পণ্যগুলির মধ্যে আছে কাঁচা পাট, পাটের রোল, পাটের সুতা ও বিশেষ ধরনের কাপড়।

বনগাঁর পেট্রাপোলের মতো স্থল বন্দর দিয়ে নয়টি পণ্য ভারতে পাঠাতে পারবে না বাংলাদেশ।
শেষ আপডেট: 28 June 2025 07:53
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ (Bangladesh) থেকে নয়টি পণ্য এখন থেকে আর স্থল বন্দর (Land port) দিয়ে আমদানি করবে না ভারত (India)। একমাত্র মুম্বইয়ের নভোসেবা বন্দর (Nava Seva port at Mumbai) ব্যবহার করে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা ভারতে ওই নয় ধরনের পণ্য রপ্তানি করতে পারবেন।
পণ্যগুলির মধ্যে আছে কাঁচা পাট, পাটের রোল, পাটের সুতা ও বিশেষ ধরনের কাপড়। ভারতের বৈদেশিক বাণিজ্য বিভাগের জারি করা নয়া নিষেধাজ্ঞার অর্থ হল ভারত ওই পণ্যগুলি আর বাংলাদেশের কাছ থেকে নিতে আগ্রহী নয়। তাই স্থল বন্দর ব্যবহারের সুযোগ বন্ধ করে দিল। এরফলে বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি সে দেশের রপ্তানিকারকেরাও বিপাকে পড়বেন।
এর আগে দু'বার, গত ৯ এপ্রিল এবং ১৭ মে বাংলাদেশি পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। ৯ এপ্রিলের নির্দেশিকায় বলা হয়েছিল, কলকাতা বন্দর এবং স্থল বন্দরগুলি ব্যবহার করে তৃতীয় কোনও দেশে তৈরি পোশাক রপ্তানি করতে পারবে না বাংলাদেশ। নেপাল ও ভুটানে পণ্য সরবরাহ করতে হলেও তাদের বিমান পথ ব্যবহার করতে হবে।
১৭ মে'র নির্দেশিকায় বলা হয়, তৈরি পোশাক, প্লাস্টিক ও কাঠের আসবাবপত্র প্রক্রিয়াজাত খাবার প্লাস্টিক, সুতা থেকে তৈরি সামগ্রী, ফল ও ফলের স্বাদযুক্ত পানীয়, কোমল পানীয় প্রভৃতি ভারতে রপ্তানি করতে পারবে না বাংলাদেশ।

ওয়াকিবহাল মহলের খবর, বিধিনিষেধর আওতায় পড়া পণ্যগুলির ৯৯ ভাগ বাংলাদেশ ভারতে পাঠাতে স্থল বন্দরগুলি ব্যবহার করত। এরফলে রপ্তানি ব্যয় ও সময় কম লাগত। ভারতের বিধিনিষেধকে অনেকেই বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি কমিয়ে দেওয়ার পদক্ষেপ হিসাবে দেখছে। দু দেশের মধ্যে অস্থির সম্পর্কের ছাপ পড়েছে এই সিদ্ধান্তে, মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মহম্মদ ইউনুস সরকারের সময়ে বাংলাদেশের পাকিস্তান ও চিনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এবং বাণিজ্য বৃদ্ধিকে ভারত ভালভাবে নিচ্ছে না। পাশাপাশি বাংলাদেশের ভারত বিরোধিতা নিয়ে নয়াদিল্লি অসন্তুষ্ট।
যদিও শুধু দিল্লি নয়, অন্তর্বর্তী সরকারের ভারতের প্রতি আচরণে বাংলাদেশের বণিক সমাজও অসন্তুষ্ট। তারা মনে করছেন ভারতের বাজার হাতছাড়া হয়ে যাওয়া তাদের ভাতে মরার পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দেবে। আগের দুটি বিধিনিষেধ আরোপের পর বাংলাদেশের বণিকেরা সরকারের উপর চাপ তৈরি করে বিবাদ মিটিয়ে নেওয়ার জন্য। বিদেশ মন্ত্রক মারফত ভারত সরকারকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের আর্জিও জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। আগের নির্দেশিকা বহাল রেখে শুক্রবার নয়া বিধিনিষেধ আরোপ করত ভারত।