রবিবার ট্রাইবুনালে হাজির হয়ে প্রবীণ এই আইনজীবী নিজেই আবেদন করেন তাঁকে শেখ হাসিনার হয়ে মামলা লারার অনুমতি দেওয়া হোক।

শেষ আপডেট: 23 November 2025 23:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে এবার গুম-খুনের মামলায় জোর কদমে শুনানির (case hearing) তোড়জোড় শুরু হয়েছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, রবিবার এই মামলা নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের (Bangladesh Supreme court) প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান পান্না শেখ হাসিনার হয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে লড়াই করবেন। রবিবার ট্রাইবুনালে হাজির হয়ে প্রবীণ এই আইনজীবী নিজেই আবেদন করেন তাঁকে শেখ হাসিনার হয়ে মামলা লারার অনুমতি দেওয়া হোক। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি গোলাম মোর্তুজা মজুমদার সঙ্গে সঙ্গে আরজি মঞ্জুর করেন।
গুমের মামলায় হাসিনার সঙ্গেই সহ অভিযুক্ত হলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৩১ জন কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। তাঁদের মধ্যে কর্মরত ১৩ জন অফিসার বর্তমানে ঢাকা সেনানিবাসে অস্থায়ী কারাগারে বন্দি।
রবিবার ট্রাইবুনালে সেনা অফিসারদের তরফে অনুরোধ করা হয় তাদের বিচার অনলাইনে করা হোক। তাঁরা ট্রাইবুনালে সশরীরে হাজির হতে চাইছে না। তবে সেই আর্জি খারিজ করে দিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান। তিনি সেনা আইনজীবীকে বলেন, ট্রাইব্যুনালে যদি সাবেক মন্ত্রী সংসদ পুলিশ কর্মকর্তারা আসতে পারেন তাহলে সেনা অফিসারেরা কেন পারবেন না। ট্রাইবুনালের কাছে সব অভিযুক্তই সমান।
গুমের দুটি মামলায় ১৩ সেনা কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারা হলেন— র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ মাহাবুব আলম, ব্রিগেডিয়ার কে এম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন ও কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (এখন অবসরকালীন ছুটিতে), র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সাবেক পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহম্মদ মশিউর রহমান, লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন, লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহম্মদ সারওয়ার বিন কাশেম ও ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মেজর জেনারেল শেখ মহম্মদ সরওয়ার হোসেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মহম্মদ মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকী ও ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আহমেদ তানভির মাজাহার সিদ্দিকী।
দুটি মামলায় মূল অভিযোগ হাসিনার সময় তার নির্দেশে নিরাপত্তা বাহিনী র্যাব বিরোধী দলের লোকজনকে অপহরণ করে গোপন কুঠুরিতে আটকে রেখে অত্যাচার চালাতো।
ট্রাইবুনালে হাসিনার বিরুদ্ধে প্রথম মামলায় তার এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। সেই মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবীর ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন শেখ হাসিনা। ট্রাইবুনাল আইনে বলা আছে অভিযুক্ত আইনজীবী দিতে না পারলে বা তার অনুপস্থিতিতে বিচার হলে রাষ্ট্রকে আইনজীবী দিতে হবে। সেই আইনজীবী অভিযুক্তের হয়ে আদালতে সওয়াল করবেন। প্রথম মামলায় রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হাসিনার হয়ে জোরালো সাওয়াল করেননি বলে আওয়ামী লীগের অভিযোগ। এমনকী, হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে নির্দোষ দাবি করে তিনি ট্রাইবুনালে যে সওয়াল করেন তা নিছকই নিয়মতান্ত্রিক বলে বিচারপতির উদ্দেশে আইনজীবীকে বলতে শোনা যায়। এই সংক্রান্ত একটি ভিডিও ভাইরাল হলে খুব উগরে দেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী।
রবিবার মামলার চার্জ গঠন সংক্রান্ত আলোচনার সময় যেটাই খান পান্না ট্রাইবুনালে আর্জি জানান, তাঁকে যেন হাসিনার হয়ে মামলা লড়তে দেওয়া হয়। গত বছর হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের হওয়ার সময়ই তিনি দ্য ওয়াল-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন তাঁর ইচ্ছার কথা। কিন্তু প্রথম মামলায় তাঁকে। রাষ্ট্রীয় পক্ষের আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সাক্ষাৎকারে তিনি আরও বলেছিলেন, শেখ হাসিনা দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন এটা তারূ কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা। তার এই পরিচয়ের কারণেই তিনি নিখরচায় হাসিনার মামলা লড়তে আগ্রহী। প্রবীণ এই আইনজীবী তরুণ বয়সে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।