আউয়ালের ঘোষণায় বিএনপির সবস্তরেই উৎসাহ-উন্মাদনা বেড়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি সরকার গড়ার সুযোগ পায় তখন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, খালেদা নাকি তারেক জিয়া?

তারেক এবং খালেদা জিয়া
শেষ আপডেট: 31 July 2025 10:26
বয়স ও অসুস্থতার কারণে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া (Khalde Zia, BNP Vice Chairman and three times former Prime Minister of Bangladesh) আর ভোট-রাজনীতিতে থাকবেন না বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দলের অন্যতম ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু (Abdul Awal Mintu) ঘোষণা করেছেন শরীর ভাল থাকলে বেগম জিয়া অবশ্যই নির্বাচনে অংশ নেবেন।
খালেদা দীর্ঘদিন ফেনি-১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। যেমন হাসিনার কেন্দ্র গোপালগঞ্জ। আবদুল আউয়াল মিন্টু শুধু বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নন, খালেদা ও তারেক জিয়ার অত্যন্ত কাছের মানুষ (Awal, a BNP leader very close to Khaleda And Tarek)। খালেদার ফেনিতেই সাংবাদিকদের কাছে বিএনপি-র এই শীর্ষ নেতা জানান, দলীয় সুপ্রিমো আগামী নির্বাচনে অংশ নেবেন এবং প্রার্থী হবেন ফেনি-১ আসন থেকেই।
আউয়ালের ঘোষণায় বিএনপির সবস্তরেই উৎসাহ-উন্মাদনা বেড়েছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠেছে, আগামী সংসদ নির্বাচনে বিএনপি যদি সরকার গড়ার সুযোগ পায় তখন প্রধানমন্ত্রী কে হবেন, খালেদা নাকি তারেক জিয়া?
মা ও ছেলের মধ্যে কে প্রধানমন্ত্রী হবেন, এই প্রশ্নের জবাবে বিএনপি-র দু’জন ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলেছে দ্য ওয়াল। এই প্রশ্নের জবাবে দু’জনেই কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীর প্রসঙ্গ টেনেছেন। ইঙ্গিত করেছেন, ছেলেই প্রধানমন্ত্রী হবেন। মা হবেন সেই সরকারের উপদেষ্টা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেউ কেউ শ্রীলঙ্কা মডেলের কথাও বলছেন। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী তারেক, রাষ্ট্রপতি হবেন খালেদা।
দলের মধ্যে অনেক আগেই বোধাপড়া তৈরি হয়ে আছে দলের লন্ডন প্রবাসী কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক জিয়াই হবেন নির্বাচনে দলের মুখ এবং প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দেশে প্রত্যাবর্তর্ণের অপেক্ষায় রয়েছে নেতা-কর্মীরা। খালেদা জিয়ার ভোটে প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে বিএনপি নেতার বক্তব্যের পর স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে তাহলে কি নির্বাসিত তারেক জিয়ার দেশে ফেরা নিয়ে সংশয় আছে? সে কারণেই কি খালেদা হাল ধরবেন?

