সরকার চেয়েছে সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অন্যদিকে, হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লিগের বক্তব্য, ইউনুস প্রশাসনের লিখে দেওয়া রায়ই পাঠ করবেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি। তাতে সরকারের বাসনার অন্যথা হবে না, মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হবে নেত্রীকে ধরে নিয়েছে হাসিনার দল। সেইমতো রবিবারের পর সোমবারও বাংলাদেশে শাটডাউন পালনের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লিগ।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
শেষ আপডেট: 16 November 2025 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সরকার চেয়েছে সর্বোচ্চ সাজা অর্থাৎ মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হোক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে। অন্যদিকে, হাসিনা এবং তাঁর দল আওয়ামী লিগের বক্তব্য, ইউনুস প্রশাসনের লিখে দেওয়া রায়ই পাঠ করবেন বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারপতি। তাতে সরকারের বাসনার অন্যথা হবে না, মৃত্যুদণ্ডই দেওয়া হবে নেত্রীকে ধরে নিয়েছে হাসিনার দল। সেইমতো রবিবারের পর সোমবারও বাংলাদেশে শাটডাউন পালনের ডাক দিয়েছে আওয়ামী লিগ।
ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে চলমান মামলা নিয়ে শেখ হাসিনা এর আগে একাধিকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দাবি, ওই ট্রাইবুনাল গঠন করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারীদের বিচারের জন্য। এমন ট্রাইব্যুনালে তাঁর এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষের বিচার হতে পারে না। হাসিনা সেই কারণেই সেনা সদস্যদের ট্রাইবুনালে বিচারের বিরুদ্ধেও সরব হয়েছেন।
হাসিনা তাঁর পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মতই রাজনৈতিক মামলায় একাধিক বার জেলে গিয়েছেন। তবে কোনও মামলায় তিনি দোষী সাব্যস্ত হননি। বিচারাধীন আসামি হিসেবে কারাগারে ছিলেন। আগামীকাল সোমবার প্রথম কোন মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে সাজার মুখোমুখি হবেন তিনি।
ট্রাইবুনাল সূত্রে জানানো হয়েছে, সোমবার সাজা ঘোষণার পর সরকারের তরফে ফের বিচারপতির কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন জানানো হবে। গত বছর অক্টোবরে প্রথম গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির পর বাংলাদেশ সরকার ভারতের কাছে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে ফিরিয়ে দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে।
একাধিক সূত্রের খবর, ভারত সরকার এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ করেনি। বাংলাদেশ সরকারের চিঠির জবাবও দেয়নি নয়া দিল্লি।
ট্রাইবুনালে সরকার পক্ষ তাঁর মৃত্যুদণ্ড দাবি করার প্রসঙ্গে আওয়ামী লিগ নেত্রী কখনও প্রতিক্রিয়া দেননি। আগামীকাল সোমবার সাজা ঘোষণার পর তাঁর প্রতিক্রিয়া দেওয়ার কথা। তবে সাজা ঘোষণার কয়েক ঘন্টা আগেও তিনি আর পাঁচটা দিনের মতোই দলের কাজে ব্যস্ত আছেন। শনিবার রাতেও আওয়ামী লিগের ফেসবুক পেজের নিয়মিত অনুষ্ঠান 'দায়মুক্তি'-তে হাসিনা অংশ নিয়েছেন। সেখানে ইউনুস জামানায় নির্যাতিত আওয়ামী লিগের নেতা-কর্মীদের কথা শুনেছেন তিনি। তাঁদের অনেকেই হামলার শিকার হয়ে এখনও চিকিৎসাধীন। হাসিনা অনুষ্ঠানে কথা দেন তিনি প্রত্যেকের চিকিৎসার ব্যবস্থা করবেন। অনুষ্ঠান চলাকালেই তিনি সঞ্চালক এম নজরুল ইসলামকে বলেন, অনুষ্ঠান শেষ হওয়া মাত্র যেন আহতদের চিকিৎসার সুব্যবস্থা করা হয়।
