Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ক্যান্ডিডেটস জিতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে গুকেশের মুখোমুখি সিন্দারভ, ড্র করেও খেতাবের লড়াইয়ে বৈশালীIPL 2026: চেন্নাইয়ের বিরুদ্ধে হেরে টেবিলের তলানিতে কেকেআর! গুরুতর বদলের ইঙ্গিত রাহানের নববর্ষের 'শুভনন্দন'-এও মুখ্যমন্ত্রীর SIR তোপ! বাংলায় পয়লা বৈশাখের শুভেচ্ছা প্রধানমন্ত্রীরইরানের সব পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল বন্ধ করে‌ দেওয়া হয়েছে, দাবি আমেরিকার, চিন্তা ইরানি ল্যান্ডমাইনও Poila Baisakh: দক্ষিণেশ্বর থেকে কালীঘাট, নববর্ষে অগণিত ভক্তের ভিড়, পুজো দিতে লম্বা লাইনপয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ

জামাত আদর্শিক শত্রু, ভোটে বিএনপি মূল প্রতিপক্ষ, কাল থেকে প্রচারে আওয়ামী লিগ, নামছেন হাসিনাও

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হবে, প্রচার শুরু হবে।

জামাত আদর্শিক শত্রু, ভোটে বিএনপি মূল প্রতিপক্ষ, কাল থেকে প্রচারে আওয়ামী লিগ, নামছেন হাসিনাও

শেষ আপডেট: 21 January 2026 16:18

অমল সরকার

আগামীকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচার শুরু হবে, প্রচার শুরু হবে। বুধবার থেকে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ শুরু করবে সে দেশের নির্বাচন কমিশন (Bangaldesh Election Commission)। ‌

বিএনপির নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান তারেক রহমান (Tarique Rahman) বুধবার সন্ধ্যার বিমানে সিলেট যাবেন। ‌বৃহস্পতিবার সকালে প্রথম তরুণ যুবকদের সঙ্গে ঘরোয়া সভায় মিলিত হওয়ার পর তিনি প্রকাশ্যে প্রচার শুরু করবেন।

জামায়াতে ইসলামীর আমির‌ শফিকুর রহমানের (Amir Shafikul Rahman) বৃহস্পতিবার সভা করার কথা কুমিল্লায়। ‌জামাতের নতুন জোট সঙ্গী জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম প্রচার‌ শুরু করবেন ঢাকায়। জাতীয় পার্টির সভাপতি জিএম কাদের ভোটের প্রথম সভা করবেন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের শহর রংপুর থেকে। তবে জাতীয় সংসদের আসন্ন নির্বাচনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এবার ভোটের ময়দানে না থাকা দেশটির সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল আওয়ামী লিগের অনুপস্থিতি। মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাস দমন আইনে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করেছে। এই নির্দেশিকাক হাতিয়ার করে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন দলটির নিবন্ধন বাতিল করে রেখেছে। ‌

তবে ভোটের অংশ নিতে না দিলেও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লিগও সমানতালে প্রচার চালাবে।‌ বস্তুত ভার্চুয়াল মাধ্যমে কয়েকদিন আগে থেকেই প্রচার শুরু করে দিয়েছে দলটি। চলতি মাসে সাত দিনের ব্যবধানে শেখ হাসিনা দলের ওয়ার্কিং কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে প্রচারের রণকৌশল ঠিক হয়েছে। ‌

আগামী পরশু শুক্রবার দিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে যোগদান করার কথা শেখ হাসিনার। আঠারো মাস আগে তিনি ভারতে আসার পর এই প্রথম ভারতীয়দের উপস্থিতিতে আয়োজিত কোনও অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। ‌এখনও পর্যন্ত ঠিক আছে, শেখ হাসিনা অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে আওয়ামী লিগের‌ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও সাবেক মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা।

নির্বাচনে অংশ নিতে না দেওয়ায় আওয়ামী লিগ তাদের ভোটারদের এই নির্বাচন বয়কট করার আর্জি জানিয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এবং জামাত আওয়ামী লিগের ভোটারদের সমর্থন পেতে মরিয়া।‌ কোথাও অনুনয়-বিনয়, নিরাপত্তা দেওয়ার আশ্বাস তো কোথাও ভয় দেখানো হচ্ছে চলছে ভোট না দিলে চরম পরিণতি হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে এই পরিস্থিতিতে এই পরিস্থিতিতে চরম উৎকণ্ঠায় আছেন আওয়ামী লিগের কর্মী সমর্থকেরা। ভীত সন্ত্রস্ত সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। বুথে না গেলে সংখ্যালঘু এবং আওয়ামী লিগ সমর্থক বহুল এলাকায় হামলার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এই অবস্থায় আওয়ামী লিগের শীর্ষ নেতৃত্ব দলের কর্মী সমর্থকদের কী অবস্থান নিতে হবে তার ব্যাখ্যা দিয়ে বার্তা দিয়েছে। পরিস্থিতির চাপে বুথে যেতে হলেও দলের সমর্থকরা যাতে ভোট নষ্ট করেন, বিশেষ করে কোনও অবস্থাতেই তারা যাতে জামাতে ইসলামী এবং বিএনপি'র প্রার্থীদের ভোট না দেন সেই ব্যাপারে সচেতন থাকতে আর্জি জানানো হয়েছে।‌ সাম্প্রতিক অতীতে দলের নেতারা ভার্চুয়াল মাধ্যমে যে সভাগুলি করেছেন সেখানে তৃণমূল স্তরের নেতাদের এই বিষয়টি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দলটির এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের কথায়, নির্বাচন পর্যন্ত তারা ধারাবাহিকভাবে প্রচার চালাবেন জামাত এবং বিএনপির অতীত ভূমিকা নিয়ে। ওই নেতার কথায়, জামায়াতে ইসলামী হল আমাদের আদর্শিক শত্রু।  আওয়ামী লিগ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক দল। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। ‌তারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরেছিল। পাক বাহিনীকে মুক্তিযোদ্ধাদের চিনিয়ে দিত।‌ রাজাকার, আল বদর, আল শামস বাহিনী সরাসরি অস্ত্র ধরেছিল মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে। ‌অর্থাৎ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে আওয়ামী লিগের বিরোধ শত্রুতার সূত্রপাত মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকেই। জামাত তো সমর্থন করা তাই আওয়ামী লিগের নিজের অস্তিত্বকেই অস্বীকার করার শামিল, এই কথাটি দল কর্মী, সমর্থক, ভোটারদের স্মরণ করিয়ে দিচ্ছে।‌

