তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে দেশে যেসব মামলা ছিল তার সবকটি থেকেই তিনি মুক্ত। ফলে দেশে ফিরে আসতে তাঁর কোন আইনি বাধাও নেই। তারপরও কেন তিনি দেশে ফেরেননি এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান।

শেষ আপডেট: 6 October 2025 13:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কিছুদিনের মধ্যেই তিনি দেশে ফিরে আসবেন বলে জানালেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটাচ্ছেন। এত বছর সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গেও কথা বলেননি তিনি। ১৭ বছর পর বিবিসি বাংলা'কে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন খালেদা জিয়ার পুত্র তারেক।
সাক্ষাৎকারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ছিল এটাই কবে তিনি দেশে ফিরবেন। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই বিএনপি নেতারা বলে আসছিলেন কিছুদিনের মধ্যেই দেশে ফিরে আসবেন তাদের নেতা কিন্তু। তারপরও দেখতে দেখতে ১৩-১৪ মাস কেটে গিয়েছে। তারেক জিয়ার বিরুদ্ধে দেশে যেসব মামলা ছিল তার সবকটি থেকেই তিনি মুক্ত। ফলে দেশে ফিরে আসতে তাঁর কোন আইনি বাধাও নেই। তারপরও কেন তিনি দেশে ফেরেননি এই প্রশ্নের মুখোমুখি হন বিএনপির কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান। জবাবে তিনি বলেন, কিছু সংগত কারণে ফেরাটা হয়ে ওঠেনি এখনও। তবে সময় তো চলে এসেছে মনে হয়। ইনশাআল্লাহ, দ্রুতই ফিরে আসব।’ কবে ফিরতে পারেন, জানতে চাইলে তারেক রহমান বলেন, ‘দ্রুতই মনে হয়। দ্রুতই, ইনশাআল্লাহ।’
বাংলাদেশে পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে হওয়ার কথা। তিনি তার আগে দেশে ফিরবেন কিনা জানতে চাওয়া হয়েছিল। জবাবে বিএনপি নেতা বলেছেন, রাজনীতি করি। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে নির্বাচনের সঙ্গে রাজনৈতিক দল বা রাজনৈতিক কর্মীর একটি ওতপ্রোত সম্পর্ক। কাজেই যেখানে জনগণের প্রত্যাশিত একটি নির্বাচন হবে, সেই নির্বাচনের সময় কেমন করে দূরে থাকব? আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে, ইচ্ছা থাকবে, আগ্রহ থাকবে সেই প্রত্যাশিত নির্বাচন যখন অনুষ্ঠিত হবে, জনগণের সঙ্গে জনগণের মধ্যেই থাকব, ইনশা আল্লাহ।’
তারেক জানিয়েছেন তিনি নির্বাচনে অংশ নেবেন। তখন তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল তুমি কি প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী হবেন? জবাবে তারেক জিয়া বলেন, সে সিদ্ধান্ত তো নেবেন বাংলাদেশের জনগণ। তখন প্রশ্ন করা হয়, আপনার দল বিএনপিকে তো সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনি প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী কিনা। জবাবে তারেক বলেন সে সিদ্ধান্ত দল নেবে।দল যা জানানোর জানাবে। এতদিন দেশে না ফেরার কারণ সম্পর্কে কিছু সংখ্যার কথা উল্লেখ করেছেন বিএনপি'র কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান। তিনি বলেছেন দল সরকার এবং মিডিয়ার কাছ থেকেও তিনি নানান সময়ে কিছু আশঙ্কার কথা শুনেছেন। সেগুলি তাকে বিবেচনায় রাখতে হয়েছে।
প্রসঙ্গত তারেক জিয়া ২০০৮ সালে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে লন্ডনে চিকিৎসা করাতে যান। তার আগে তিনি কারাগারে ছিলেন। সেখানে তার ওপর অকথ্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন হয় বলে অভিযোগ। তাঁর মা খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে অনুরোধ করেছিলেন তাঁর ছেলেকে লন্ডনের চিকিৎসা করাতে যাওয়ার অনুমতি দিক সরকার। তারেক সরকারের অনুমতি পেয়ে লন্ডনে যান। কিন্তু চিকিৎসা করিয়ে সুস্থ হওয়ার পর তিনি দেশে ফেরেননি। ২০০৮ এর ডিসেম্বরে বাংলাদেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফের ক্ষমতায় ফেরে আওয়ামী লিগ। প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। সেই থেকে গত বছরের ৫ অগস্ট দুপুর পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। হাসিনার সরকার লন্ডন থেকে তারেকের ভার্চুয়াল মাধ্যমে দল পরিচালনা সভা সমাবেশ করা নিয়ে আপত্তি তুলেছিল। আদালতের অনুমতি পেয়ে তারেক ভার্চুয়াল মাধ্যমে দল পরিচালনা করছেন। তাঁর মা তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ। তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে নেই।