সকলের কথা শোনার পর হাসিনা সংক্ষিপ্ত ভাষণ দেন। দলের নেতারা অবাক হয়েছেন, ভাষণে তিনি একবারের জন্যও সোমবার তাঁর বিরুদ্ধে সাজা ঘোষণার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেননি।
'দায়মুক্তি' অনুষ্ঠানে তিনি জানিয়েছেন, যারা আজ বাংলাদেশে আওয়ামী লিগের নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষের উপর নিপীড়ন, নির্যাতন চালাচ্ছে তাদের প্রত্যেকের বিচার করা হবে। তাঁর কথায়, সব হিসাব আমরা বুঝে নেব।
দলের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে হাসিনা বলেন আমাকে অনেকবার হত্যা করার চেষ্টা হয়েছিল। গ্রেনেড হামলার পর গত বছর জুলাই আগস্ট আন্দোলনের সময়ও একই চেষ্টা হয়। তিনি বলেন, প্রতিবারই আল্লাহ আমাকে রক্ষা করেছেন। তিনি যখন বাঁচিয়ে রেখেছেন তখন নিশ্চয়ই কোন একটি ভাল কাজ আমাকে দিয়ে করাবেন।
হাসিনা মনে করেন, সেই ভাল কাজটি হল মহম্মদ ইউনুস ও তাঁর সঙ্গী-সাথীদের বিচার। প্রধান উপদেষ্টা ইউনুসকে সুদখোর, জঙ্গি আখ্যা দিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বলেন, বেঁচে যখন আছি তখন এদের বিচার করব ইনশাআল্লাহ।
জুলাই অগস্ট আন্দোলন নিয়ে হাসিনা বলেন, আমি তখন আন্দোলনকারীদের গায়ে একটা টোকা দিতে দিইনি কাউকে। কিন্তু যখন ওরা মেট্রোরেল, পদ্মা সেতু, বিটিভি ভবনের ওপর হামলা চালালো তখন সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় পুলিশ বাধা দিয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী দলের আর একটি প্ল্যাটফর্মে, হাজার প্রসঙ্গ উহ্য রেখে বলেছেন, বিচারের নামে কেমন প্রহসন হয়েছে ট্রাইব্যুনালে। হাসিনা বলেন আমি এই মামলা নিয়ে কোনও নোটিস পাইনি। আমার ঘর বাড়িও পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলায় আমি আমাকে কোন আইনজীবী দিতে দেওয়া হয়নি। সরকারের তরফে যাঁকে আমার মামলা লড়তে দেওয়া হয়েছে তাঁর সঙ্গে বিচারপতির কথোপকথন থেকে বোঝা যায় তিনি কতটা সিরিয়াসলি মামলা লড়েছেন। তিনি আদালতে দাঁড়িয়ে বলেছেন আমাকে তো বলতেই হবে যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী নির্দোষ। হাসিনার বক্তব্য এইভাবে বিচারকে প্রহসনে পরিণত করা হয়েছে। সাজার প্রসঙ্গে মুখ না খুললেও হাসিনা বলেছেন, তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন অভিযোগ আনা হয়েছে আদালতে। মানবতাবিরোধী কোন অপরাধে তিনি যুক্ত নন। পুলিশ, সেনাবাহিনীকে তিনি কখনই আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেননি।
এই প্রসঙ্গে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের বক্তব্য, পুলিশ কোন পরিস্থিতিতে গুলি চালাবে সে সিদ্ধান্ত তারা নিয়ে থাকে। ফৌজদারি দন্ডবিধি অনুযায়ী এই বিষয়ে পুলিশকে কোন নির্দেশ দেওয়ার অধিকার সরকারের নেই। সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর বক্তব্য, বহু ক্ষেত্রেই পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে। এছাড়া সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করতে গিয়েও পুলিশকে কঠোর হতে হয়।