বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালি খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এর খবর হাইকমিশনের এক প্রতিনিধি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের খোঁজ খবর করেছেন। কিন্তু দেশে ফেরানোর বিষয়ে এখনও কোন অগ্রগতি নেই।

প্রতীকি ছবি।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 18:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের জেলে আটক বীরভূমের সোনালি খাতুন (Sonali Khatun) এবং তাঁর সঙ্গী সাথীদের ভারতীয় হিসেবে চিহ্নিত করেছে বাংলাদেশের আদালত (Bangladesh Court)। এই ব্যাপারে সে দেশের কোর্ট সোনালিদের আধার কার্ড এবং অন্যান্য ভারতীয় নথিপত্র যাচাই করে এই সিদ্ধান্তে উপনীত হয়। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের আদালত ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছে সোনালিদের নিরাপদে ভারতে ফেরানোর ব্যবস্থা করতে। অন্যদিকে, কলকাতা হাইকোর্টও (Calcutta High Court) তাদের চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে ভারত সরকারকে নির্দেশ দিয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে আজ শুক্রবার। কিন্তু সোনালিদের ফেরানো হয়নি। তাঁরা বাংলাদেশের জেলে বন্দি রয়েছেন। এই তথ্য জানিয়েছেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল ইসলাম শুক্রবার বলেন, রাজ্য সরকার এবং পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে সোনালি খাতুনদের দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য। সামিরুল রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক কল্যাণ পর্ষদের চেয়ারম্যান। এই প্রসঙ্গে রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, প্রথমে বাংলা-বিরোধী জমিদাররা বাংলার মানুষদের বাংলাদেশি বলে অপমান করেছিল, আর পরে তারা ছয়জনকে — যার মধ্যে গর্ভবতী সোনালি খাতুনও ছিলেন — বাংলাদেশে নির্বাসিত করে দেয়। এখন সেই বাংলা-বিরোধীরা আদালতের নির্দেশ মানতেও অস্বীকার করছে, যাতে সোনালি খাতুন ও অন্যদের ভারতে ফিরিয়ে আনা যায়।
শুক্রবার সকালে সমাজ মাধ্যমে তিনি জানিয়েছেন, যাদের বিদেশি প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছিল বিজেপি, তাঁদেরই ভারতীয় হিসেবে প্রমাণ করে বাংলাদেশ। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের আদালত তার রায়ে শুধু তাঁদের ভারতীয় ঘোষণা করেনি, বরং আধার কার্ডের নম্বর ও ঠিকানা উল্লেখ করে তা প্রমাণও করেছে। আদালতের নির্দেশের কপি পাঠানো হয় ঢাকায় অবস্থিত ভারতীয় হাই কমিশনে। বলা হয়েছে — বীরভূমের অন্তঃসত্ত্বা মহিলা সোনালি খাতুনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ভারতে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করতে হবে। এর খবর হাইকমিশনের এক প্রতিনিধি এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহলের খোঁজ খবর করেছেন। কিন্তু দেশে ফেরানোর বিষয়ে এখনও কোন অগ্রগতি নেই।
সামিরুল এর আগে বলেছেন, এই রায় আবারও প্রমাণ করল, কীভাবে বাংলা-বিরোধী বিজেপি গরিব ও অসহায় মানুষদের শুধু বাংলায় কথা বলার অপরাধে 'বাংলাদেশি’ সাজিয়ে তাড়িয়ে দেয়। আমাদের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং আমাদের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সবসময় এই মানুষগুলোর পাশে থেকেছেন, লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জুগিয়েছেন। এর আগে কলকাতা হাই কোর্টও নির্দেশ দিয়েছিল —সোনালি খাতুনসহ সকলকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরত আনতে হবে।
ইতিমধ্যে আরও একটি বিষয় নিয়ে চিন্তিত সোনালির পরিবার এবং সংশ্লিষ্ট সকলের। তা হল, ভারতে ফেরার আগেই যদি বাংলাদেশেই সোনালির সন্তান জন্ম নেয় সেক্ষেত্রে সেই সন্তানের নাগরিকত্ব নিয়ে আবার জটিলতা দেখা দেবে। নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী সেই সন্তান বাংলাদেশের নাগরিক বলে গণ্য হবে। যদিও সোনালী ভারতীয় বলে চিহ্নিত হওয়ায় এই ক্ষেত্রে নাগরিকত্ব সংক্রান্ত বিষয়টি বেশি দূর না গড়ালেও এই নিয়ে আইনি জটিলতা মেটাতেও বেশকিছু সময় চলে যাবে। সেই কারণে সংশ্লিষ্ট মহল চাইছে যত দ্রুত সম্ভব তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা।
প্রসঙ্গত, দিল্লিতে কাজ করতে যাওয়া পরিযায়ী শ্রমিক সোনালি ও অন্যান্যদের জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে আদালতে ভারত সরকার ও বিএসএফের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনী তাদের আটক করে অনুপ্রবেশকারী হিসেবে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে। আইনি প্রক্রিয়ায় তারা এখন বাংলাদেশের জেলে আটক।