ওই নেতা বলেন, বিএনপি আমাদের রাজনীতির ময়দানের অন্যতম প্রতিপক্ষ। দলটি মুক্তিযুদ্ধের পরে তৈরি হলেও সেটির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার যুদ্ধে একটি সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন। কিন্তু তিনি নিজে সেনাপ্রধান এবং পরবর্তীকালে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পরিকল্পিতভাবে নিঃশেষ করেছেন। যে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে লড়াই করে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে সেই দেশটির সঙ্গে তিনি সক্ষম গড়ে তুলেছিলেন। বাঙালি জাতীয়তাবাদের শপথ নিয়ে হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ। সেখানে জিয়াউর রহমান দেশের দায়িত্বভার নেওয়ার পর বাঙালি পরিচয় মুছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ আমদানি করেন। এ এইভাবে তিনি দেশকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার বিপরীতে চালিত করেছিলেন। তিনি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের দায়মুক্তি দিতে আইনি পদক্ষেপ এবং তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করেন। তার পথ ধরেই হোসেন মোহাম্মদ এরশাদ বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষতার আদর্শকে পদদলিত করেন।

আওয়ামী লিগের বক্তব্য, সদ্যপ্রয়াত খালেদা জিয়ার শাসনামলের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল শেখ মুজিবুর রহমানের দলকে নিঃশেষ করা। ‌আওয়ামী লিগ সভানেত্রী শেখ হাসিনাকে নানা সময়ে হত্যা ষড়যন্ত্র হয়েছে খালেদার শাসনামলে। যার সর্বশেষ দৃষ্টান্ত গ্রেনেড হামলা। আওয়ামী লিগ তথা শেখ হাসিনার আরও বক্তব্য, বাংলাদেশের যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ভারত রক্ত ঝরিয়েছে সেই রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে লাগাতার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল খালেদা জিয়ার সরকার। চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র আনানো হয়েছিল ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী ও জঙ্গি সংগঠনগুলিকে সরবরাহ করার জন্য। হাসিনার দল  বলছে, আওয়ামী লিগ বিরোধিতা এবং ভারত বিরোধিতাকে এক সূত্রে গেঁথেছে বিএনপি-জামাত। শেখ হাসিনা তাঁর ভার্চুয়াল ভাষণে নিয়মিত বলছেন, মহম্মদ ইউনুসের সরকার বিগত আঠারো মাসে বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। কিন্তু বিএনপি ও জামাত তাতে বাধা দেওয়ার পরিবর্তে পদে পদে মদত দিয়েছে। তবে তুল্য মূল্য বিচারে আওয়ামী‌ লিগ নেতারা বিএনপি'র বিরুদ্ধে বেশি আক্রমণাত্মক। ‌তাদের বক্তব্য, ২০২৪ এর ৫ আগস্ট এর পর বাংলাদেশ জুড়ে যে হত্যালীলা সংগঠিত হয়েছে তাতে প্রধান মদতদাতা ছিল বিএনপি। আওয়ামী লিগের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে হাজার হাজার ভুয়া মামলা দায়ের করে তারেক  রহমানের পার্টি। এই ব্যাপারে দলকে পরিচালিত করেন স্বয়ং তারেক।‌

অন্যদিকে জামাতে ইসলামীর তৃণমূল স্তরের নেতারা কিছু কিছু এলাকায় আওয়ামী লিগের স্থানীয় কর্মী সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন। কিন্তু তারপরেও দল তৃণমূল স্তরের নেতাকর্মীদের বোঝাচ্ছে এটা জামাতের ভালো মানুষি। ওই দলের সঙ্গে পার্টির আদর্শগত বিরোধ আছে। ফলে ব্যক্তিগতভাবে কোন জামাত নেতার ভালো ব্যবহার বা বিপদে পাশে থাকাকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার অর্থ হবে‌ নিজের পায়ে নিজে কুড়ুল মারা।

আর তারেক রহমানের দল সম্পর্কে শেখ হাসিনার দলের বক্তব্য, বিএনপি জন্মের পর থেকে প্রতি পদে আওয়ামী লিগের বিরোধিতা করে এসেছে। বস্তুত আওয়ামী লিগ বিরোধী তাই ওই দলের একমাত্র এজেন্ডা। ফলে কোনও আওয়ামী লিগ সমর্থকের পক্ষে বিএনপিকেও সমর্থন করা সম্ভব নয়।‌


```