বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার খর্ব করতে ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসা বাড়ানো হচ্ছে।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 17 January 2026 19:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ফের সংখ্যালঘু নির্যাতনের (Bangladesh Minority Attack) অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য। জ্বালানির টাকা না মিটিয়ে পালানোর চেষ্টা ঠেকাতে গিয়ে এক হিন্দু যুবককে (Hindu) গাড়ির চাকায় পিষে হত্যার অভিযোগ উঠল। মৃত যুবকের নাম রিপন সাহা (৩০)। তিনি রাজবাড়ি জেলার গোয়ালন্দ মোড় এলাকার একটি পেট্রোল পাম্পে (Bangladesh Petrol Pump Attack) কর্মরত ছিলেন।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটে নাগাদ রাজবাড়ির করিম ফিলিং স্টেশনে একটি কালো এসইউভি গাড়ি জ্বালানি (Bangladesh Petrol Pump Incident) নেয়। জ্বালানির মূল্য ছিল বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩,৭১০ টাকা (ভারতীয় মুদ্রায় আনুমানিক সমপরিমাণ)। অভিযোগ, টাকা না দিয়েই গাড়িটি বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে রিপন সাহা গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাকে আটকানোর চেষ্টা করেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, চালক কোনও তোয়াক্কা না করেই গাড়িটি এগিয়ে দেন। এসইউভির চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় রিপন সাহার। ঘটনার পর গাড়ি নিয়ে চম্পট দেয় অভিযুক্তরা।
পুলিশ পরে গাড়িটি উদ্ধার করে এবং এর মালিক আবুল হাসেম ওরফে সুজন (৫৫) এবং চালক কামাল হোসেন (৪৩)-কে গ্রেফতার করে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবুল হাসেম রাজবাড়ি জেলা বিএনপির প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ এবং জেলা যুবদলের প্রাক্তন সভাপতি ছিলেন। পেশায় তিনি একজন ঠিকাদার।
এই ঘটনাকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণের সাম্প্রতিকতম উদাহরণ বলেই দেখছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলি। ২০২২ সালের জনগণনা অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রায় ১ কোটি ৩১ লক্ষ হিন্দু বসবাস করেন, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭.৯৫ শতাংশ।
বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, আসন্ন সাধারণ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংখ্যালঘুদের ভোটাধিকার খর্ব করতে ইচ্ছাকৃতভাবে সাম্প্রদায়িক হিংসা বাড়ানো হচ্ছে। তাদের দাবি, শুধু ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসেই দেশজুড়ে অন্তত ৫১টি সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।
এদিকে, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচারের প্রশ্নে বাংলাদেশকে কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছে ভারতও। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সংখ্যালঘুদের উপর হামলাকে ‘ব্যক্তিগত বিবাদ’ বা অন্য কারণ দেখিয়ে লঘু করার প্রবণতা উদ্বেগজনক। ভারতের মতে, এই ধরনের ব্যাখ্যা চরমপন্থী শক্তিকেই আরও উৎসাহ জোগাচ্ছে।
সব মিলিয়ে, রাজবাড়ির এই ঘটনা আবারও বাংলাদেশের সংখ্যালঘু নিরাপত্তা, রাজনৈতিক প্রভাব এবং আইনের শাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিল।