Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কাস্কি, ক্যান্ডেললাইট ডিনার আর পরিবার, বিয়ের জন্মদিনে কোন স্মৃতিতে ভাসলেন আলিয়া? পরপর দু’বার ছাঁটাই! চাকরি হারিয়ে 'বিহারি রোল' বানানো শুরু, এখন মাসে আয় ১.৩ কোটিনববর্ষে সস্তায় পেটপুরে খাওয়া! দুই বাংলার মহাভোজ একই থালিতে, হলিডে ইন-এ শুরু হচ্ছে ‘বৈশাখী মিলনমেলা’কষা মাংস থেকে কাটলেট! নববর্ষে তাজের সমস্ত হোটেলে জিভে জল আনা ভোজ, রইল সুলুকসন্ধানপিএসএল ছেড়ে আইপিএলে আসার কড়া মাশুল! ২ বছরের জন্য সাসপেন্ড কেকেআরের এই পেসার রণবীর-দীপিকার ৮ বছরের দাম্পত্যে বিচ্ছেদ! স্বামীর সঙ্গে বাড়তে থাকা দূরত্বই কি ডিভোর্সের কারণ?'বিজেপির কথায় চললে আমাদের কাছেও তালিকা থাকবে', পুলিশ কর্তাদের চরম হুঁশিয়ারি ব্রাত্য বসুর!একসময় নীতীশকেই কুর্সি থেকে সরানোর শপথ নিয়েছিলেন! তাঁর ছেড়ে যাওয়া পদেই বসলেন শকুনি-পুত্র‘একজনকে ধরলে হাজার জন বেরোবে...’, আইপ্যাক ডিরেক্টর গ্রেফতারের পরই নাম না করে হুঁশিয়ারি মমতার

গৃহবধূ থেকে যেভাবে দলের সভানেত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাজনীতিতে উজ্জ্বল খালেদা

সরকার পরিচালনায় খালেদার পদক্ষেপ ঘিরে নানা সময় বিতর্ক দেখা দিলেও দলনেত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের ভূমিকা অতুলনীয়‌। 

গৃহবধূ থেকে যেভাবে দলের সভানেত্রী এবং দেশের প্রধানমন্ত্রী হয়ে রাজনীতিতে উজ্জ্বল খালেদা

গৃহবধূ থেকে যেভাবে প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা

অর্পিতা দাশগুপ্ত

শেষ আপডেট: 30 December 2025 09:36

দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিনটা ছিল ১৯৮১-র ৩০ মে।‌ আগের দিন রাষ্ট্রপতি তথা খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) স্বামী জিয়াউর রহমান গিয়েছিলেন চট্টগ্রামে বিএনপি'র (BNP) দলীয় বৈঠকে যোগ দিতে। ‌৩০ মে খুব সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি ভবনের খবর আসে জিয়াউর রহমানকে (Ziaur Rahman) বিক্ষুব্ধ সেনা সদস্যরা চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। বস্তুত সেই দিন থেকেই শুরু হয়ে যায় খালেদা জিয়ার জীবনের নতুন পর্ব। ‌ জিয়া হত্যাকাণ্ডের কয়েক বছরের মাথায় তিনি হয়ে ওঠেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে অত্যন্ত আলোচিত চরিত্র এবং কয়েক বছরের মাথায় দেশের প্রধানমন্ত্রী হন। ‌

ঘটনাচক্রে জিয়া হত্যার ১৩ দিন আগে দীর্ঘ প্রবাদ জীবন কাটিয়ে দেশে ফেরেন আওয়ামী লিগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

জহুর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় বাংলাদেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন  বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।‌ সাংবিধানিক শূন্যতা পূরণে তিনি অস্থায়ী প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেন।‌ যদিও সরকারের নিয়ন্ত্রণ ছিল সেনাবাহিনী বিশেষ করে সেনাপ্রধান হোসেন মহম্মদ এরশাদের হাতে।‌ তখন ৭৮ বছর বয়সি বিচারপতি সাত্তার ছিলেন দুর্বল প্রকৃতির মানুষ।‌ সেই সুযোগে বাংলাদেশ জুড়ে অরাজকতা শুরু হয়ে যায়। চুরি ডাকাতি রাহাজানের মত আইন-শৃংখলার সমস্যা তো ছিলই সেইসঙ্গে বাড়তে থাকে রাজনৈতিক অস্থিরতা। তুমুল উৎসাহ উদ্দীপনা তৈরি হয়েছিল শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তনকে ঘিরেও। ‌নতুন উদ্যমে তখন আওয়ামী লিগ সদ্য ময়দানে নেমেছে।‌