লন্ডনে খালেদা যখন চিকিৎসাধীন ছিলেন
অম্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী ঘোষণা করেছেন তারেক জিয়ার দেশে ফিরতে কোনও বাধা নেই। তিনি সব মামলা থেকে মুক্ত। তারপরও বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক কেন দেশে ফেরার দিনক্ষণ ঘোষণা করছেন না তা নিয়ে নানা জল্পনা শুরু হয়েছে।
একাধিক সূ্ত্র বলছে, সব বাধা মুক্ত হলেও মার্কিন গেরো এখনও আলগা হয়নি। বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে ঢাকার মার্কিন রাষ্ট্রদূত দলের এই দু-নম্বর নেতা সম্পর্কে নেতিবাচক রিপোর্ট পাঠিয়েছিলেন। তাঁকে মার্কিন ভিসা না দিতেও সুপারিশ করেন তিনি। বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের উপর আমেরিকার প্রভাব রয়েছে। মনে করা হচ্ছে, তারেকের দেশে ফেরা নিয়ে মার্কিন আপত্তি বহাল আছে।
যদিও বিএনপির একাধিক নেতা বলেছেন, নির্বাচনের দিন ঘোষণার পর পরই তারেক জিয়া লন্ডন থেকে ঢাকার বিমানে উঠবেন। তাঁর দেশে ফেরা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। তিনি গোছগাছ শুরু করে দিয়েছেন।
রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, খালেদাকে প্রার্থী করা প্রতীকি সিদ্ধান্ত হতে পারে বিএনপি। হয়তো শুরু তারেকের ভরসায় নির্বাচনে যেতে চাইছে না দল। খালেদা প্রার্থী হলে বিএনপি শুরু ক্ষমতা দখল করবে তাই-ই নয়, বিপুল সংখ্যায় আসন পেয়ে সংসদে যাবে। আসলে বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেজা, হাসিনার মতো নেত্রীদের প্রার্থী হয়ে প্রচারে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। তারা প্রার্থী পদ জমা করার দিনই ফলাফল নির্ধারণ হয়ে যায়। তাই ৭৯ বছর বয়সি অসুস্থ খালেদার প্রার্থী হতে কোনও বাধা নেই।
খালেদা ও তারেক দু’জনেই নির্বাচনে প্রার্থী হলে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী কে হবেন, সেই প্রশ্ন ঘোরাফেরা শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। এই ব্যাপারে দ্য ওয়াল-কে টেলিফোনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, দলের সংকটে কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক সাহেব যে ভূমিকা পালন করেছেন তাতে দেশের হাল ধরার দায়িত্ব তাঁকেই দেওয়া উচিত।

বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল আউয়াল মিন্টু
সেক্ষেত্রে তাঁর মা তথা দলনেত্রী খালেদার ভূমিকা কী হবে? এই প্রশ্নের জবাবে আউয়াল ভারতে সনিয়া গান্ধীর ভূমিকার প্রসঙ্গ টানেন। আউয়াল বলেন, কংগ্রেস নেতা সনিয়া দু’বার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ পেয়েও প্রধানমন্ত্রী হননি। তাতে কি তাঁর রাজনৈতিক ওজন ও গুরুত্ব কমেছিল? বরং বেড়েছিল। খালেদা জিয়াও সেই ভাবে সরকারকে বাইরে থেকে পরামর্শ দিতে পারেন।
প্রসঙ্গত, ২০০৪ ও ২০০৯ সালে ভারতে লোকসভা ভোটে কংগ্রেস সরকার গড়ার সুযোগ পেলে সনিয়া গান্ধীকেই দল প্রধানমন্ত্রী পদের জন্য নির্বাচিত করলেও তিনি দায়িত্ব নেননি। সনিয়া তখন কংগ্রেসের সভাপতি। তিনি মনমোহন সিংহকে প্রধানমন্ত্রী করেন। পরে মনমোহন সরকার জাতীয় উন্নয়ন পর্যদ নামে নতুন একটি প্রতিষ্ঠান চালু করে সরকারকে পরামর্শ দিতে। সেই কাউন্সিলের চেয়ারপারসন ছিলেন সনিয়া। ওই কাউন্সিলের সুপারিশ মেনে খাদ্য সুরক্ষা, তথ্যের অধিকার, শিক্ষার অধিকার সংক্রান্ত আইন তৈরি করে মনমোহন সরকার।
বিএনপির আর এক ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায়চৌধুরী দলনেত্রী খালেদার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়া নিয়ে আউয়ালের বক্তব্য সম্পর্কে আলাদা করে কোনও প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে তিনিও মনে করেন, শরীর-স্বাস্থ্য ভাল থাকলে খালেদা জিয়ার ভোটে প্রার্থী হওয়া উচিত। দুই ভাইস চেয়ারম্যানই বলেন, খালেদা জিয়াকে নিয়ে দলে তুমুল উৎসাহ-উন্মাদনা আছে। তিনি প্রার্থী হলে দারুন প্রতিক্রিয়া হবে।

বিএনপি'র ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী
নিতাই রায় চৌধুরীও বলেন, সনিয়া গান্ধী কিন্তু প্রধানমন্ত্রী না হলেও ভারতের রাজনীতিতে প্রাসঙ্গিক থেকেছেন। কংগ্রেস ক্ষমতায় থাকাকালে তিনিই ছিলেন দলের মুখ। আবার সরকারকেও নানাভাবে পরামর্শ দিয়েছেন। বেগম জিয়া তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। তিনি বাংলাদেশকে হাতের তালুর মতো চেনেন।