গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লি (Delhi) ও গুজরাতে (Gujarat) সর্বাধিক সংক্রমণ হয়েছে। দুই রাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪। এরপরই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (৬৩), পশ্চিমবঙ্গ (৬০)। সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যার ভিত্তিতে রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কেরল।
.jpg.webp)
করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী
শেষ আপডেট: 4 June 2025 15:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দেশজুড়ে আবারও মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে করোনা সংক্রমণ। বুধবার কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য বলছে, ২৭৬ জন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন (Covid Case)। ফলে বর্তমানে দেশে মোট করোনা আক্রান্তের (Corona Infected) সংখ্যা ৪ হাজার ৩০২। গত ২৪ ঘণ্টায় সাত জনের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের তালিকায় রয়েছেন মহারাষ্ট্রের চারজন। এছাড়া তামিলনাড়ু, দিল্লি, গুজরাতেও করোনায় মৃত্যুর খবর সামনে এসেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের রিপোর্ট অনুযায়ী, মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৪।
গত ২৪ ঘণ্টায় দিল্লি (Delhi) ও গুজরাতে (Gujarat) সর্বাধিক সংক্রমণ হয়েছে। দুই রাজ্যেই আক্রান্তের সংখ্যা ৬৪। এরপরই রয়েছে উত্তরপ্রদেশ (৬৩), পশ্চিমবঙ্গ (৬০)। সক্রিয় আক্রান্তের সংখ্যার ভিত্তিতে রাজ্যগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে কেরল। এরপর আছে মহারাষ্ট্র (৫১০), গুজরাত (৪৬১), দিল্লি (৪৫৭)। এখনও পর্যন্ত অরুণাচল প্রদেশে করোনা সংক্রমণের খবর নেই।
কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের (Union Health Ministry) তরফে দেশবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাস বলেছেন, 'করোনা আমাদের মাঝে থাকবেই। এই সংক্রমণ প্রতিরোধ করতে হবে। সরকারি নির্দেশিকা পালন করা, মাস্ক করা এবং সতর্কীকরণ অবলম্বন করতে হবে।' সংক্রমণ ঠেকাতে কেন্দ্রের তরফে সব হাসপাতালগুলিকে সতর্ক করা হয়েছে। চিকিৎসার প্রয়োজনে সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মক ড্রিল করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ভিড় জায়গায় অবশ্যই মাস্ক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
করোনা (Covid-19) কিংবা ইনফ্লুয়েঞ্জার উপসর্গ রয়েছে এমন রোগীদের চিকিৎসার জন্য ২০২৩ সালের জুনে জারি হওয়া 'রিভাইজড এবিসি গাইডলাইন ৩' অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই গাইডলাইনে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, ঝিমানো ভাব, নিম্ন রক্তচাপ, রক্ত কাশি এবং শিশুদের ক্ষেত্রে জ্বর, খাওয়াতে অনীহা, শ্বাসকষ্টের উপসর্গগুলিকে 'রেড ফ্ল্যাগ' হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্যান্য রাজ্যগুলির পাশাপাশি বাংলাতেও করোনা সংক্রমণ বাড়ছে। চলতি বছর প্রথম আক্রান্তের মৃত্যু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে। জানা গিয়েছে, গত সাতদিন ধরে আলিপুরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন বছরের ৪৭-এর এক মহিলা। ভেন্টিলেশন সাপোর্টেও রাখা হয়েছিল তাঁকে। পরে মৃত্যু হয়েছে। ডেথ সারটিফিকেটে মহিলার মৃত্যুর (Covid 19 Death) কারণ হিসেবে করোনা সংক্রমণের সঙ্গে কোমর্বিডিটিরও উল্লেখ করেছেন চিকিৎসকরা। লেখা হয়েছে, হৃদযন্ত্র এবং কিডনিতে সমস্যা ছিল মৃতার। সম্প্রতি সেপটিক শকে চলে গিয়েছিলেন তিনি।
হঠাৎ করে এক ধাক্কায় আক্রান্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় আমজনতার মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আক্রান্তদের মূলত মাথাব্যথা, জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পেটব্যথার সমস্যা দেখা যাচ্ছে। সামনে এসেছে কোভিডের দু'টি সাব ভ্যারিয়েন্ট NB.1.8.1 এবং LF.7। এই দুই সাব ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন প্রজাতির। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে সংক্রমণ ছড়াচ্ছে, তাতে পরীক্ষায় এই দুই ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। তবে এখনও পর্যন্ত এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি, যাতে বলা যায় এই নতুন ভ্যারিয়েন্টগুলি আগের তুলনায় অনেক বেশি সংক্রামক।