বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে মানুষ এককভাবে সরকার গড়ার সুযোগ দেবে বলে দাবি করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিবিসি-বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন বিএনপি সম মনোভাবাপন্ন দলগুলিকে নিয়ে জাতীয় সরকার গড়ার পক্ষপাতী।

তারেক রহমান
শেষ আপডেট: 7 October 2025 12:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে মানুষ এককভাবে সরকার গড়ার সুযোগ দেবে বলে দাবি করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বিবিসি-বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি একই সঙ্গে বলেছেন বিএনপি সম মনোভাবাপন্ন দলগুলিকে নিয়ে জাতীয় সরকার গড়ার পক্ষপাতী। সেক্ষেত্রে তাদের সাবেক জোট সঙ্গী জামাত ই ইসলামিকে সরকারের অংশ করা হবে কিনা তা অবশ্য স্পষ্ট করেননি বিএনপি নেতা।
গত ১৭ বছর ধরে তারেক লন্ডনে বসবাস করছেন। ২০০৮ সালে লন্ডনের চিকিৎসা করাতে গিয়ে আর দেশে ফেরেননি। ব্রিটেনেই রাজনৈতিক আশ্রয়ে রয়েছেন। খুব শিগগির তিনি দেশে ফিরবেন বলে এই প্রথম সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ঘোষণা করেছেন।
সেই সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব বিবিসি-বাংলা মঙ্গলবার সকালে প্রচার করেছে। সাক্ষাৎকারে বিদেশ নীতি নিয়ে দুটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। প্রশ্ন করা হয়েছিল বিএনপি সরকার গড়ার সুযোগ পেলে তাদের বিদেশ নীতি কেমন হবে। তারেক জিয়া জবাবে বলেছেন দেশের মানুষের স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব রক্ষা করাই হবে তাঁদের সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বিএনপি নেতা বলেছেন, বাংলাদেশ, শুধু বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় হবে তাঁদের সরকারের বিদেশ নীতি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দ্বিতীয় বার দেশের দায়িত্বভার নেওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প 'আমেরিকা ফার্স্ট' বিদেশ নীতি ঘোষণা করেছেন। আমেরিকার হারানো সমৃদ্ধি ফেরানোই তার লক্ষ্য হবে বলে ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প। তারেক কি মার্কিন প্রেসিডেন্টকেই অনুসরণ করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে তারেক জিয়া বলেছেন, 'আমি আমার দেশের স্বার্থের কথা বলছি। এটাই বিএনপি-র নীতি। অনেকেই মনে করছেন তার কার্যত 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতি ঘোষণা করে দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদকে ভোটের ময়দানে হাতিয়ার করার প্রস্তুতি নিয়েছেন। বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিএনপি বারে বারেই দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দেওয়ার অভিযোগ করেছে।
তারেক রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁরা সরকার গড়লে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক কেমন হবে। এই প্রশ্নের সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয়েছিল শেখ হাসিনার দিল্লিতে অবস্থানের বিষয়টি।
এই প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেছেন, অবশ্যই আমি আমার পানির হিস্যা চাই, অবশ্যই দেখতে চাই না আর এক ফেলানি ঝুলে (সীমন্ত হত্যা প্রসঙ্গে) আছে। অবশ্যই আমরা এটা মেনে নেব না। তিনি বলেন, আমি দুটো উদাহরণ দিয়ে বোঝালাম যে আমাদের স্ট্যান্ডটা কী হবে। আমরা আমাদের পানির হিস্যা চাই— অর্থাৎ আমাদের দেশের হিস্যা, দেশের মানুষের হিস্যা আমি চাই, হিসাব আমি চাই, আমার যেটা ন্যায্য সেটা আমি চাই। অবশ্যই ফেলানি হত্যার মাধ্যমে আমি বোঝাতে চেয়েছি যে আমার দেশের মানুষের ওপর আঘাত এলে, অবশ্যই সেই আঘাতকে এভাবে আমি মেনে নেব না।
সাক্ষাৎকারে তাঁকে বলা হয়, গত বছর ৫ অগস্ট আওয়ামী লিগ সরকারের পতনের পর শেখ হাসিনা দিল্লিতে গিয়েছেন এবং সেখানে আছেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের একটি শিথিলতা দেখা গেছে গত এক বছর ধরে। সেটি যাওয়া-আসার ক্ষেত্রে, ব্যবসার ক্ষেত্রে। বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেটা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেবেন কি না। জবাবে তারেক রহমান বলেন, এখন তারা (ভারত) যদি স্বৈরাচারকে সেখানে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের বিরাগভাজন হয়, সেখানে তো আমাদের কিছু করার নেই। এটা বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল থাকবে। তো আমাকে আমার দেশের মানুষের সঙ্গে থাকতে হবে।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে তারেক জিয়ার এই প্রতিক্রিয়া থেকে ভারতের সঙ্গে বিএনপি'র ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে খুব বেশি ধারণা তৈরির সুযোগ নেই। কারণ সাক্ষাৎকারে হাসিনার প্রত্যর্পণ প্রসঙ্গ আসেনি। আসেনি হাসিনা আমলে ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তি গুলির ভবিষ্যৎ প্রসঙ্গ। ইউনুস সরকারের বিরুদ্ধে ভারতের সবচেয়ে বড় অভিযোগ সংখ্যালঘুদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন নিয়ে। এই বিষয়েও বিএনপি তথা তারেক জিয়ার মনোভাব সম্পর্কে কোন প্রশ্ন সাক্ষাৎকারে ছিল না। বিএনপি অতীতে একাধিকবার হাসিনা আমলের চুক্তি পর্যালোচনা, প্রয়োজনে বাতিলের কথা বলেছে। কিন্তু তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হলে কি করবেন সেই প্রসঙ্গ আসেনি। অনেকেই মনে করছেন ওইসব প্রসঙ্গ এলে ভারত সম্পর্কে বিএনপি নেতার মনোভাব আরও বেশি স্পষ্ট হতো।