Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

নিউইয়র্কে ইউনুস বিরোধী বিক্ষোভে নেপথ্যের কাণ্ডারী' হাসিনা পুত্র জয়, উজ্জীবিত আওয়ামী লিগ

নিউইয়র্কে ইউনুস বিরোধী বিক্ষোভ ঘিরে তোলপাড় রাজনীতি! নেপথ্যে হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, অভিযোগে সরব বিএনপি ও এনসিপি। আওয়ামী লিগ দাবি করছে বিক্ষোভে নতুন শক্তি পেয়েছে দল।

নিউইয়র্কে ইউনুস বিরোধী বিক্ষোভে নেপথ্যের কাণ্ডারী' হাসিনা পুত্র জয়, উজ্জীবিত আওয়ামী লিগ

ফাইল চিত্র

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 23 September 2025 15:02

দ্য ওয়াল ব্যুরো: নিউইয়র্কে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লিগের বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে উথাল-পাতাল শুরু হয়েছে। বিএনপি, জামায়াতে ইসলামি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি আওয়ামী লিগকে নিশানা করার পাশাপাশি নিউইয়র্কে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। দলগুলির বক্তব্য, বাংলাদেশ মিশনের অফিসাররা প্রধান উপদেষ্টা ও তাঁর সফরসঙ্গীদের নিরাপত্তা নিয়ে স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে উপযুক্ত পদক্ষেপ না করাতেই আওয়ামী লিগ একতরফা বিক্ষোভ করতে পেরেছে। সফরসঙ্গী এনসিপি নেতা আজতার হোসেনের গায়ে ডিম নিক্ষেপ করতে পেরেছে।

এদিকে, বিএনপি নেতা সোলাইমান রহমানের অভিযোগের ভিত্তিতে নিউইয়র্ক পুলিশ মিজানুর রহমান নামে এক যুব লিগ কর্মীকে আটক করেছে। বিএনপির অভিযোগ, মিজানুর ছুরি দিয়ে সোলাইমানকে আঘাত করার চেষ্টা করেছিল। এই ঘটনার পর ইউনুস ও তাঁর সফরসঙ্গীদের হোটেলের বাইরে নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ। বাংলাদেশ সরকারের তরফেও ইউনুসদের নিরাপত্তা জোরদার করার আজি জানানো হয়েছে নিউইয়র্ক পুলিশের কাছে।

এদিকে, ইইনুসের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে উজ্জীবিত আওয়ামী লিগ। দলীয় সূত্রে দাবি করা হচ্ছে, নিউইয়র্কের বিক্ষোভের ঘটনা গোটা বিশ্বে আওয়ামী লিগের নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন তুমুল উৎসাহ তৈরি হয়েছে। দলের একাধিক সূত্র জানাচ্ছে দলনেত্রী শেখ হাসিনার মার্কিন প্রবাসী পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় ইউনুস বিরোধী কর্মসূচির নেপথ্যের কাণ্ডারী। তিনিই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লিগের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে বিক্ষোভের পরিকল্পনা ছকে দিয়েছেন।

আওয়ামী লিগের একাধিক নেতা জানাচ্ছেন, গত বছর ৫ অগস্ট তাঁর মায়ের সরকারের পতনের পর থেকেই দলের জন্য বাড়তি সময় দিচ্ছেন জয়। খাতায়কলমে তিনি আওয়ামী লিগের কোনও সাংগঠনিক পদে নেই। তিনি দলের সাধারণ সদস্য মাত্র।

আওয়ামী লিগ নেতৃত্ব অনেক দিন ধরেই ভাবনাচিন্তা  করছিল দলের বড় কোনও কর্মসূচি বাস্তবায়নের ভার জয়কে দিতে। এতদিন তিনি আওয়ামী লিগের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মসহ দলের সামগ্রিক প্রচার পরিকল্পনার দায়িত্ব পালন করছিলেন।