দুই নেত্রীর রাজপথে আন্দোলনের গতিপ্রকৃতি দেখে সবচেয়ে বেশি চিন্তায় পড়ে হোসেন মহম্মদ শেষ এর সাথে নেতৃত্বাধীন সেনাবাহিনী। এরশাদ বুঝে যান বিলম্ব করলে তার পক্ষে ক্ষমতার রাষ্ট্র টেনে ধরা কঠিন হবে। তিনি বিশেষভাবে ভয় পাচ্ছিলেন সদ্য স্বামীহারা খালেদা জিয়াকে (Khaleda Zia)।‌ কারণ বিএনপির অভ্যন্তরে তখন দুটি মত ছিল। একটি মতের অনুসারীরা বলছিলেন বিচারপতি সাত্তারকে ক্ষমতায় রেখে দল গুছিয়ে নিন খালেদা। ‌আরেকটি পক্ষের বক্তব্য ছিল যত বিলম্ব হবে ততই সেনাবাহিনী দেশেররা নিজেদের হাতে তুলে নেবে। হলে যত দ্রুত সম্ভব দলের শীর্ষ পদের বসে খালেদার উচিত রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে নেওয়া। ‌এই দ্বিতীয় কৌশলটি জানতে পেরেই কালক্ষেপ করেননি সেনাপ্রধান এরশাদ।

দেশে অরাজকতা চলছে ঘোষণা করে একদিন বিনা রক্তপাতেই তিনি বিচারপতি সাত্তারকে সরিয়ে দিয়ে দেশের ভার নিজের কাছে তুলে নেন। ক্রমে নতুন প্রেসিডেন্ট এরশাদ ও তার পূর্বসূরী জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করেই প্রথমে তার ক্ষমতা দখলকে বৈধতা দিতে হাস্যকর গণভোটের আয়োজন করেন। ‌ তারপর নিজেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তৈরি করে সরাসরি রাজনীতি এবং নির্বাচনের ময়দানে নেমে আসেন।। ‌

এরশাদের দমন পীড়নের বিরুদ্ধে সেই পর্বে একযোগে ময়দানে আন্দোলনে নেমেছিলেন খালেদা জিয়া (Khaleda Zia) ও শেখ হাসিনা (Seikh Hasina)। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে সেই যৌথ আন্দোলনে জেরে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসে ১৯৯০-'৯১-এ। দুই নারীর যৌথ আন্দোলনের ধাক্কায় এক পর্যায়ে হুসাইন মোহাম্মদ এরশাদ প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন। বাংলাদেশের ওই পর্বকে বলা হয়ে থাকে গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তন। ১৯৯১-এ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদার নেতৃত্বে জয়ী হয় বিএনপি। ‌ বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। ‌

তিনি তৃতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন ২০০১ সালে। এর আগে ৯৬ সালেই জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দ্বিতীয়বারের জন্য প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেছিলেন খালেদা।  সেই নির্বাচন বয়কট করেছিল আওয়ামী লিগ এবং জামাত ইসলামের সহ একাধিক দল। ‌ ফলে সরকার টেকাতে পারেননি খালেদা। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লিগের তুমুল আন্দোলনের মুখে মাসখানেকের মধ্যেই খালেদাকে পদত্যাগ করে নতুন করে নির্বাচনের ডাক দিতে হয়। ‌সেই নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবার প্রধানমন্ত্রী হন শেখ হাসিনা। ২০০১ এ হাসিনা সরকারের পতন হয়। ‌ক্ষমতায় ফেরেন খালেদা। ‌

২০০৬ পর্যন্ত তার সেই সরকারের কাজকর্ম ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত। বিশেষ করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারত বিরোধী শক্তির মাথাচাড়া দেওয়া সেই সময় মাত্রা ছাড়িয়ে ছিল। ‌চট্টগ্রাম বন্দরে দশ ট্রাক  অস্ত্র উদ্ধার হয় সেই সময়। তদন্তে জানা যায় খালেদা সরকারের প্রত্যক্ষ মদতে পাকিস্তানের উদ্যোগে চিন থেকে ওই অস্ত্র আনানো হয়েছিল ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির জঙ্গিগোষ্ঠীকে সরবরাহ করতে।

