চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে একটি শিব মন্দির। সেখানে একটি শিব লিঙ্গ রাখা আছে। সাদামাটা মন্দিরটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যস্ত তীর্থক্ষেত্র। বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ মন্দির পরিদর্শন এবং প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দয্য উপভোগ করতে সেখানে যান। বলাই বাহুল্য, পর্যটকদের সিংহভাগ মুসলিম।

শেষ আপডেট: 19 August 2025 13:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পাহাড়ের (Sitakunda hills in Chattogram) চূড়ায় অবস্থিত বাংলাদেশে হিন্দুদের জনপ্রিয় তীর্থস্থান চন্দ্রনাথ মন্দির (Chandranath temple, a major Hindu shrine in Chattogram hill)। মন্দির লাগোয়া মনোরম পাহাড়ও মন্দির কর্তৃপক্ষের সম্পত্তি। সেই মন্দিরের সামনে একটি মসজিদ (proposal to build a mosque in nearby area) নির্মাণের প্রস্তাব গত কয়েকদিন যাবত সোশ্যাল মিডিয়া ঘুরপাঁক খাচ্ছে। মসজিদ নির্মাণের জন্য অর্থ সংগ্রহের ডাকও দিয়েছেন কেউ কেউ।
এই অবস্থায় হিন্দু সম্প্রদায়ের ক্ষোভ, দুশ্চিন্তার মুখে সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানিয়েছে, প্রশাসনের কাছে কেউ মসজিদ তৈরির প্রস্তাব দেয়নি। অনুমতিও চায়নি কোনও ব্যক্তি বা সংগঠন। চাইলেও প্রশাসন অনুমতি দেবে না। সীতাকুণ্ড হিন্দুদের তীর্থক্ষেত্র হিসাবেই থাকবে।
চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড পাহাড়ের চূড়ায় রয়েছে একটি শিব মন্দির। সেখানে একটি শিব লিঙ্গ রাখা আছে। সাদামাটা মন্দিরটিকে ঘিরে গড়ে উঠেছে ব্যস্ত তীর্থক্ষেত্র। বাংলাদেশের সব ধর্মের মানুষ মন্দির পরিদর্শন এবং প্রকৃতির অপূর্ব সৌন্দয্য উপভোগ করতে সেখানে যান। বলাই বাহুল্য, পর্যটকদের সিংহভাগ মুসলিম।

একাধিক সূত্রে জানা গিয়েছে, ঢাকার এক মুসলিম ব্যবসায়ী সম্প্রতি সীতাকুণ্ডের মন্দির পরিদর্শনে যান। সেখানে লম্বা লাইনের কারণে তিনি নির্দিষ্ট সময়ে নমাজ পাঠ করতে পারেননি। তিনি ফেসবুকে পোস্ট দেন আশপাশে একটি মসজিদ থাকলে নমাজ পাঠে সমস্যা হত না। এই ব্যাপারে আলোচনা ও উদ্যোগ এগিয়ে নিয়ে যেতে তিনি ঢাকায় একজন মুসলিম ধর্মগুরুর সঙ্গে কথা বলেন। সেই ধর্মগুরু প্রশাসনকে বলেছেন, মসজিদ তৈরির প্রস্তাবে তিনি সায় দিয়েছিলেন। তবে সেটা যে হিন্দুদের জমির উপর তৈরির করা হবে তা জানা ছিল না। তিনি বলেছেন, অন্য ধর্মাবলম্বীদের জমি কেড়ে মসজিদ বানালে তা বৈধ হবে না। সাইফুল ইসলাম নামে যে মাঝবয়সি ব্যবসায়ী মসজিদ নির্মাণের দাবিতে একাধিক পোস্ট দিয়েছিলেন তিনিও তাঁর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছেন।
তারপরও মুখে মুখে ছড়িয়ে পড়ে মসজিদ নির্মাণের খবর। হিন্দু সম্প্রদায়ের চিন্তায় পড়েন। প্রায় সাড়ে ছয়শো বছরের পুরনো ওই মন্দির নিয়ে এর আগে কোনও সমস্যা হয়নি। মন্দির লাগায়ো পাহাড় মন্দির কমিটির সম্পত্তি এবং তা সংরক্ষিত এলাকা হিসাবে চিহ্নিত। যাতে সবুজ ধ্বংস না হয়। যে কোনও নির্মাণেও নানা বিধিনিষেধ আছে। হিন্দু সাধুরা অস্থায়ি আস্থানায় বসবাস ও ধ্যান করেন। রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা নেই বললেই চলে।

মন্দির কমিটির সভাপতি চন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য এবং কার্যনির্বাহী সদস্য অশোক চক্রবর্তীর সঙ্গে সোমবার সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের বৈঠক হয়। মন্দির কমিটি চলমান উত্তেজনা নিয়ে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছিল। প্রশাসনের তরফে লিখিতভাবে জানানো হয়, মন্দির কমিটির অধীনে থাকা এলাকায় কোনও মসজিদ নির্মাণের অনুমতি কেউ চায়নি। প্রশাসন কাউকে সেই অনুমতি দেবেও না।
অশোক চক্রবর্তী স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, নেপালের এক রাজা প্রায় সাড়ে ছয়শো বছর আগে উপমহাদেশের নানা প্রান্তে জমি কিনে হিন্দু মন্দির বানিয়ে দিয়েছিলেন। সীতাকুণ্ডের শিব মন্দির তারমধ্যে একটি। কথিত সেখানে পাহাড়ি নদীতে রাম-সীতা স্নান করতেন। তখন থেকে জমানা নির্বিশেষে সীতাকুণ্ড হিন্দুদের তীর্থস্থান। ত্রিপুরা, অসম-সহ উত্তর-পূর্বের বহু ভারতীয় ওই তীর্থস্থানে যান। চন্দ্রনাথ মন্দিরের নামানুসারে লাগোয়া পাহাড়টির নাম চন্দ্রনাথ পাহাড়।