নিউইয়র্কের বিক্ষোভের পর বিএনপি তীব্র আক্রমণ শানিয়েছে হাসিনা পুত্রকে। দলের নেতা মণিরুল ইসলাম অভিযোগ করেছেন, মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর সফরসঙ্গীদের বিরুদ্ধে তাণ্ডবের মূল হোতা  সজীব ওয়াজেদ জয়। তিনি টাকা পয়সাও ঢেলেছেন। ওই বিএনপি নেতার  দাবি, জয় বাংলাদেশের কেউ নন। তিনি এখন মার্কিন নাগরিক। এমন ব্যক্তি কী করে বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার বিরুদ্ধে বিক্ষোভের কলকাঠি নাড়ছে। বাংলাদেশ সরকারের উচিত পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মার্কিন প্রশাসনের উপর চাপ তৈরি করা।

এদিকে নিউইয়র্কের ঘটনা নিয়ে এনসিপি ডায়াস্পোরা অ্যালায়েন্স এক বিবৃতি দিয়েছে। তারা বলেছে, আমরা গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, সরকারি আমন্ত্রণে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট সফরে অংশগ্রহণকারী জাতীয় নাগরিক পার্টির নেতা জনাব আখতার হোসেন ও তাসনিম জারার ওপর বাংলাদেশ আওয়ামী লিগের সমর্থক সন্ত্রাসীরা ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনা শুধু রাজনৈতিক সহিংসতার বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং রাষ্ট্রের কূটনৈতিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ব্যর্থতার উদাহরণ।

আমরা প্রশ্ন রাখছি—যদি সরকারি সফরের অংশগ্রহণকারীরা ন্যূনতম নিরাপত্তা না পান, তবে বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি কনস্যুলেট ও দূতাবাসগুলোর অস্তিত্বের যৌক্তিকতা কোথায়? তারা কাদের স্বার্থে কাজ করছে, আর কেন এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না?

বাংলাদেশ সরকার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রীয় সফররত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা প্রদানে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। আমরা বাংলাদেশ সরকারের কাছে এই বিষয়ে অবিলম্বে দৃঢ় পদক্ষেপের দাবি জানাই।

তারা তিনটি দাবি সরকারের কাছে পেশ করেছে। 
১.  বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকার এবং নিউ-ইয়র্ক শহরের সরকার ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সরাসরি অভিযোগ করতে হবে।

নিউইয়র্কের বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল সহ সম্পূর্ণ ফরেন সার্ভিস টিমকে অবিলম্বে চাকরিচ্যুত করতে হবে।

সফরের পরবর্তী অংশের জন্য প্রত্যেক সফররত নেতাদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

সংগঠনটি জানিয়েছে, আখতার হোসেন ও তাসনিম জারার সঙ্গে এই হামলার সময় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সহ অন্যান্য সফরসঙ্গীরাও ছিলেন এবং তাঁরাও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়েন। কিন্ত  এই হামলার প্রধান লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে মূলত এনসিপি নেতৃবৃন্দকে। জুলাই বিপ্লবের সময় যারা জীবনবাজি রেখে লড়েছিলেন, তাদের প্রতি প্রতিশোধপরায়ণ হামলাকারীদের ক্ষোভ আজও থামেনি। আখতার হোসেনকে খুনি হাসিনা সরকার জুলাইতে গ্রেফতার করে নির্যাতন চালায়। যিনি গণআন্দোলনের জন্য নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলেছিলেন, আজও সেই সংগ্রামের মূল্য দিতে হচ্ছে। এটা অন্তর্বর্তী সরকারের চরম ব্যর্থতা।

আমরা স্পষ্টভাবে জানাচ্ছি—বিদেশি মাটিতে আওয়ামী লিগের এ ধরণের সন্ত্রাসী হামলা শুধু প্রবাসী বাংলাদেশিদের নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং বাংলাদেশের মর্যাদা ও গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্যও হুমকিস্বরূপ। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছি।


```