ত্রিপুরার লাগোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউরা স্থল সীমান্ত দিয়ে সোমবার ওই চাল পাঠানো হয়েছে। ওই চাল দিল্লিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ রাজধানীর বিশিষ্টজনকে দেশের তরফে উৎসবের উপহার হিসাবে দেবেন।

শেষ আপডেট: 22 September 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ সরকার ৫০০ কেজি চিনিগুড়া চাল পাঠাচ্ছে ভারতে। ত্রিপুরার লাগোয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে আখাউরা স্থল সীমান্ত দিয়ে সোমবার ওই চাল পাঠানো হয়েছে। ওই চাল দিল্লিতে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ রাজধানীর বিশিষ্টজনকে দেশের তরফে উৎসবের উপহার হিসাবে দেবেন।
চিনিগুঁড়া হল বাংলাদেশের অন্যতম বিখ্যাত সুগন্ধি চাল। মিষ্টি সুবাস ও ছোট দানার জন্য জনপ্রিয় এই চাল চিনির দানার আকৃতির হওয়ায় এমন নাম। এটি মূলত পোলাও পায়েস রান্নায় ব্যবহার করা হয়। ভারতে দুর্গাপুজো ও নবরাত্রির উৎসব শুরু হয়ে গিয়েছে৷ এই সময় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যেতে নানাভাবে বন্ধুত্বের বার্তা দিচ্ছে ঢাকা, যা সফট ডিপ্লোম্যাসির অঙ্গ।

দিল্লিতে বাংলাদেশের জামদানি প্রদর্শনীর উদ্বোধনে পরিচালক মুজফফর আলি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সুনীতা কোহলি এবং ভারতের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ।
দু'দিন আগেই দিল্লিতে শুরু হয়েছে জামদানি উৎসব। বাংলাদেশের নবনিযুক্ত হাই কমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে কম কথা বলার কৌশল নিয়েছেন। পাশাপাশি প্রথাগত কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনার বাইরে ব্যক্তিগত সখ্য গড়ে তোলার চেষ্টা চালাচ্ছেন। ভারতের আলিগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী হামিদুল্লাহর প্রচুর বন্ধুজন এদেশে আছেন। সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে পুরনো পরিচয় কাজে লাগাচ্ছেন তিনি। সমর্থনও পাচ্ছেন। দিল্লির জামদানি উৎসবে হাজির ছিলেন প্রখ্যাত পরিচালক মুজফফর আলি ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনার সুনীতা কোহলি। উমরাওজান সিনেমায় রেখাকে জামদানি পরিয়ে ঢাকাই জামদানির সঙ্গে ভারতের নবসংযোগ ঘটিয়েছিলেন মুজফফর আলি। ওই শাড়ির বৈশিষ্ট্য, কীভাবে তা বোনা হয় তারই প্রদর্শনী ব্যবস্থা দিল্লির ন্যাশনাল ক্র্যাফটস মিউজিয়াম ও হস্তকলা অ্যাকাদেমিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ হাই কমিশন।
মাস দুই আগে কলকাতায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এসে শহরের বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিকের সঙ্গে দেখা করে গিয়েছেন হাই কমিশনার হামিদুল্লাহ। হাসিনা সরকারের পতনের পর দু দেশের সম্পর্ক হঠাৎই তলানিতে গিয়ে ঠেকেছিল গত বছর। বিগত কয়েক মাসে টানাপোড়েন অনেকটাই কমেছে। দু দেশের সাধারণ মানুষ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বও অবস্থান বদলেছেন। সংলাপে জোর দিচ্ছে দু পক্ষই। হাই কমিশনার হামিদুল্লাহর 'কথা কম কাজ বেশি' নীতি তাতে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে। দু দেশের জনসাধারণের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন জোরকদমে।
সপ্তাহ দুয়েক আগে বাংলাদেশ সরকার পুজোর মধ্যে ১২০০ মেটিক টন ইলিশ ভারতে রপ্তানির সিদ্ধান্ত নেয়। বাংলাদেশে এবার স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে কম ইলিশ উৎপাদন হয়েছে। সে দেশের বাজারে ইলিশের দাম বেশ চড়া। ভারতকে ইলিশ দেওয়া নিয়ে বাংলাদেশে প্রতিবাদ শুরু করেছে একদল লোক। তা সত্ত্বেও বাংলাদেশ সরকার এবার ইলিশ রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। এই সিদ্ধান্তের পিছনেও বাংলাদেশের দিল্লির হাই কমিশনার অফিস এবং ঢাকার বিদেশ মন্ত্রকের বিশেষ ভূমিকা ছিল। এর আগে ইউনুস সরকার ভারতের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও কয়েকজন মুখ্যমন্ত্রীকে সে দেশের বিখ্যাত হাঁড়িভাঙা আম উপহার পাঠায়।