Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
ভোটের ডিউটিতে কড়া নিয়ম! প্রিসাইডিং ও সেক্টর অফিসারদের জন্য একগুচ্ছ নির্দেশিকা কমিশনের'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনের

Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ড শুনে প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা বললেন, প্রহসনের বিচার, আমাদের কথা শুনল কই

বঙ্গবন্ধু কন্যাকে মৃত্যুদণ্ড (Death Sentence) দিয়েছে ট্রাইবুনাল। একই সাজা দেওয়া হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে।

Sheikh Hasina: মৃত্যুদণ্ড শুনে প্রতিক্রিয়ায় শেখ হাসিনা বললেন, প্রহসনের বিচার, আমাদের কথা শুনল কই

শেখ হাসিনা

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 17 November 2025 18:14

দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশের (Bangladesh News) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ঘোষণা করা মৃত্যুদণ্ডের রায়কে প্রহসনের বিচার বললেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina News)। তাঁর কথায়, এই রায়ে ‘কারসাজি করা হয়েছে’, ‘আগেই ঠিক করে রাখা ছিল’। তা ছাড়া এই রায়কে ‘গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেটহীন সরকারের সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন তিনি। রায় ঘোষণার পর ভারত থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি অভিযোগ করেন—তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি (Sheikh Hasina Verdict)।

৭৮ বছর বয়সী শেখ হাসিনা ২০২৪ সালের অগাস্টে সরকার পতনের পর থেকেই ভারতে রয়েছেন। ছাত্রনেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থানের সময় হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধে ‘উস্কানি’, ‘হত্যার নির্দেশ দেওয়া’ এবং ‘নৃশংসতা ঠেকাতে ব্যর্থ’—এই তিন অভিযোগে তাঁকে দোষী সাব্যস্ত করেছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

আদালতে রায় ঘোষণা, বাইরে উল্লাস
ঢাকার ভিড়ে ঠাসা আদালতে বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার রায় পড়তে শুরু করতেই উল্লাসে ফেটে পড়েন উপস্থিতরা। তিনি বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধের সব মৌলিক উপাদানই এখানে প্রমাণিত হয়েছে।” এরপরই আদালত শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করে। রায়টি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় জাতীয় টেলিভিশনে—যা দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। এই রায়ের প্রেক্ষাপটে ফেব্রুয়ারি ২০২৬–এ অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।

‘ন্যায্য বিচার পাইনি’—হাসিনার অভিযোগ
রায় ঘোষণার আগে ও পরে প্রকাশিত বিবৃতিতে শেখ হাসিনা বলেন, “আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের ন্যায্য সুযোগ দেওয়া হয়নি।” তাঁর কথায়, “এটি পক্ষপাতদুষ্ট ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রায়।” 

বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, একটি অনির্বাচিত সরকার—যার জনগণের কোনো ম্যান্ডেট নেই—তারা বেআইনি ট্রাইব্যুনাল বসিয়ে বিচার করছে। সঠিক, নিরপেক্ষ আদালতের সামনে দাঁড়াতে আমি ভয় পাই না। যেখানে প্রমাণ নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা হবে।

ঢাকা আদালতের ঐতিহাসিক এই রায়কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতি যে নতুন এক সংকটময় পর্বে প্রবেশ করেছে—এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। এর প্রতিবাদও নিশ্চিত ভাবেই হবে। সে ব্যাপারে এদিনই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন আওয়ামী লিগের নেতারা। যার অর্থ পরিষ্কার। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে ফের অস্থিরতা তৈরি হতে চলেছে।

পড়ুন  শেখ হাসিনার সম্পূর্ণ বক্তব্যটা

তাঁকে‌ মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। সেই সাজাকে প্রহসনের বিচার বলে প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা। ‌

ট্রাইবুনাল তার বিরুদ্ধে মৌর্য অভিযোগের ভিত্তিতে ফাঁসি সাজা শুনিয়েছে তা হল, প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন তিনি পুলিশকে আন্দোলন দমনে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে তিনটি গুরুতর অভিযোগকে মান্যতা দিয়ে ট্রাইবুনাল ফাঁসি সাজা দেওয়ার পাশাপাশি যাবতীয় সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে।‌ এই ব্যাপারে এই ব্যাপারে শেখ হাসিনা বলেছেন, আমার বিরুদ্ধে ঘোষিত রায়গুলি একটি সাজানো ট্রাইব্যুনালের দ্বারা প্রদান করা হয়েছে।‌ যা একটি অনির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করেছে—যাদের কোনও গণতান্ত্রিক ম্যান্ডেট নেই। এরা পক্ষপাতদুষ্ট এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। মৃত্যুদণ্ডের অরুচিকর দাবিতে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরের উগ্রপন্থী ব্যক্তিদের নির্লজ্জ ও হত্যামুখী উদ্দেশ্য প্রকাশ করেছে—যারা বাংলাদেশের শেষ নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে সরিয়ে দিতে এবং আওয়ামী লিগকে একটি রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নির্মূল করতে চায়।

