হাসিনা কন্যার বিরুদ্ধে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও জালিয়াতির অভিযোগ আছে। বাংলাদেশে এ নিয়ে প্রত্যারণা, জালিয়াতি, নথি জালের অভিযোগে মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।

মেয়ে পুতুলের সঙ্গে হাসিনা।
শেষ আপডেট: 12 July 2025 12:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু’র (WHO) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের (SEARO) অধিকর্তার পদ থেকে দীর্ঘ ছুটিয়ে পাঠানো হল সায়মা ওয়াজেদ পুতুল (Saima Wazed Putul, daughter of Sheikh Hasina)। শুক্রবার থেকে তাঁর অনির্দিষ্টকালের ছুটি কার্যকর হয়েছে (indefinite leave)। হু’র সহকারী মহাপরিচালক ক্যাথারিনা বোহেম (Catharina Boehme) স্থলাভিষিক্ত হবেন সায়না ওয়াজেদের। তিনি আগামী মঙ্গলবার থেকে দায়িত্ব নেবেন।
সায়মার অপর পরিচয় তিনি বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মেয়ে। সায়মার অফিস দিল্লিতে। ২০২৪ থেকে তিনি দিল্লিকে বাস করছেন। বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশন (ACC) জালিয়াতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা দায়ের করার চার মাস পর হু এই পদক্ষেপ করল। সাধারণত কারও বিরুদ্ধে ওঠা অনিয়ম, দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত চলাকালে অভিযুক্তকে লম্বা ছুটিতে যেতে বলা হয়ে থাকে। ফলে সায়মা এবং ও তাঁর মা হাসিনা, দু’জনেরই বিপদ বাড়ল বলেই মনে করা হচ্ছে।
সায়মাকে দীর্ঘ ছুটিতে পাঠানোর পর হু’র মহাপরিচালক ডঃ টেড্রোস আধানম ঘেব্রেয়েসাস একটি সংক্ষিপ্ত অভ্যন্তরীণ ই-মেলের কর্মীদের জানান, সায়মা ওয়াজেদ শুক্রবার থেকে ছুটিতে থাকবেন। জল্পনা শুরু হয়েছে বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশনের মামলায় সে দেশ যদি হাসিনার মতো সায়মাকেও প্রত্যপর্ণের দাবি জানায়, তখন কী অবস্থান নেবে ভারত সরকার। তারা কি হাসিনার মতো তাঁর কন্যাকেও আশ্রয় দেবে?
অবশ্য এই সব বিষয় বিবেচনায় আসবে সায়মা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার চাকরি থেকে সরে গেলে। বাংলাদেশ সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশনের রিপোর্টের ভিত্তিতে সায়মাকে তাঁর পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। বাংলাদেশ সরকার গত বছরই হু’কে জানিয়ে দেয় তারা চায় সায়মাকে আঞ্চলিক অধিকর্তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। তাঁরা সায়মার প্রত্যর্পণ দাবি করলে ভারত সরকারকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। কারণ, বিষয়টির সঙ্গে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা জড়িত। ভারতও ওই সংস্থার সদস্য।

হু' ডিরেক্টরের সঙ্গে সায়মা ওয়াজেদ। গত বছর।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০২৪-এর জানুয়ারিতে হু আঞ্চলিক অধিকর্তার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার ওই পদে বসার জন্য তিনি তাঁর মা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাব কাজে লাগিয়েছিলেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতেরা দেশে দেশে সায়মাকে ভোট দেওয়ার জন্য তদ্বির তদারক করেন। সায়মার প্রতিদ্বন্ধী ছিলেন নেপালের একজন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ।
হাসিনা কন্যার বিরুদ্ধে তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও জালিয়াতির অভিযোগ আছে। বাংলাদেশে এ নিয়ে প্রত্যারণা, জালিয়াতি, নথি জালের অভিযোগে মামলা হয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
দুর্নীতি দমন কমিশন অভিযোগ করে সায়মা বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার পদ সুরক্ষিত রাখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্মানসূচক পদ দাবি করেন এবং তাতে মিথ্যা যোগ্যতার প্রমাণ পেশ করেছিলেন। অভিযোগগুলি দুদকের উপ-পরিচালক আখতারুল ইসলাম বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থাকে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
হাসিনা কন্যার বিরুদ্ধে গত সপ্তাহেই ঢাকার একটি আদালত হুলিয়া জারি করে তাঁকে আদালতে হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে। সেই মামলায় হাসিনা, তাঁর বোন রেহানা, হাসিনার পুত্র জয়, রেহানার ছেলে ও দুই মেয়ের নামও আছে। এই মামলা দায়ের হয় ঢাকায় একটি নির্মিয়মান উপনগরীতে প্লট বিলিতে অনিময় নিয়ে।
হাসিনা কন্যার বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে প্রায় ২৮ লাখ টারা শুচনা ফাউন্ডেশনের নামে তুলে হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন। তিনি ওই ফাউন্ডেশনের প্রধান ছিলেন।