাচ্ছে, ৫ অগস্ট তারেকের দেশের ফেরানোর পরিকল্পনা নিয়ে এগচ্ছে বিএনপি।
গত বছর ওইদিনে গণঅভ্যুত্থানের মুখে দেশে ছেড়েছিলেন শেখ হাসিনা। বিএনপি নেতাদের দাবি, তাঁদের টানা পনেরো বছরের লাগাতার আন্দোলনের ফলে হাসিনা সরকারের পতন সম্ভব হয়েছিল। ছাত্রদের এক-দেড় মাসের আন্দালনে তা ত্বরান্বিত হয়েছিল বটে। পতনের ভীত গড়েছিল বিএনপি-ই। তারেক জিয়ার প্রত্যাবর্তণের জন্য তাই ৫ অগস্ট আদর্শ দিন। প্রায় দেশ দশক লন্ডনে নির্বাসনে থাকা তারকের দেশে ফেরার জন্য ৫ অগস্টের প্রতীকি গুরুত্বও বিবেচনায় রাখছেন বিএনপি নেতারা।
জানা যাচ্ছে, বিএনপি এখনও এই ব্যাপারে সরকারিভাবে চূড়ান্ত ঘোষণা না করায় ছাত্রদের দল এনপিসিপি প্রকাশ্যে মন্তব্য করছে না। তবে ঘরোয়াভাবে তারা বিএনপি নেতৃত্বকে জানিয়েছে, ৫ অগস্ট তারেক জিয়া দেশে ফিরুন, চান না তারা। বিএনপি সিদ্ধান্তে অবিচল থাকলে তারাও সংঘাতের পথে হাঁটবেন।
৫ অগস্ট অন্তবর্তী সরকারও গণঅভ্যুত্থান দিবস উদযাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দিনটি সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। এনসিপি-ও বড় কর্মসূচি নিচ্ছে। এমন দিনে তারেক জিয়ার প্রত্যাবর্তণ নিয়ে বিএনপি মাতামাতি করুক তারা তা চান না।
বিএনপি-র পরিকল্পনা আঁচ করে এনসিপি একটি পুরনো ভিডিও সমাজমাধমে নতুন করে প্রচার করা শুরু করেছে। তাতে দেখা যাচ্ছে গত বছর জুলাই-অগস্ট আন্দোলনের সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগির দেশবাসীর উদ্দেশে ছাত্রদের আন্দোলন সম্পর্কে বলছেন, ‘ওখানে কেউ যাবেন না।’
বস্তুত, একটা সময় পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বকে কোটা বিরোধী আন্দোলনে ময়দানে দেখা যায়নি। যদিও ব্যতিক্রমী ভূমিকায় দেখা যায় দলের নেত্রী ব্যরিস্টার রুমিন ফারহানা-সহ বেশ কয়েকজন নেতাকে। তাঁরা ছাত্রদের সভায় ভাষণ দেন। তার জেরে রুমিনের ঢাকার বাড়িতে মাঝরাতে আওয়ামী সমর্থকেরা হামলা করে। কয়েকশো সমর্থক মাঝরাতে তাঁর আবাসন ঘিরে ফেলে তাঁকে বেরিয়ে আসতে বলে।
সেই জুলাই-অগস্ট আন্দোলনের বর্ষপূর্তিতে তারেক জিয়ার প্রত্যাবর্তনকে জাতীয় ইভেন্ট করার পরিকল্পনা নিয়ে এগচ্ছে বিএনপি, যা এনসিপি নেতৃত্বের পছন্দ নয়। বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যেই বলছেন, তারেক জিয়ার বিমান ঢাকায় অবতরণের মুহূর্তে গোটা দেশ তাঁকে গর্জন করে স্বাগত জানাবে। ঢাকার সব পথে মানুষ সমবেত হবেন। প্রশাসনের সঙ্গে এ নিয়ে তাদের আলোচনা চলছে। বিএনপি নেতৃত্ব এখনও তারেকের দেশে ফেরার দিন চূড়ান্ত না করায় সরকারিভাবে প্রশাসনও তাদের মতামত জানায়নি। তবে জুলাইয়ের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে অগস্টের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে বিএনপি নেতা দেশে ফিরুন চাইছে না প্রশাসনও।