ড. মহম্মদ ইউনুসের বিশৃঙ্খল, সহিংস ও সামাজিকভাবে পশ্চাৎমুখী প্রশাসনের অধীনে পরিশ্রমরত লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশি জনগণ তাঁদের গণতান্ত্রিক অধিকার হরণ করার এই প্রচেষ্টায় প্রতারিত হবে না। তাঁরা দেখেছেন যে কথিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)—যার মাধ্যমে বিচার পরিচালনা করা হয়েছে—সত্যিকারের বিচার নিশ্চিত করা বা ২০২৫ সালের জুলাই ও আগস্টের ঘটনাবলির প্রকৃত চিত্র উন্মোচনের জন্য কখনও গঠিত হয়নি। বরং এর উদ্দেশ্য ছিল আওয়ামী লিগকে বলির পাঁঠা বানানো এবং ড. ইউনুস ও তাঁর মন্ত্রীদের ব্যর্থতা থেকে পৃথিবীর দৃষ্টি সরিয়ে নেওয়া।

তাঁর তত্ত্বাবধানে জনসেবা ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। পুলিশের অবস্থা এমন যে তারা অপরাধপ্রবণ রাস্তাগুলি থেকে সরে এসেছে, আর বিচারব্যবস্থার ন্যায়পরায়ণতাও বিপর্যস্ত হয়েছে—আওয়ামী লিগ-সমর্থকদের ওপর হামলার বিচার হয় না। হিন্দু ও অন্যান্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর আক্রমণ চলছে, নারীর অধিকার দমন করা হচ্ছে। প্রশাসনের ভেতরে থাকা ইসলামি উগ্রপন্থীরা—হিযবুত তাহরীরসহ—বাংলাদেশের দীর্ঘ ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রচর্চাকে ধ্বংস করতে চায়। সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি স্থবির, আর ইউনুস নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে দেশের প্রাচীনতম দল আওয়ামী লিগকে নির্বাচন থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন।

এসবই প্রতিষ্ঠিত সত্য, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম, এনজিও এবং আইএমএফের মতো নিরপেক্ষ সংস্থাগুলোর দ্বারা যাচাই করা হয়েছে। আমি সেই উদ্বেগের কণ্ঠস্বরকে আরও জোরদার করতে চাই এই বলে যে ইউনুসের আন্তর্জাতিক সমর্থকদের মনে রাখা উচিত—বাংলাদেশের একজন নাগরিকও তাঁকে ভোট দেয়নি, সুযোগও পায়নি। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ জনগণের, এবং আগামী বছরের নির্বাচন অবশ্যই অবাধ, সুষ্ঠু ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হতে হবে।

হাসিনা একাধিক বিষয়ে তার অভিমত জানিয়েছেন। এগুলি হল,

আইসিটি সম্পর্কে

আইসিটিতে আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলি আমি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি। গত বছরের জুলাই ও আগস্ট মাসে রাজনৈতিক বিভেদের উভয় পক্ষে যেসব প্রাণহানি ঘটেছে, তার প্রতিটিতেই আমি শোকাহত। কিন্তু আমি বা অন্য কোনও রাজনৈতিক নেতা, কখনই বিক্ষোভকারীদের হত্যা করার নির্দেশ দিইনি।

আমি অভিযোগগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করেছি। তবে তার আগে বলি—আমি ন্যায্যভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ পাইনি, এমনকি আমার পছন্দের আইনজীবীদের অনুপস্থিতিতেও আমাকে প্রতিনিধিত্ব করতে দেওয়া হয়নি। এর নামের সঙ্গে 'আন্তর্জাতিক' শব্দটি থাকলেও আইসিটির কার্যক্রমে আন্তর্জাতিকতার কোনও ছাপ নেই। আরও গুরুত্বপূর্ণ, এটি মোটেই নিরপেক্ষ নয়। নিচের অকাট্য সত্যগুলো দেখলে এর উদ্দেশ্য যে কারও কাছে স্পষ্ট হবে—

* অতীতে পূর্ববর্তী সরকারের প্রতি সামান্য সহানুভূতি প্রদর্শনকারী উচ্চ আদালতের বিচারপতি কিংবা জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বা নীরব করে রাখা হয়েছে।
* আইসিটি একচেটিয়াভাবে কেবল আওয়ামী লিগ নেতাদের বিচার করেছে।
* ধর্মীয় সংখ্যালঘু, আদিবাসী, সাংবাদিক ও অন্যান্যদের ওপর অন্যান্য দলের সহিংসতার ঘটনা তারা তদন্তই করেনি, বিচার তো দূরের কথা।
* আমার বিরুদ্ধে রায় ছিল পূর্বনির্ধারিত। পৃথিবীর কোনো সম্মানিত বা পেশাদার বিচারবিদ এই আদালতকে সমর্থন করবেন না।

