ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড (Death Penalty) ঘোষণার পর তাঁকে অবিলম্বে ফেরত চেয়েছে। কোনওরকম দেরি না করে তার জবাব দিল নয়াদিল্লিও।সোমবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ঢাকার রায়ের বিষয়টি নয়াদিল্লি সরকারিভাবে নথিবদ্ধ করেছে। মনে রাখতে হবে ভারত সবসময়ে বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

শেষ আপডেট: 17 November 2025 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina) বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ড (Death Penalty) ঘোষণার পর তাঁকে অবিলম্বে ফেরত চেয়েছে। কোনওরকম দেরি না করে তার জবাব দিল নয়াদিল্লিও।সোমবার ভারতের বিদেশ মন্ত্রক জানায়, ঢাকার রায়ের বিষয়টি নয়াদিল্লি সরকারিভাবে নথিবদ্ধ করেছে। মনে রাখতে হবে ভারত সবসময়ে বাংলাদেশের মানুষের শান্তি, গণতন্ত্র ও স্থিতিশীলতার পক্ষেই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ভারতের অবস্থান (India’s stand on Bangladesh ICT Verdict)
বিদেশ মন্ত্রকের মন্ত্রকের বিবৃতিতে বলা হয়েছে—“ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী হিসেবে বাংলাদেশে শান্তি, গণতন্ত্র, সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকাই ভারতের অগ্রাধিকার। সে লক্ষ্যে ভারত সব পক্ষের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকবে।”
ঢাকার দাবি ও কড়া বার্তা
এর আগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণার পর বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে নয়াদিল্লিকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে। বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক জানিয়েছে—হাসিনা গত বছরের অশান্তির পর থেকেই ভারতে রয়েছেন। তাদের দাবি, জুলাই মাসে ছাত্র আন্দোলনে হিংসা দমন-পীড়নের ঘটনায় তাঁকে ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’-এ দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।ঢাকা আরও সতর্ক করে বলেছে—“যে কোনও দেশ হাসিনাকে আশ্রয় দিলে তা অত্যন্ত অ-মৈত্রিক ও ন্যায়বিচারের প্রতি অবজ্ঞা হিসেবে গণ্য হবে।”
তবে কূটনীতিকদের মতে, ঢাকাও ভাল করে জানে যে নয়াদিল্লি কোনওভাবে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করবে না। তবে ইউনুস প্রশাসন ঘরোয়া রাজনীতিকে বার্তা দিতেই এই সব গরম গরম কথা বলছে।
২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি—মূল জট কোথায়
দুই দেশের মধ্যে ২০১৩ সালে যে প্রত্যর্পণ চুক্তি হয়েছিল, তাতে স্পষ্ট উল্লেখ আছে—
যদি কোনও অনুরোধ ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে মনে হয়, তবে সেটি প্রত্যাখ্যান করা যেতে পারে। শেখ হাসিনা দেশত্যাগের পর থেকেই দাবি করে আসছেন যে তাঁর বিরুদ্ধে পদক্ষেপগুলি ‘রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত’।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আনুষ্ঠানিক ভাবে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণের আবেদন পাঠিয়েছিল—ভারতের বিদেশসচিবের ঢাকা সফরের দু’সপ্তাহের মধ্যেই তা পাঠিয়েছিল ইউনুস প্রশাসন।
পরিস্থিতি এখন কোথায় দাঁড়িয়েছে?
ঢাকা ফেরত চাইছে শেখ হাসিনাকে। আর দিল্লি বলছে—বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থই তাদের কাছে প্রধান, এবং পরিস্থিতি বিবেচনা করেই তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই এখন নজর সকলের—ভারত কি ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্য’ যুক্ত বলে ধরে নিয়ে অনুরোধ ফিরিয়ে দেবে, নাকি নতুন কোনও কূটনৈতিক সমাধান সামনে আসবে? সাউথ ব্লক সূত্রের দাবি, ভারত এখন এর বেশি কিছু বলবেই না। বরং ঢাকার পরিস্থিতির উপর শুধু নজর রেখে চলবে।