
শেষ আপডেট: 30 March 2025 19:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) সোমবার ইদ (Eid) পালিত হবে। রবিবার সন্ধ্যায় ঢাকায় (Dhaka) দে্শটির জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির বৈঠক শেষে জানানো হয় ইদের চাঁদ দেখা গিয়েছে।
জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির ঘোষণার পর পরই দেশবাসীকে ইদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) । রবিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লিগ (Aeami league) তাঁর বক্তব্য প্রচার করেছে। তাতে শেখ হাসিনাকে ‘বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী’ (Prime Minister of Bangladesh) বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর মতোই হাসিনার শুভেচ্ছা বার্তাকে তাঁর দল দেশবাসীর উদ্দেশে বাণী বলে উল্লেখ করেছে। আওয়ামী লিগের দলীয় কর্মসূচিতে বরাবর হাসিনাকে প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করা হচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর হাসিনা তাঁকে শুভেচ্ছা জানান। শুভেচ্ছা বার্তায় নিজেকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এই ব্যাপারে আওয়ামী লিগের বক্তব্য, শেখ হাসিনাকে জোর করে ক্ষমতাচ্যুত করা হয় বিরাট এক ষড়যন্ত্রের অংশ হিসাবে। সেটা বুঝতে পেরেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করেননি। নিয়ম হল রাষ্ট্রপতির কাছে গিয়ে তাঁর সামনে পদত্যাগপত্রে সই করতে হবে। পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব না নেওয়া পর্যন্ত পদত্যাগী প্রধানমন্ত্রীর কাজ চালিয়ে যাওয়ার কথা। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে তেমন কিছু ঘটেনি। মহম্মদ ইউনুস গত বছর ৮ অগাস্ট প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নেন। হাসিনা দেশ ছাড়েন ৫ অগাস্ট। মাঝে তিনদিন দেশে কোনও সরকার ছিল না। আওয়ামী লিগের দাবি সংবিধান এবং আইন মোতাবেক হাসিনাই এখনও প্রধানমন্ত্রী।
দেশবাসীকে ইদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আর্থিক মন্দা নিয়ে উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন হাসিনা।
তিনি বলেছেন, ইদ আমাদের সবচেয়ে বড় উৎসব। পবিত্র রমজান মাসে সিয়াম সাধনার পর ইদের আনন্দে মুখরিত হয় সমগ্র মুসলিম বিশ্ব। আত্মশুদ্ধির মাস শেষে সমস্ত ভেদাভেদ ভুলে ইদের আনন্দে মেতে ওঠে মুসলমানরা। বাংলাদেশে এই উৎসবে শরিক হয় সব ধর্মের, বর্ণের ও জাতিসত্ত্বার মানুষেরা। বাংলাদেশে এই উৎসব এই অঞ্চলের শত বছরের ধর্মীয় সম্প্রীতির ঐতিহ্য বহন করছে। আনন্দের এইদিনে আমি প্রাণভরে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করি আমার দেশের জন্য, দেশের অভাগা মানুষের জন্য।
হাসিনা এরপর সরব হয়েছেন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে। তিনি বলেছেন, এই দেশের গরিব দুঃখী জনগণ যখনই দু’বেলা পেট পুরে খেয়ে আরেকটু ভালভাবে বাঁচবার চেষ্টা করে তখনই দেশের শত্রুরা, স্বাধীন বাংলাদেশের শত্রুরা ষড়যন্ত্রের ছক আঁটতে বসে। বাংলাদেশ বিশ্বের বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ালে যাদের মাথা হেট হয়ে যায় তারাই ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে। বাংলাদেশের ৫৪ বছরের ইতিহাসে বারবার তার পুনরাবৃত্তি ঘটছে। এবার তারা মেতেছে ধ্বংসোল্লাসে। স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে নিশ্চিহ্ন করার প্রকল্প তারা হাতে নিয়েছে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে সেই আশঙ্কারই পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে। ঈদের উৎসবে মানুষের ঐক্যে, মানুষের জাগরণে সেই শঙ্কাকে গুঁড়িয়ে দিতে হবে। মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে এই ভ্রাতৃত্বপূর্ণ, এই সম্প্রীতিময় সমাজ ও দেশ রক্ষায়।
আওয়ামী লিগ সভানেত্রী বলেছেন, আমি জানি এই ইদের আনন্দে সবার শরিক হওয়া হবে না। বিগত প্রায় আট মাসে বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। দখলদারদের আগ্রাসন থেকে রক্ষা পায়নি মাজার, খানকা ও দরগাহ শরিফও। বাংলায় ইসলাম প্রতিষ্ঠার আটশো বছরে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতির সঙ্গে সঙ্গে অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে গেছে। বন্ধ হয়ে যাচ্ছে পোশাকশিল্প সহ উৎপাদনমুখী কারখানা। ইদের এই সময়ে প্রাপ্য বেতনের দাবি জানানোর পরিণতিতে নির্যাতনের শিকার হয়েছেন শ্রমিকরা।