বাংলাদেশ আগামী জাতীয় সংসদ (National Parliament of Bangladesh)) নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক না কেন দেশে একটি জাতীয় সরকার (National government) গঠনের পক্ষপাতি জামায়াতে ইসলামি (Jamaat-e Islami) ।

শেষ আপডেট: 6 January 2026 19:01
বাংলাদেশ (Bangladesh) আগামী জাতীয় সংসদ (National Parliament of Bangladesh)) নির্বাচনে ফলাফল যাই হোক না কেন দেশে একটি জাতীয় সরকার (National government) গঠনের পক্ষপাতি জামায়াতে ইসলামি (Jamaat-e Islami) । দলটির আমির শফিকুর রহমান সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন প্রস্তাব দিয়েছিলেন। সেই প্রস্তাব খারিজ করে দিলেন বিএনপি-র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (Mirza Faqrul Islam Alamgir, secretary general of BNP) ।
দ্য ওয়াল (The Wall)-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে বিএনপির সেকেন্ড ইন কমান্ড এই প্রবীণ নেতা বলেছেন, বিএনপি তাদের সহযোগী দলগুলিকে নিয়ে সরকার গড়বে। জাতীয় সরকার গড়ার কোনও কথা বিএনপি বলেনি। এ নিয়ে কখনও আলোচনাও হয়নি।
বাংলাদেশে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা। ওই নির্বাচনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামি তাদের পুরনো বোঝাপড়া ভেঙে আলাদা করে লড়াইয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভোটের অনেক আগে থেকেই দুই দল পৃথক কর্মসূচি নিয়ে এগিয়েছে। ২০০১-২০০৬ পর্যন্ত বিএনপি ও জামাতের জোট সরকার বাংলাদেশে ক্ষমতায় ছিল। ভোটের পর ভেঙে যায় তাদের বোঝাপড়া। আশ্চর্যজনক হল, খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বাংলাদেশ যখন শোক পালন করছে তখনই সংবাদ সংস্থা রটটার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জামায়াতে ইসলামির আমির শফিকুর রহমান বলেন, তাঁরা চান আগামী পাঁচ বছর দেশে একটি সর্বদলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকুক। বাংলাদেশকে শোধরাতে এমন একটি সরকার প্রয়োজন বলে ওই জামাত নেতা সাক্ষাৎকারে বলেছেন। বলাই বাহুল্য, নির্বাচনে (Election) অংশ নিতে না পারা আওয়ামী লিগের সেই সরকারে স্থান হবে না।
তাৎপর্যপূর্ণ হল জামায়াতে ইসলামি তাদের এই নয়া প্রস্তাবের কথা এমন সময় প্রকাশ্যে আনে যখন বাংলাদেশে খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) স্মৃতি ঘিরে এক আবেগের বাতাস বইছে সে দেশের রাজনীতিতে। গত বুধবার দুপুরে রাজধানী ঢাকা যখন খালেদার শেষ যাত্রাকে ঘিরে জনসমুদ্রে পরিণত হয়েছে তখন জামাতের আমির রয়টার্সকে সাক্ষাৎকারটি দেন। সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর খালেদা জিয়ার বিদায় যাত্রায় অংশ নেন শফিকুর রহমান।
রয়টার্স রাতে সাক্ষাৎকারটি প্রচার করে। তারপর থেকেই জল্পনা শুরু হয় বিএনপি'র (BNP) সঙ্গে শেয়ানে শেয়ানে লড়াইয়ের বার্তা দিয়েও শফিকুর রহমান কেন ভোটের পর জাতীয় সরকার গঠনের কথা বলছেন? রাজনৈতিক মহলের ব্যাখ্যা হল খালেদার মৃত্যুতে বিএনপি'র বিপুল আসনে জয়লাভের মধ্য দিয়ে ক্ষমতায় ফেরার সম্ভাবনা এক প্রকার নিশ্চিত। আওয়ামী লিগ (Awami League) ময়দানে না থাকায় জামাত এবার তাদের নির্বাচনী ভাগ্য পরিবর্তনের আশা নিয়ে এগোচ্ছিল তারা মনে করছিল অতীতের রেকর্ড ছাপিয়ে এবার অনেক বেশি আসন নিয়ে তারা জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করবে। অতীতে বিএনপির সঙ্গে জোট করেই জামায়াতে ইসলামি বাংলাদেশ সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮টি পেয়েছে। একক শক্তিতে তারা কখনও দশের গণ্ডি পেরোয়নি। আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা নজিরবিহীন ফল করবে বলে আশাবাদী ছিল।
কিন্তু খালেদা জিয়ার মৃত্যুকে (Khaleda Zia Death) কেন্দ্র করে যে আবেগের হাওয়া বইতে শুরু করেছে তাতে জামাতের পক্ষে খুব বেশি আসনে জয় লাভ সহজ হবে বলে নেতৃত্ব মনে করছে না। কিন্তু তারা চাইছে আগামী সরকারে অংশ নিয়ে দেশকে ইসলামিক পথে চালিত করা। জামাতের আমির এই ব্যাপারে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। তিনি বলেছেন তারা মনে করেন অন্তত পাঁচটি বছর বাংলাদেশে এমন সরকার থাকা উচিত যারা ইসলামিক মতাদর্শকে সামনে রেখে দেশ পরিচালনা করবে এবং সেই সরকারের অন্যতম এজেন্ডা হবে দুর্নীতিকে পুরোপুরি নির্মূল করা। জাতীয় সরকার গঠন করে তারা সেই সরকারে এই ভূমিকা, নিশ্চিত করতে চান। জামাতের মতে বাংলাদেশের একাধিক সমস্যার একটি হল দুর্নীতি।
কৌতূহল তৈরি হয়েছিল জামাত নেতার প্রস্তাব সম্পর্কে বিএনপি কী বলেন। দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকালে বিএনপির প্রবীণ নেতা তথা দলের মহাসচিব সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জামাতকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা কোনও সরকার গড়ার কথা ভাবছেন না। তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি যে সরকার গড়বে সেটা হবে দলের একটি জোট সরকার। সেই সরকারে বিএনপি ছাড়া থাকবে শরিক দলগুলি। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমরা শেখ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে যুগপৎ আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলাম। আমাদের যৌথ আন্দোলনে জামাত ছিল না।