বাংলাদেশে যে অভ্যুত্থানকারীরা তাঁকে আদর করে প্রধান উপদেষ্টা পদে বসিয়েছেন, সেই ছাত্র নেতৃত্বের সঙ্গে এবার মহম্মদ ইউনুসের (Md Yunus) তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে।

মহম্মদ ইউনুস।
শেষ আপডেট: 28 June 2025 08:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে যে অভ্যুত্থানকারীরা তাঁকে আদর করে প্রধান উপদেষ্টা পদে বসিয়েছেন, সেই ছাত্র নেতৃত্বের সঙ্গে এবার মহম্মদ ইউনুসের (Md Yunus) তীব্র মতবিরোধ প্রকাশ্যে চলে এসেছে। ছাত্র নেতৃত্বের একাংশ তাঁকে 'সুবিধাবাদী ইউনুস' (opportunist Yunus) পর্যন্ত বলছেন।
বিবাদের সূত্রপাত ৮ অগস্টকে নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসাবে (new Bangladesh day) ঘোষণার সিদ্ধান্ত। গত বছর ওই দিন বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা হিসাবে শপথ নিয়েছিলেন মহম্মদ ইউনুস (Yunus took oath as Chief Adviser of Bangladesh on 8th August, 2024) । তাঁর সরকার ওই দিনটি নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সেই সিদ্ধান্তেই তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছে অভ্যুত্থানের নেতৃত্বদানকারী ছাত্ররা। তাদের কথায়, নতুন বাংলাদেশের জন্ম হয়েছে ৫ অগস্ট, যেদিন গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়।
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বেশিরভাগ নেতা বর্তমানে নতুন দল জাতীয় নাগরিক পার্টির শীর্ষ স্তরে আছেন। ওই দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ (Hasnat Abdullah) ফেসবুকে লিখেছেন, '৫ অগস্টের সাধারণ ছাত্র–জনতার অর্জনকে সরকারের কুক্ষিগত করার চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না।'
ওই দলের উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হলেন সারজিস আলম (Sarjis Alam)। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, ‘৮ অগস্ট দ্বিতীয় স্বাধীনতা শুরু হয়নি। দ্বিতীয় স্বাধীনতা নষ্টের, ছাড় দেওয়ার এবং বিপ্লব বেহাতের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে।’ আরও লিখেছেন, ৫ অগস্ট ‘জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবস’ এবং ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা দিবস’।
সরকারের 'বন্ধু' জামায়াতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমানও বলেছেন, ৫ অগস্ট নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসাবে পালন করা উচিত।
ছাত্র নেতৃত্ব এবং সরকারের ঘনিষ্ঠ মহল থেকে আপত্তি ওঠায় দিবস সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া জানিয়েছেন, দু-তিনদিনের মধ্যে নতুন সিদ্ধান্ত জানানো হবে। গত বুধবার রাতে সরকারের তরফে নির্দেশিকা জারি করে বলা হয়, ৫ অগস্ট জুলাই বিপ্লব দিবস, ৮ অগস্ট ইউনুস সরকারের শপথের দিনটি নতুন বাংলাদেশ দিবস হিসাবে পালন করা হবে। ১৬ জুলাইকে ঘোষণা করা হয় আবু সাঈদ দিবস হিসাবে। গত বছর ওই দিনে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ চলাকালে ওই যুবক বুক পেতে দাড়ান। গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান তিনি। যদিও পুলিশ নাকি অন্য কারও গুলিতে নিহত হন রংপুরের ওই ছাত্র তা নিয়ে বিতর্ক আছে।