যে কোনও দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা পরামর্শ বা গাইডলাইন দিয়ে থাকে।

শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 5 June 2025 12:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'আওয়ামী লিগকে (Awami League) অংশ নিতে না দিলেও নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক (participatory) বলে ধরা যেতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশে রাষ্ট্রসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি (Resident representative of United Nations to Bangladesh) গোয়েন লুইস (Gowyn Lewis)। বুধবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে তাঁর এমন মন্তব্য বিস্ময় ও বিরক্তির কারণ হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অবাক সে দেশের মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক অধিকার নিয়ে কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলি। তারা মনে করছেন, রাষ্ট্রসংঘের (United Nations) মতো একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান যাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত গণতন্ত্রের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করা সেই সংস্থার কোনও নেতৃস্থানীয় ব্যক্তির এমন মন্তব্য অনাকাঙ্ক্ষিত।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করে গত ১০ বিজ্ঞপ্তি জারি করে। ওই দিনই বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সরকারি নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার করে আওয়ামী লিগের নিবন্ধন বাতিল করে দেয়। ফলে মুক্তিযুদ্ধের সংঘঠক দলটির ভোটে অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই। রাষ্ট্রসংঘের দায়িত্বশীল প্রতিনিধি হিসাবে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ না করে তিনি আওয়ামী লিগকে ছাড়া নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার বলেছেন। তাঁর কথায়, রাষ্ট্রসংঘ মনে করে জনগণের অংশগ্রহণই আসল। পার্টির নয়।
গোয়েন লুইসের এক বক্তব্য নিয়ে রাজনৈতিক মহলে শোডগোল শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধির এমন মন্তব্য নির্বাচনী গণতন্ত্রের বিপরীত অবস্থান।

গোয়ান লুইস। বাংলাদেশে রাষ্ট্রসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি।
আওয়ামী লিগ গোয়ান লুইসের বক্তব্যে তীব্র নিন্দা করেছে। দলের তরফে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ আওয়ামী লিগ গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছে বাংলাদেশে রাষ্ট্রসংঘের আবাসিক প্রতিনিধি গোয়েন লুইস বাংলাদেশে বিশেষ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক অ্যাজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন। আগামী নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের থাকা না থাকা নিয়ে তাঁর মন্তব্য সমগ্র জাতিকে হতাশ ও ক্ষুব্ধ করেছে। আমরা মনে করি, এটা গোয়েন লুইসের ব্যক্তিগত বক্তব্য, এটা রাষ্ট্রসংঘের পর্যবেক্ষণ বা মন্তব্য নয়। রাষ্ট্রসংঘ নিশ্চিতভাবে কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এ রকম পক্ষপাতিত্বমূলক মন্তব্যকে সমর্থন করে না।
আওয়ামী লিগ আরও বলেছে, গোয়েন লুইস শুধু আজকে এমন মন্তব্য করেছে তা নয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বহির্শক্তির আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় কাজ করে আসছেন। তাঁর পক্ষপাতিত্বমূলক কার্যক্রম গণতন্ত্রের পথে বাংলাদেশের উত্তরণকে কঠিন করে তুলবে। আমরা গোয়েন লুইসের পক্ষপাতিত্বমূলক মন্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
শেখ হাসিনার পার্টির এক নেতা বলেছেন, গোয়েন লুইস মন্তব্য করেছেন 'আওয়ামী লিগ না থাকলেও জনগণের অংশগ্রহণ সঠিকভাবে হলে আগামী নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে পারে। অথচ বাংলাদেশে বৃহৎ একটা জনগোষ্ঠী আওয়ামী লিগকে সমর্থন করে। সেই জনসমষ্টি নির্বাচনে অংশ না নিলে নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক কীভাবে হবে? আবার আওয়ামী লিগের নেতাকর্মী থেকে শুরু করে সমর্থক ও ভোটাররা নির্বাচনে ভোট না দিলে সেখানে কীভাবে জনগণের অংশগ্রহণ সঠিকভাবে হবে?
যে কোনও দেশের গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও ব্যবস্থা জোরদার করার জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা পরামর্শ বা গাইডলাইন দিয়ে থাকে। অথচ এটা খারাপ শুনালেও সত্য গোয়েন লুইসের মন্তব্য বাংলাদেশের রাজনীতিতে অস্থিরতা সৃষ্টি করবে। যা দেশের মানুষের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনকে ব্যাহত করবে। রাষ্ট্রসংঘ সহ সকল আন্তর্জাতিক সংস্থা যারা বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় কাজ করতে চায় তাদেরকে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে মন্তব্য করা বা পরামর্শ প্রদানের আহ্বান জানাচ্ছি।