খালেদার শাসনের ওই সময়েই বাংলাদেশে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের তৎপরতা মাত্রা ছাড়া দেওয়ার পাশাপাশি দেশ প্রবলভাবে মৌলবাদের দিকে ঢুকতে থাকে। পাকিস্তানপন্থী একাধিক জঙ্গি সংগঠন বাংলাদেশে সমান্তরাল প্রশাসন চালাতে শুরু করে। ‌ নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে একদিনে দেশের সাতটি জেলায় বিস্ফোরণ ঘটায় জঙ্গিরা। খালেদার শাসনের ওই পর্বেই ‌ ২০০৪ সালে ঢাকায় তৎকালীন বিরোধী নেত্রী শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। ‌ হামলায় হাসিনা বেঁচে গেলেও দলের নেতাকর্মী মিলিয়ে ২২ জন নিহত হন। ‌ ওই ঘটনায় ষড়যন্ত্রী হিসেবে অভিযুক্ত হয়েছিলেন খালেদা পুত্র তারেক জিয়া।‌ বাংলাদেশের উচ্চ আদালত চলতি বছরে সেই মামলা থেকে তারেককে খালাস দিয়েছে।

সরকার পরিচালনায় খালেদার পদক্ষেপ ঘিরে নানা সময় বিতর্ক দেখা দিলেও দলনেত্রী হিসেবে বিএনপি চেয়ারপারসনের ভূমিকা অতুলনীয়‌। তিনি আওয়ামী লিগকে মোকাবিলা করতে গিয়ে বিএনপিকে সমান্তরালভাবে দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল হিসেবে গড়ে তোলেন। ‌

তাৎপর্যপূর্ণ হলো তিনি আওয়ামী লিগ এবং ভারতকে একই বন্ধনীতে দেখা শুরু করেন। ‌খালেদার জমানায় বাংলাদেশ ছিল একটি ভারত বিরোধী ভূখণ্ড। ‌ তবে সে দেশের রাজনৈতিক মহল একবাক্যে বিশ্বাস করে স্বল্প শিক্ষিত এবং গৃহবধূ খালেদা দলকে গড়ে তুলতে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। কারণ দাম্পত্য জীবনে তার সঙ্গে সাধারণ জনজীবনের সম্পর্ক তেমন একটা ছিল না। বিয়ের পর থেকেই তিনি সেনা নিবাসে কাটিয়েছেন। ‌

আরেক নেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে এখানেই খালেদার মস্ত বড় ফারাক। ‌ হাসিনা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় থেকে রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন। দীর্ঘ সময় ছিলেন বাবা শেখ মুজিবুর রহমানের ছায়া সঙ্গী। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি ছাত্র রাজনীতির সুবাদে দেশের স্বাধিকার এবং স্বাধীনতা আন্দোলনেও ভূমিকা রাখেন।

অন্যদিকে খালেদার স্বামী জিয়াউর রহমান ছিলেন সেনা বাহিনীর কর্তা। সরাসরি রাজনীতির সঙ্গে তারও কোন সম্পর্ক ছিল না। ফলে জিয়ার মৃত্যুর আগে খালেদার রাজনীতিতে হাতে করে হওয়ার কোন সুযোগ আসেনি। কিন্তু জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দ্রুত তিনি দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করেন। দলে তার নিয়ন্ত্রণ যে অবিসংবাদি ছিল তার সবচেয়ে বড় প্রমাণ শেখ হাসিনার বিগত ১৫ বছর ৮ মাসের জমানা। হাসিনা সরকারের দমন পিরনের মুখেও তিনি দলকে অটুট রাখতে সক্ষম হন। 

বিশেষ করে হাসিনা সরকার ক্ষমতায় আসার আগে থেকেই দুর্নীতির অভিযোগে জেলে বন্দি ছিলেন খালেদা (Bangladesh Former PM Khaleda Zia)।‌ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর মানবিক কারণে তাঁকে জেলের পরিবর্তে বাড়িতে থাকার অনুমতি দেন। কিন্তু সালেদা ততদিনে নানা রোগভোগে কাবু হয়ে পড়েন। ‌ফলে মৃত্যুর আগে থেকে দীর্ঘ কয়েক বছর তাঁকে হাসপাতালে কাটাতে হয়।‌ অন্যদিকে তার পুত্র তারেক জিয়া রাজনৈতিক নির্বাচনে গত ১৭ বছর ছিলেন লন্ডনে। কিন্তু আওয়ামী লিগ বিএনপিকে ভাঙ্গা তো দূরের কথা চিড় ধরাতে পারেনি তেমন একটা।‌


```