অভিষেকের অভিযোগ, SIR—Silent Invisible Rigging নামক এক ভয়ঙ্কর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, অথচ ট্র্যাক্টর ও কুকুরের নামে দেওয়া হচ্ছে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট!

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
শেষ আপডেট: 30 July 2025 23:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: এসআইআর (SIR) প্রসঙ্গে এবার বিজেপি (BJP) এবং নির্বাচন কমিশনকে (Election Commission) এক বন্ধনীতে রেখে আক্রমণের সুর আরও চড়ালেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee )।
বিজেপির বক্তব্য, বাংলার (West Bengal) ভোটার লিস্টে দেড় থেকে দুকোটি ভুয়ো ভোটারের নাম ঢুকিয়েছে তৃণমূল। এ প্রসঙ্গে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, “বিজেপি নেতারা বলছে বাংলায় ২ কোটি নাম বাদ যাবে। এখনও তো SIR শুরুই হয়নি! কীসের ভিত্তিতে বিজেপি এই মিথ্যাচার করছে? তবু নির্বাচন কমিশন চুপ করে রয়েছে। তবে এটা বলব, ওরা দুটো নাম বাদ দিয়ে দেখাক, বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দেবে কীভাবে জবাব দিতে হয়।”
অভিষেকের অভিযোগ, SIR—Silent Invisible Rigging নামক এক ভয়ঙ্কর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হচ্ছে, অথচ ট্র্যাক্টর ও কুকুরের নামে দেওয়া হচ্ছে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট! কটাক্ষের সুরে অভিষেক এও বলেন, “মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না, অথচ কুকুর ও ট্র্যাক্টরের নামে রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট দিয়ে কমিশন সেগুলি গ্রহণ করছে! বাবার নাম লেখা ‘কুত্তা বাবু’, মায়ের নাম ‘কুত্তিয়া দেবী’! এখন প্রশ্ন, এই কুকুরটা কি বাংলাদেশ থেকে এসেছে?”
তৃণমূল নেতা দাবি করেন, “এই SIR প্রক্রিয়া নির্বাচনী লড়াই নয়, গণতন্ত্র কেড়ে নেওয়ার চক্রান্ত। কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। বিজেপিকে জেতাতে নির্বাচন কমিশন এভাবে চুপিসারে ভোট লুটের প্রক্রিয়া চালু করেছে। এটা একপ্রকার এনআরসি চালুর চেষ্টা।”
হুঁশিয়ারির সুরে অভিষেক এও বলেন, “বিহারে যা হয়েছে, বাংলায় সেই চেষ্টা করলে ফল ভুগতে হবে। বাংলার মাটি কেউ ভোটাধিকার কেড়ে নিতে দেবে না। প্রয়োজনে দিল্লির রাস্তায় গণআন্দোলন নামবে।”
তাঁর অভিযোগ, অমিত শাহ নিজের কো-অপারেটিভ সেক্রেটারি জ্ঞানেশ কুমারকে নির্বাচন কমিশনের মাথায় বসিয়েছেন, যাতে পিছনের দরজা দিয়ে পুরো পরিকল্পনা চালানো যায়।
টেনে এনেছেন সীমান্ত অনুপ্রবেশের প্রসঙ্গও। এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করে অভিষেক বলেন, “জঙ্গি ঢুকছে, গরু পাচার হচ্ছে, বিএসএফ কি তৃণমূল কংগ্রেসের অধীনে? অনুপ্রবেশ হলে দায় অমিত শাহর, ওঁর ইস্তফা দেওয়া উচিত।”
কেন্দ্রীয় সরকারকে নিশানা করে অভিষেক এও বলেন, “২০১৪-তে যারা বলত ‘রিমোট কন্ট্রোল সরকার’, আজ তারা নিজেরাই আমেরিকার প্রেসিডেন্টের কথায় দেশ চালাচ্ছে। ট্রাম্প বলছেন তিনিই যুদ্ধ থামিয়েছেন, আর মোদী কিছু বলছেন না!”