দেশে-বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahaman)-সহ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথমসারির সংঘঠকদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ (Mukti Yodhhya) বলে মানতে বাধ্য হল মহম্মদ ইউনুসের সরকার

শেষ আপডেট: 4 June 2025 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশে-বিদেশে প্রবল সমালোচনার মুখে শেখ মুজিবুর রহমান (Sheikh Mujibur Rahaman)-সহ স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথমসারির সংঘঠকদের ‘মুক্তিযোদ্ধা’ (Mukti Yodhhya) বলে মানতে বাধ্য হল মহম্মদ ইউনুসের সরকার (Md Yunus government)। অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম বুধবার দুপুরে বলেন, মুজিবনগর সরকারের (Mujin nagor government) যাঁরা ছিলেন, তাঁরা সবাই মুক্তিযোদ্ধা। তবে মুজিবনগর সরকারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। এই ভাগাভাগিতে অবশ্য মর্যাদাহানী এবং সরকারি সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বিভাজন হবে না।
মঙ্গলবার রাতে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিলের নামে জারি অধ্যাদেশে অবশ্য বলা হয়, যারা রণাঙ্গনে অস্ত্রহাতে যুদ্ধ করেছেন তারা মুক্তিযোদ্ধা। বাকিরা মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী। এই ঘোষণার পর দেশ-বিদেশ থেকে তুমুল শোরগোল শুরু হয়। বহু মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনানি শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তাজউদ্দীন, সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও মনসুর আলির অবমাননায় তীব্র ক্ষোভ উগরে দেন।
এরমধ্যে আবার মুক্তিযোদ্ধাদের বিভাজনে নেমে পড়ে মহম্মদ ইউনুস ঘনিষ্ঠ ছাত্র নেতা সারজিস আলম। তিনি ফেসবুকে লেখেন মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে রণাঙ্গন থেকে সরে যান। যুদ্ পরিচালনা করেন তাজউদ্দিনরা। শেখ মুজিবের সঙ্গে তাঁদের নামও কেন বাদ দেওয়া হল? তিনি সরকারের কাছে দাবি জানান, প্রয়াত তাজউদ্দিনকে মুক্তিযোদ্ধা ঘোষণা করতে হবে।
তবে অন্তর্বর্তী সরকারের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে ভাগাভাগি অনেকেরই পছন্দ হয়নি। সমাজমাধ্যমে বহু মানুষ ক্ষোভ উগরে দেন। বিদেশ থেকেও প্রবাসী বাংলাদেশিরা এই ব্যাপারে অসন্তোষ জানান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দুপুরে সাংবাদিক বৈঠক ডেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুকি সংবাদমাধ্যমের উপর দোষ চাপান।
তিনি বুধবার বলেন, এটা ভুল বোঝাবুঝি। মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১০-এর ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের সদস্যরা ‘বীর মুক্তিযোদ্ধা’ হিসেবে বিবেচিত হবেন। অন্যদিকে মুজিবনগর সরকার গঠনে যাঁরা সহযোগিতা করেছেন, তাঁরা হবেন ‘মুক্তিযুদ্ধের সহযোগী’। ওই সরকার গঠন করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার জন্য।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন স্বাধীন বাংলা বাংলাদেশ সরকার ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল কুষ্টিয়ার বৈদ্যনাথতলায় শপথ গ্রহণ করে। পরে সেই জায়গার নাম রাখা হয় মুজিবনগর। সরকারটিতেও মুজিবনগর সরকার বলে উল্লেখ করত মানুষ। সেই সরকারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করা হয়েছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ করা হয় নজরুল ইসলামকে। শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানের জেলে আটক থাকায় সৈয়দ নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী হন তাজউদ্দীন আহমদ। অর্থমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হন যথাক্রমে এম মনসুর আলি, এইচ এম কামারুজ্জামান ও বিদেশ মন্ত্রী হন খন্দকার মোশতাক আহমদ। ফারুকি জানান, নতুন অধ্যাদেশ অনুযায়ী এঁরা সকলে বীর মুক্তিযোদ্ধা বলে গন্য হবেন।
এদিকে, বহুদিন পর বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে এবং সরকারি লোকজনের মুখে ‘বঙ্গবন্ধু’ কথাটি ফিরে এসেছে। মহম্মদ ইউনুস সরকার ক্ষমতায় আসার শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিচিহ্নগুলি মুছে ফেলা শুরু হয়। সরকার জানিয়ে দেয় জয় বাংলা আর জাতীয় স্লোগান নয় এবং শেখ মুজিবুর রহমানকে তারা জাতির পিতা বলে মানে না। স্বভাবতই সরকারের মন জুগিয়ে চলতে গিয়ে সংবাদমাধ্যম জয় বাংলা, বঙ্গবন্ধু কথাগুলি ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়। মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে আলোচনার সুবাদে ফের বঙ্গবন্ধু শব্দটিও ব্যবহারে ফিরে আসে।