ভারত শুধু নিজের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের খাদ্য জোগানই নিশ্চিত করে না, বরং খাদ্যশস্য রফতানিকারক দেশ হিসেবেও বিশ্বের নানা প্রান্তে সাহায্য পাঠায়। বহু দেশ যখন খাদ্য সঙ্কটে ভুগেছে, তখন ভারত মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।

এই ছাত্রনেতার কথা নিয়েই বিতর্ক
শেষ আপডেট: 23 December 2025 12:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাত্রনেতা ওসমান হাদির (Osman Hadi) মৃত্যু ঘিরে ফের উত্তাল হয়েছে বাংলাদেশ (Bangladesh)। এরই মাঝে এক হিন্দু যুবকের খুনের ঘটনা ভারতেও ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ফলত, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে (India Bangladesh Relation) চিড় ধরেছে। দুই দেশই ভিসা কেন্দ্র বন্ধ করে দিয়েছে। এই আবহে আবার ভারতকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছেন বাংলাদেশের আরও এক ছাত্রনেতা (Bangladesh Student Leader)।
বাংলাদেশের টাকায় নাকি ভারত বাঁচে, টাকা না দেওয়া হলে না খেতে পেয়ে মরবে - ওই ছাত্র নেতার দাবি এমনই! সোশ্যাল মিডিয়া তাঁর বক্তব্য ভাইরাল হয়ে গেছে। ওই ভিডিওয় তাঁকে বলতে শোনা যায়, ''বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর ভারত ১ লক্ষ ২০ হাজার কোটি টাকা নিয়ে যায়। যদি ভারতে টাকা পাঠানো বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে ভারত অনাহারে মারা যাবে।'' এই মন্তব্য ঘিরে দুই দেশেই তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, এই বক্তব্য বাস্তবতা থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। ভারত এখন বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম অর্থনীতি (Fifth Largest Economy)। পরিমাণ প্রায় ৩.৯ ট্রিলিয়ন ডলার। সেখানে বাংলাদেশের মোট জিডিপি প্রায় ৪৬০ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ অর্থনৈতিক পরিসরে ভারত বাংলাদেশের থেকে প্রায় নয় গুণ বড়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত শুধু নিজের ১৪০ কোটির বেশি মানুষের খাদ্য জোগানই নিশ্চিত করে না, বরং খাদ্যশস্য রফতানিকারক দেশ হিসেবেও বিশ্বের নানা প্রান্তে সাহায্য পাঠায়। বহু দেশ যখন খাদ্য সঙ্কটে ভুগেছে, তখন ভারত মানবিক সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে। সেখানে দাঁড়িয়ে ভারতকে নিয়ে এই দাবি কখনই যুক্তিসঙ্গত নয়।
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বাংলাদেশ (Bangladesh) নিজেই মুদ্রাস্ফীতি, বন্যা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেকেই মনে করছেন, এই ধরনের বক্তব্য মূলত আলোচনায় আসার চেষ্টা, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ নয়।
সমাজমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক কটাক্ষ শুরু হয়েছে। অনেকেই একে ‘অর্থনৈতিক অজ্ঞতা’ বলে কটাক্ষ করেছেন। রাজনৈতিক ভাষণে বাস্তব তথ্যের বদলে কল্পনার আশ্রয় নেওয়ার প্রবণতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
এদিকে, হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ছড়িয়ে পড়া একাধিক গুজব ও উত্তেজনার জেরে ঢাকায় সংবাদমাধ্যমের অফিসেও হামলার (Media Office Attack) ঘটনা ঘটে। 'প্রথম আলো', 'দ্য ডেইলি স্টার' সহ দু'টি সাংস্কৃতিক সংগঠনের কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ইতিমধ্যে ১৭ জনকে গ্রেফতার (Arrests) করা হয়েছে। একই সঙ্গে হামলায় অংশ নেওয়া আরও অন্তত ৩১ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে বলেও খবর।
শুধু হামলা চালানো নয়, এইসব অফিসে ভয়াবহ লুটপাটও চালানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃতদের মধ্যে এক ব্যক্তি হামলার রাতে বড় অঙ্কের নগদ অর্থ লুটের কথা প্রাথমিক জেরায় স্বীকার করেছে। তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি অর্থ দিয়ে কেনা টিভি (TV) ও ফ্রিজ (Fridge) বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আরও একজন পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তিনি সেদিন ১ লক্ষ ২৩ হাজার টাকা লুট করেছিলেন।