প্রসঙ্গত শেখ হাসিনা এবং তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ও দলের সাবেক সংসদ সদস্যদের অনেকেই দেশে-বিদেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে খুন, গুম খুন, অপহরণ এবং দুর্নীতির গুচ্ছ অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।

শেখ হাসিনা-মহম্মদ ইউনুস।
শেষ আপডেট: 24 October 2025 12:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পলাতক আসামিরা বাংলাদেশে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এই মর্মে জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের সংশোধন করতে অর্ডিন্যান্স জারি করবে মোঃ ইউনূস এর অন্তর্বর্তী সরকার।
বলাই বাহুল্য, সরকারের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো শেখ হাসিনা সহ আওয়ামী লিগের আত্মগোপনকারী নেতাদের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে না দেওয়া। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর নথিতে বলা হয়েছে, আদালত তলব করার পরও যে আসামিরা হাজির হননি তাদেরকেই পলাতক হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রসঙ্গত শেখ হাসিনা এবং তাঁর মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য ও দলের সাবেক সংসদ সদস্যদের অনেকেই দেশে-বিদেশে আত্মগোপনে রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে খুন, গুম খুন, অপহরণ এবং দুর্নীতির গুচ্ছ অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে।
সাবেক শাসকদলের একদল নেতা ও সাংসদ ইতিমধ্যে কারাগারে আছেন। তাঁরা চাইলে কারাগার থেকে নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারেন। কিন্তু আদালতে চোখে নিরুদ্দেশ বা পলাতক এমন আসামিরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। আওয়ামী লিগ সূত্রে খবর, ভোটে প্রার্থী হওয়ার যোগ্যতা আছে এমন প্রায় হাজার দুয়েক নেতা দেশের বাইরে আছেন। এছাড়া দেশের মধ্যেই আত্মগোপন করে আছেন লক্ষাধিক নেতা কর্মী সমর্থক। আওয়ামী লিগ তাদের 'পলাতক' বলতে রাজি নয়। দলের বক্তব্য তাঁরা প্রাণ বাঁচাতে কৌশলগত কারণে আত্মগোপনে আছেন। প্রাণ রক্ষা প্রত্যেক নাগরিকের সর্বোচ্চ মৌলিক অধিকার। ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মামলা চলমান। সেই মামলায় তার হয়ে সওয়াল করার জন্য সরকার নিয়োজিত আইনজীবী আদালতে বলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মোটেই দেশ থেকে পালিয়ে যাননি। তিনি এক বিশেষ পরিস্থিতিতে বিমান বাহিনীর বিমানে অন্য দেশে চলে গিয়েছেন। এটাকে পালানো বলে না। স্রেফ প্রাণ রক্ষার জন্য কৌশলগত কারণে দেশ ছেড়েছেন শেখ হাসিনা।
পলাতকদের ভোটে প্রার্থী হতে না দেওয়ার এই অর্ডিন্যান্স আওয়ামী লিগের জন্য যেমন একদিক থেকে খারাপ সিদ্ধান্ত তেমনি এর ফলে সাবেক শাসক দলের কিছু সুবিধা হবে বলে ওয়াকিবহাল মনে করছে। এই অর্ডিন্যান্সের ফলে আওয়ামী লিগের কোন নেতা চাইলে দলবদল করে অন্য কোন পার্টির হয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না। এমনকী তারা নির্দল বা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েও নির্বাচনে লড়াই করতে পারবেন না। এর ফলে দলের বিভাজন আটকানো যাবে, দল অটুট থাকবে, মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
এই অর্ডিন্যান্স জারির পর আরও একটি সম্ভাবনা প্রবল হয়েছে। কোনও কোনও মহল মনে করছে, আন্তর্জাতিক চাপের মুখে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাখার নির্দেশিকাটি অন্তর্বর্তী সরকার প্রত্যাহার করে নিতে পারে। তাতে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হবে সরকারের তরফে। একদিকে নির্বাচনে আওয়ামী লিগকে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যদিকে দলের প্রথম ও মাঝারি সারির নেতাদের ভোটে অংশগ্রহণ আটকানো যাবে।
সম্প্রতি নিউইয়র্ক সফরে প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস এক সাক্ষাৎকারে আভাস দিয়েছিলেন আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। তিনি বলেছিলেন এটি একটি ভাবনা। পরে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ঘোষণা করেন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনা নেই। এরপর আন্তর্জাতিক ছয়টি মানবাধিকার সংগঠন ইউনুসকে চিঠি লিখে আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জি জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় অন্তর্বর্তী সরকারকে সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন আওয়ামী লিগকে নির্বাচনে অংশ নিতে না দিলে তা হবে একটি ভাঁওতাবাজির ভোট। সেই নির্বাচন দেশে-বিদেশে স্বীকৃত হবে না। অবিলম্বে আওয়ামী লীগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জয়। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকার যে অর্ডিন্যান্স জারি করতে চলেছে তাতে আওয়ামী লিগের উপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হলেও দলের প্রথম সারির নেতা-নেত্রীরা প্রায় কেউই প্রার্থী হতে পারবেন না। আত্মগোপনে থাকা ৯০ ভাগ নেতার বিরুদ্ধেই খুনসহ গুরুতর অপরাধে যুক্ত থাকার মামলা রয়েছে। আদালত বারে বারে তাদের হাজির হতে বলে হুলিয়া জারি করলেও তারা কোর্টে যাননি। এমনকী আইনজীবী মারফতও নিজেদের বক্তব্য আদালতে পেশ করেননি। যদিও আওয়ামী লীগের অভিযোগ তাদের হয়ে কোন আইনজীবীকে আদালতে মামলা লড়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। আইনজীবীরাও নিরাপদ নন। তাঁদেরও মারধর করা হচ্ছে। বহু আইনজীবীকে কারাগারে আটকে রেখেছে ইউনুস সরকার।