এই একই আদালত ব্যবহার করা হয়েছে ১৯৭১ সালে স্বাধীনতাকে ব্যাহতকারী যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে। এখানে অন্য কোনও উদ্দেশ্য নেই—এটি একটি গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিশোধপরায়ণ অভিযান, যে সরকার জাতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অটল ছিল।

আমি একটি সুষ্ঠু আদালতে উপস্থিত হতে ভয় পাই না—যেখানে প্রমাণ যথাযথভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। সে কারণেই আমি বারবার চ্যালেঞ্জ করেছি—অন্তর্বর্তী সরকার যেন এই অভিযোগগুলো হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে (আইসিসি) উপস্থাপন করে। কিন্তু তারা তা করবে না, কারণ তারা জানে আইসিসি আমাকে খালাস দেবে। তাছাড়া তারা ভয় পায় যে আইসিসি ক্ষমতায় থাকার সময় তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের রেকর্ডও তদন্ত করবে। আমাদের সরকার জনগণের ভোটে নির্বাচিত, এবং আমরা তাদের কাছে জবাবদিহি করতাম। আমরা নির্বাচনের সময় তাদের ভোট চাইতাম এবং সাধারণ নাগরিকদের ক্ষতি হতে পারে এমন সবকিছু এড়িয়ে চলতাম।

অন্যদিকে ড. ইউনুস ক্ষমতায় এসেছেন অসাংবিধানিকভাবে এবং উগ্রপন্থী শক্তিগুলোর সহায়তায়। তাঁর শাসনামলে ছাত্র-শ্রমিক-চিকিৎসক-নার্স-শিক্ষকসহ পেশাজীবীদের প্রতিটি আন্দোলন দমন করা হয়েছে—কখনও নৃশংসভাবে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এসব ঘটনা কভার করার চেষ্টা করলে সাংবাদিকেরা হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হয়েছে।

ক্ষমতা দখলের পর ইউনুসের বাহিনী গোপালগঞ্জে হত্যাকাণ্ড এবং হামলা চালিয়েছে, এমনকি আহত ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধেই মামলা দিয়েছে—অত্যাচারিতদেরকে অভিযুক্ত বানিয়ে। সারা দেশে আওয়ামী লিগ নেতাকর্মীদের ঘরবাড়ি, ব্যবসা ও সম্পদ পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ১৫ জুলাইয়ের পর থেকে এই প্রতিশোধমূলক হামলা, অগ্নিসংযোগ ও লাশ টানাটানির জন্য দায়ীদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে। বরং আইসিটির আপসকামী প্রধান প্রসিকিউটর ভুয়া তথ্য উপস্থাপন করে সকল অপরাধের অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছে। সন্ত্রাসী, উগ্রবাদী ও দণ্ডপ্রাপ্ত খুনিদের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে, আর জেলগুলো ভরানো হয়েছে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের দিয়ে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সম্পর্কে

আমি আগেই বলেছি—গত বছরের জুলাই ও অগস্টের ঘটনাগুলো ছিল জাতির জন্য এক কঠোর ট্র্যাজেডি, অসংখ্য পরিবারের জন্য শোকাবহ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টায় আমরা সৎ বিশ্বাসে কাজ করেছি, প্রাণহানি কমানোর চেষ্টা করেছি। পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। কিন্তু সেটিকে সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে পূর্বপরিকল্পিত হামলা হিসেবে ব্যাখ্যা করা সত্যের বিকৃতি।

আইসিটির প্রসিকিউটররা কোনও দৃঢ় প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি যে আমি প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছিলাম। উপস্থাপিত কথোপকথনের ট্রান্সক্রিপ্ট ও অডিও ক্লিপগুলো খণ্ডিত, প্রসঙ্গবিচ্যুত। বাস্তবতা হলো—মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা বাহিনী প্রতিষ্ঠিত আইনগত নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছে। ৬ থেকে ১৪ জুলাই পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অবাধে আন্দোলন করেছে—সরকার তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিল। তাদের সব দাবি আমি মেনেও নিয়েছিলাম। তবে জুলাইয়ের মধ্যভাগ থেকে পরিস্থিতি খারাপ হয়, কারণ বিক্ষোভকারীরা গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ অবকাঠামো নষ্ট করায় ইন্টারনেট বিভ্রাট ঘটে।

এই বিশৃঙ্খলার সময় পুলিশ স্টেশন, সরকারি ভবন পুড়িয়ে ফেলা হয়, অস্ত্র লুট হয়, সরকারি সম্পত্তি ধ্বংস হয়। এ পরিস্থিতিতে সরকার দেশ ও সংবিধান রক্ষায়, এবং প্রাণহানি কমাতে দেশি ও আন্তর্জাতিক আইন অনুসরণ করেই ব্যবস্থা নিয়েছিল।

