স্থানীয় থানার পুলিশ বলেছে এই ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনার পর পরই অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হয়েছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 18 January 2026 21:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে ফের হিন্দু (hindu death in Bangladesh) ধর্মাবলম্বী এক ব্যক্তিকে ধর্মীয় বিদ্বেষ (communal violence) জনিত কারণে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার অদূরে গাজীপুর এলাকায়।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তির নাম লিটন চন্দ্র ঘোষ। গাজীপুরের কালীগঞ্জের বালিগাঁও এলাকায় তাঁর মিষ্টির দোকান আছে। ওই ঘটনায় পুলিশ একই পরিবারের এক মহিলা সহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। পুলিশের দাবি এই হত্যাকাণ্ড সাম্প্রদায়িক সহিংসতা জনিত নয়। তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে দু পক্ষের মধ্যে তর্কাতর্কি থেকে হাতাহাতি শুরু হয়। লিটন চন্দ্র ঘোষ উপজেলার চান্দাইয়া এলাকার নির্মল চন্দ্র ঘোষের ছেলে। ধৃতরা হল, স্বপন মিয়া, তার স্ত্রী মাজেদা বেগম ও ছেলে মাসুম মিঞা।
পুলিশ জানিয়েছে, মিষ্টি কেনা নিয়ে মাসুম মিঞার সঙ্গে নিহত ব্যবসায়ীর দোকানের এক কর্মচারীর বিবাদ হয়েছিল। তাদের মধ্যে তর্কাতর্কি হাতাহাতিতে গড়ালে মাসুমের মা ও বাবা ঘটনাস্থলে যান। কিছুক্ষণ পর লিটন চন্দ্র ঘোষ দোকানে গেলে তার ওপর হামলা হয়। বেলচা দিয়ে তার মাথায় আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।
স্থানীয় থানার পুলিশ বলেছে এই ঘটনার সঙ্গে ধর্মীয় বিদ্বেষের কোনও সম্পর্ক নেই। ঘটনার পর পরই অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
এদিকে মানবাধিকার সংগঠন রাইটস অ্যান্ড রিস্কস অ্যানালিসিস গ্রুপ (RRAG) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, 'গত ৪৮ দিনে, অর্থাৎ ১ ডিসেম্বর ২০২৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত ব্যক্তিদের দ্বারা অন্তত ১৬ জন সংখ্যালঘু হিন্দুকে হত্যা করা হয়েছে—অর্থাৎ প্রতি তিন দিনে একজন হিন্দু নিহত হয়েছে। ১১ জানুয়ারি খুন হন সমীর দাস ও প্রলয় চাকি; ১০ জানুয়ারি জয় মহাপাত্র; ৬ জানুয়ারি মিঠুন সরকার ও শরৎ মণি চক্রবর্তী; ৫ জানুয়ারি রানা প্রতাপ বৈরাগী; ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে খোকন চন্দ্র দাস; ২৯ ডিসেম্বর বজেন্দ্র বিশ্বাস; ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডল; ১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাস; ১২ ডিসেম্বর শান্ত চন্দ্র দাস; ৭ ডিসেম্বর যোগেশ চন্দ্র রায় ও সুবর্ণা রায়; এবং ২ ডিসেম্বর প্রান্তষ কর্মকার ও উৎপল সরকার।
ওই সংগঠন জানিয়েছে নিহতদের মধ্যে ছিলেন বয়স্ক নারী যেমন সুবর্ণা রায় এবং ১৮ বছর বয়সি যুবক শান্ত চন্দ্র দাস। সব হত্যাকাণ্ডই ছিল পূর্বপরিকল্পিত এবং নিহতদের সম্পদের ওপর লক্ষ্য রেখে সংঘটিত হয়েছে। যেমন সমীর দাস ও শান্ত চন্দ্র দাসের অটো-রিকশা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। রানা প্রতাপ বৈরাগী, শান্ত চন্দ্র দাস, যোগেশ চন্দ্র রায় এবং সুবর্ণা রায়ের মতো কয়েকটি হত্যাকাণ্ড তালেবান-ধাঁচে গলা কেটে করা হয়েছে। এসব হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশজুড়ে হিন্দু ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে প্রতিদিন সংঘটিত সহিংসতার সামান্য অংশ। সহিংসতার অধিকাংশই গণমাধ্যমে প্রকাশ পায় না বলে দাবি আরআরএজি'র পরিচালক সুহাস চাকমার।
তিনি বলেছেন, 'বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের এই চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থান এখন নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। আওয়ামী লিগ বা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)—পূর্ববর্তী সরকারগুলোর তুলনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার প্রায়শই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই এসব হামলার ধর্মীয় দিক অস্বীকার করছে।