তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়ার জন্য সর্বক্ষণের সহকারী নিরাপত্তা বহাল থাকে। তাঁর লন্ডন নিবাসী পুত্র তারেক জিয়া দেশে ফিরলে যে বাড়িতে থাকবেন ইতিমধ্যেই সেটি নিরাপত্তা বাহিনী পাহারায় রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যতম দল বিএনপি'র সরকারি নিরাপত্তার উপর ভরসা নেই।

শেষ আপডেট: 19 October 2025 15:09
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন হিসেবে খালেদা জিয়ার জন্য সর্বক্ষণের সহকারী নিরাপত্তা বহাল থাকে। তাঁর লন্ডন নিবাসী পুত্র তারেক জিয়া দেশে ফিরলে যে বাড়িতে থাকবেন ইতিমধ্যেই সেটি নিরাপত্তা বাহিনী পাহারায় রেখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের অন্যতম দল বিএনপি'র সরকারি নিরাপত্তার উপর ভরসা নেই।
দল মনে করছে খালেদা জিয়া এবং তাঁর পুত্র তারেকের প্রাণনাশের আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। আর সেই কারণেই সেনা, পুলিশ এবং কমান্ডো বাহিনীর নিরাপত্তা সত্বেও বিএনপি দলের দুই শীর্ষ নেতার জন্য নিজস্ব সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে চাইছে।
এজন্য সরকারের কাছে তারা দুটি বুলেটপ্রুফ কার এবং একটি শটগান ও দুটি পিস্তল কেনার লাইসেন্স চেয়ে সরকারের কাছে আবেদন করেছে দলটি। বুলেটপ্রুফ কার কেনার অনুমতি ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে। আগ্নেয়াস্ত্র কেনার অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি সরকারের বিবেচনাধীন। কোন সন্দেহ নেই অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি'র এমন সিদ্ধান্ত ইউনুস সরকারের জন্য চরম অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠেছে। বিএনপি'র এই সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কতটা ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সাধারণ নিয়মেই প্রথম সারির দলগুলির শীর্ষ নেতারা সরকারি নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। বিএনপি'র সিদ্ধান্তে স্পষ্ট তারা সরকারের ভরসায় তাদের দুই নেতার নিরাপত্তা নিয়ে কোন ঝুঁকি নিতে চান না। দলের প্রথম সারির অন্য নেতাদের জন্য বিএনপি একটি বুলেটপ্রুফ বাস কিনতেও সরকারের অনুমতি চেয়েছে। দলের তরফে বলা হচ্ছে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং কার্যনির্বাহী চেয়ারপার্সন তারেক গোটা দেশে প্রচার চালাবেন। ওই সময় তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই বুলেটপ্রুফ কার প্রয়োজন।
বাংলাদেশের ইতিহাসে এর আগে কোন রাজনৈতিক দল এইভাবে নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে বুলেটপ্রুফ কার্ড এবং আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স চায়নি। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, প্রধান বিচারপতি এবং সেনার তিন বাহিনীর প্রধানেরাই বুলেটপ্রুফ কার ব্যবহার করে থাকেন। সরকারি খরচে তাদের জন্য এই গাড়ি বরাদ্দ হয়ে থাকে নিরাপত্তার কারণে। বিএনপি চাইছে দলের দুই শীর্ষ নেতাও বুলেটপ্রুফ কারে যাতায়াত করবেন। খালেদা জিয়া গত বছর ৫ আগস্ট সন্ধ্যায় কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তাঁর জন্য সর্বক্ষণের সরকারি নিরাপত্তা বহাল আছে। পাশাপাশি বিএনপি'র চেয়ারপারসন সিকিউরিটি ফোর্স বা সিসিএফ সদস্যরাও দলনেত্রীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে থাকে। প্রতিমাসে এই খাতে কয়েক লক্ষ টাকার বিল মেটায় দলটি। বুলেট প্রুফ গাড়ি বিদেশ থেকে আমদানি করতে হবে। বাংলাদেশি মূল্যে প্রতিটির দাম হবে প্রায় ২২ কোটি টাকা।
তারেক জিয়া সম্প্রতি ঘোষণা করেন তিনি অতি শীঘ্র দেশে ফিরবেন। যদিও তারপরে দিন কুড়ি কেটে গিয়েছে। ১৭ বছর পর একটি সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তারেক এতদিন দেশে না ফেরার কারণ সম্পর্কে নিরাপত্তার শঙ্কার কথা জানিয়েছিলেন। বলেছিলেন দলের অনেকেই দেশে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত। বিএনপি'র একটি সূত্রের খবর, খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তারেক প্রশাসনে ছড়ি ঘুরিয়েছেন। সেই সময় প্রশাসনের একাংশে তুমুল অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল । সেনা ও সাধারণ প্রশাসনে সেই অসন্তুষ্ট লোকেরা এখনও আছেন। বিএনপি'র আশঙ্কা তাদের নেতার উপর ওই অংশের থেকে প্রাণনাশের আশঙ্কা রয়েছে।
পাশাপাশি উগ্রবাদী সংগঠনগুলির থেকেও হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছে না বিএনপি। দিন কয়েক আগে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সাক্ষাৎকারে বলেন দেশে অতি দক্ষীণপন্থী কট্টরবাদী শক্তির উত্থান হচ্ছে। যা রীতিমতো উদ্বেগজনক। মনে করা হচ্ছে বুলেটপ্রুফ কার এবং আগ্নেয়াস্ত্র কেনার লাইসেন্স চেয়ে সাবেক শাসকদলের আবেদনের পিছনে খুব বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হয়েছে।