সমালোচনার মুখে বেশি রাতে মহম্মদ ইউনুসের দফতর থেকে ওই ঘটনার নিন্দা করে বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে ‘এই অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজটি আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের আইন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সভ্য সমাজের মৌলিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত।’
.jpeg.webp)
ছবি-সংগৃহীত।
শেষ আপডেট: 6 September 2025 07:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের রাজবাড়ির গোয়ালন্দে এক স্থানীয় ধর্মগুরুর দেহ কবর থেকে তুলে প্রকাশ্য স্থানে পুড়িয়ে দিয়েছে একদল জনতা। তারা নিজেদের ইসলামের রক্ষক তৌহিদি বা বিপ্লবী জনতা বলে পরিচয় দেয়।
এই ঘটনায় ধর্মগুরুর অনুগামীদের সঙ্গে হামলাকারীদের সংঘর্ষে রাশেল মোল্লা (২৮) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনায় গোটা দেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সেনা ও পুলিশের উপস্থিতিতে কীভাবে একদল লোক কবর থেকে দেহ তুলতে পারল সেই প্রশ্নে সোশ্যাল মিডিয়া ছেয়ে গেছে। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, আমরা কতটা অসভ্য এবং নীচে নামতে পারি এই ঘটনা তার প্রমাণ।
সমালোচনার মুখে বেশি রাতে মহম্মদ ইউনুসের দফতর থেকে ওই ঘটনার নিন্দা করে বিবৃতি দেওয়া হয়। তাতে বলা হয়েছে ‘এই অমানবিক ও ঘৃণ্য কাজটি আমাদের মূল্যবোধ, আমাদের আইন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক ও সভ্য সমাজের মৌলিক ভিত্তির ওপর সরাসরি আঘাত।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এ ধরনের বর্বরতা কোনও অবস্থাতেই সহ্য করা হবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে এবং প্রতিটি মানুষের জীবনের পবিত্রতা, জীবদ্দশায় এবং মৃত্যুর পরেও রক্ষা করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
জানা গিয়েছে, গোয়ালন্দ পুররসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে নিদের বাড়িতে দরবার শরিফ গড়ে তোলেন নুরুল হক নামে এক ব্যক্তি। এলাকায় তিনি নুরু পাগল নামে পরিচিত ছিলেন। বার্ধত্যজনিত কারণে গত গত ২৩ অগস্ট তিনি মারা যান। তাঁর অনুগামীদের দাবি, নুরু পাগলের শেষ ইচ্ছানুসারে মাটি থেকে কয়েক ফুট উঁচুতে বিশেষভাবে তৈরি অংশে তাঁর দেহ কবর দেওয়া হয়।
ওই ঘটনা জানাজানি হতেই আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ছড়াতে থাকে। একদল লোক প্রচার করে ইসামি রীতি মেনে কবর দেওয়া হয়নি। ইমান-আকিদা রক্ষা কমিটি প্রকাশ্যেই দাবি তোলে দেহ তুলে নতুন করে সরিয়ত মেনে কবর দিতে হবে নুরু পাগলের দেহ। আপত্তি তোলে তাঁর অনুগামীরা। এ নিয়ে জেলাশাসক, পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে মধ্যস্থতা বৈঠক হয়। তাতেও সমস্যার সমাধান হয়নি। ইমাম কমিটি শুক্রবারের নমাজের পর জনসাধারণকে গোয়ালন্দে নুরু পাগলের আস্তানায় হাজির হওয়ার ডাক দেয়। বিকালে তারাই কবর থেকে দেহটি তুলে পুড়িয়ে দেয়। এই সময় সংঘর্ষে মারা যান রাশেল মোল্লা। নুরু পাগলের দরবারটিও ভেঙে ফেলে উগ্রবাদীরা।
বাংলাদেশে গত বছর হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকেই তৌহিদি জনতার দাপট শুরু হয়েছে। তারা নানা জায়গায় ইসলামিক নিয়ম, প্রথা বলবৎ করার নামে হামলা চালাচ্ছে। গোয়ালন্দের ঘটনায় গুরুতর অভিযোগ উঠেছে হুমকি দেওয়া সত্ত্বেও কেন সেনা-পুলিশ এই উগ্রবাদী জনতাকে আটকায়নি।
সরকারের বিবৃতিতে এই ঘটনায় কঠোর প্রতিক্রিয়া দিয়ে আরও বলা হয়, ‘কোনও ব্যক্তি বা গোষ্ঠী জবাবদিহির ঊর্ধ্বে নয়। যারা এই ঘৃণ্য কাজের সঙ্গে যুক্ত, তাদের উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে দ্রুত ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’ বলা হয়েছে, ‘সহিংসতার বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হোন এবং ন্যায়বিচার ও মানবতার আদর্শকে সমুন্নত রাখতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা গড়ে তুলুন।’