ফেনীর ফুলগাজীর হাসানপুরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের (Golam Murtaza Majumder) বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বাড়িটির চারপাশ ঘিরে কড়া পাহারা বসিয়েছে, মূল ফটকেও মোতায়েন হয়েছে অতিরিক্ত সদস্য।
.jpeg.webp)
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের
শেষ আপডেট: 17 November 2025 16:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জুলাই হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার (Sheikh Hasina Verdict) বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডে রায় দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (Sheikh Hasina News)। তার পর পরই ফেনীর ফুলগাজীর হাসানপুরে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের (Golam Murtaza Majumder) বাড়িতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। স্থানীয় পুলিশ বাড়িটির চারপাশ ঘিরে কড়া পাহারা বসিয়েছে, মূল ফটকেও মোতায়েন হয়েছে অতিরিক্ত সদস্য।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে হাসানপুর এলাকায় সাংবাদিকরা গেলে দেখতে পান, বিচারপতি গোলাম মর্তুজার বাড়ির চারপাশে টহল, চৌখস নজরদারি এবং প্রতিটি প্রবেশপথে পুলিশ রয়েছে। ফুলগাজী থানার ওসি লুৎফর রহমান সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন—“ঐতিহাসিক রায়কে কেন্দ্র করে আমরা বাড়তি সতর্কতা নিয়েছি। বিশেষ নজরদারির পাশাপাশি বাড়িটিতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।”
সোমাবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–১ প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের রায় ঘোষণা করছে। এই রায় সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে ঢাকাসহ দেশের বহু স্থানে বড় পর্দায়—যা ঘিরে সারা দেশে উত্তেজনা তুঙ্গে।
কে এই বিচারপতি গোলাম মর্তুজা মজুমদার?
তিনি ফেনী জেলার ফুলগাজী উপজেলার হাসানপুর মজুমদার বাড়ির বাসিন্দা। জন্ম ১৫ জানুয়ারি ১৯৬০। অর্থাৎ মুক্তিযুদ্ধের সময় মর্তুজা ছিলেন কিশোর। তার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এলএলবি ও এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৮২ সালে বিসিএস পাসের পর বিচার বিভাগে যোগদান। ১৯ বছরের বেশি সময় জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন বিচারপতি মর্তুজা। এর পর ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে জেলা জজ পদ থেকে অবসর গ্রহণ করেন।
২০২৪ সালের ৮ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ করা হয় তাঁকে। ১৫ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান। তাঁর সঙ্গে ট্রাইব্যুনালের তিন সদস্যের প্যানেলে আছেন বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
বিচারপতি মুর্তুজার উপর জামাত বা বিএনপি-র কোনও সরাসরি প্রভাব রয়েছে বলে বাংলাদেশের ঘরোয়া রাজনীতিতে অভিযোগ নেই। তবে প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এদিন রায় ঘোষণার পরই বলেছেন, এ হল প্রহসনের বিচার। কারসাজি করে এই রায় ঘোষণা করা হয়েছে। এই রায় আগে থেকেই লিখে রাখা ছিল।
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও অন্যান্য মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আজকের রায়কে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিচারিক মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে। সেই রায় ঘোষণা ঘিরে দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাড়ানোর অংশ হিসেবেই কঠোর পাহারা বসানো হয়েছে ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যানের গ্রামের বাড়িতে।