আইসিটি প্রসিকিউটররা দাবি করেছেন যে এসব অগ্নিসংযোগ আওয়ামী লিগ করেছে—কিন্তু অসংখ্য ছাত্রনেতা প্রকাশ্যে এসব ঘটনার দায় স্বীকার করেছেন। তারা যেসব প্রমাণ দেখিয়েছে তার অনেকটাই সন্দেহজনক। তারা যেই জাতিসংঘের (ইউএন) রিপোর্টের ওপর বারবার নির্ভর করেছে, সেটি চাপের মুখে পড়া সরকারি কর্মচারীদের বেনামি সাক্ষ্যে তৈরি। অনেক সাক্ষীর বিরুদ্ধে নিজেদের দুর্নীতির অভিযোগ আছে, অথবা তাদের জোর করে মিথ্যা বক্তব্য দিতে বাধ্য করা হয়েছে। যে রেকর্ডগুলো আওয়ামী লীগকে নির্দোষ প্রমাণ করত এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ঘনিষ্ঠদের জড়িত করত—সেগুলো জাতিসংঘের তদন্তকারীদের কাছ থেকে গোপন রাখা হয়েছে।

সহিংসতার আরও অনেক রহস্যজনক দিক আজও তদন্তবিহীন। বিশেষ করে, এমন অভিযোগ রয়েছে যে আন্দোলনের সূচনালগ্নে বাহিরের উসকানিদাতারা জনতাকে সহিংসতায় প্ররোচিত করেছে। সাক্ষ্য ও ফরেনসিক তথ্য বলছে—এই উসকানিদাতাদের কাছে সামরিকমানের অস্ত্র ছিল, যেমন ৭.৬২ ক্যালিবার বুলেট, যা তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সাধারণ মানুষের ওপর ব্যবহার করেছিল, পরিস্থিতিকে অগ্নিগর্ভ করতে এবং সরকারের বিরুদ্ধে জনমত উত্তেজিত করতে। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই আমি একটি বিচার বিভাগীয় অনুসন্ধান কমিটি গঠন করি—একজন হাইকোর্ট বিচারপতির নেতৃত্বে। কমিটির কাজ শুরু হয়েছিল, কিন্তু ইউনুস ক্ষমতা নেওয়ার পর তদন্ত হঠাৎ স্থগিত করে দেন।

জাতিসংঘের বহুল উদ্ধৃত ১,৪০০ মৃত্যুর সংখ্যাটি বিতর্কিত। বাংলাদেশের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের যাচাইকৃত হিসাব বলছে ৮৩৪ জন মারা গেছে। উচ্চতর সংখ্যায় ন্যাশনাল সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্সের দেওয়া যাচাইবিহীন তথ্য অন্তর্ভুক্ত, এবং এতে আন্দোলনকারীদের হাতে নিহত পুলিশ ও আওয়ামী লীগ কর্মীরাও গোনা হয়েছে। অথচ মাত্র ৬১৪ পরিবার শহীদ পরিবারের রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেয়েছে।

পত্রিকা অনুসন্ধান দেখায়—এই ৬১৪ জনের মধ্যে ৫২ জন গুলিতে নিহতই হয়নি; তারা অসুস্থতা, দুর্ঘটনা বা অন্যান্য কারণে মারা গেছে। প্রায় ১৯ জনকে মৃত বলে তালিকাভুক্ত করা হলেও পরে জীবিত পাওয়া গেছে। ফলে ঘটনাচক্রে পরিস্থিতি বিভ্রান্তিকর, এবং অন্তর্বর্তী সরকার মৃতদের একটি সরকারি তালিকা প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।

মানবাধিকার লঙ্ঘনের অন্যান্য অভিযোগকেও আমি সমানভাবে ভিত্তিহীন মনে করি। আমার সরকারের মানবাধিকার ও উন্নয়ন-রেকর্ড নিয়ে আমি অত্যন্ত গর্বিত। আমরা বাংলাদেশকে ২০১০ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে যুক্ত করেছি, মিয়ানমারের নির্যাতিত লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছি, বিদ্যুৎ ও শিক্ষায় ব্যাপক সম্প্রসারণ ঘটিয়েছি এবং ১৫ বছরে ৪৫০% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছি—যার ফলে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে মুক্ত হয়েছে। এই সাফল্যগুলো ঐতিহাসিক সত্য; এগুলো মানবাধিকারবিমুখ নেতৃত্বের কাজ নয়। আর ড. ইউনুস এবং তাঁর প্রতিহিংসাপরায়ণ সহযোগীরা এমন কোনো অর্জন দেখাতে পারেন না যা এর কাছে তুলনীয়।  


```