বুধবার রাতে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে ইউনুস বলেছেন, শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশের বিপুল অর্থ ব্রিটেনে চালান করা হয়েছে। ওই কালো টাকা উদ্ধারে ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা দরকার।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি।
শেষ আপডেট: 12 June 2025 07:18
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ব্রিটেন সফররত বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা মহম্মদ ইউনুসের (Md Yunus, Chief Advisor of Bangladesh) সঙ্গে দেখা করতে এখনও রাজি হননি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমার (British PM Keir Starmer) । ইউনুসের শক্রবার দুপুরে লন্ডন (London) ত্যাগ করার কথা। তিনদিন আগে তিনি সেখানে গিয়েছেন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কিয়ের স্টারমারের অফিস এখনও ইউনুসের সঙ্গে তাঁর বৈঠকের ব্যাপারে সাড়া দেয়নি।
লন্ডনের ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’কে (Financial Times) স্টারমারের অফিস জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করার কোনও পরিকল্পনা এখনও পর্যন্ত নেই। শেষ পর্যন্ত স্টারমারের সঙ্গে সাক্ষাৎ ছাড়াই দেশে ফিরতে হলে তা হবে ইউনুসের জন্য বড় ধাক্কা, দেশেরও অবমাননা।
যদিও ইউনুস ঢাকা ছাড়ার আগে অন্তর্বর্তী সরকারে তরফে জানানো হয়েছিল ব্রিটেনের রাজা এবং প্রধানমন্ত্রী দু’জনের সঙ্গেই তাঁর সাক্ষাতের সময় চূড়ান্ত হয়েছে। লন্ডনে পৌঁছে ইউনুসের সফরসঙ্গীরা সুর বদলে ফেলতে শুরু করেন। সেখানে তাঁরা প্রথমে আবিষ্কার করেন প্রধানমন্ত্রী স্টারমার কানাডায় রয়েছেন। সেখান থেকে ফিরে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে দেখা করবেন।
পরে জানা যায়, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দেশেই আছেন। বাংলাদেশ সরকারের কর্তারা এখন বলছেন, তিনি বাজেট নিয়ে ব্যস্ত আছেন। আসলে সফররত রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে দেখা করার বিষয়ে অনেক আগেই কথা হয়ে থাকে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর অফিস থেকে বাংলাদেশ সরকারকে আদৌ সময় দেওয়া হয়েছিল কি না তা নিয়েই এখন প্রশ্ন উঠে গিয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশের দূতাবাসের ভূমিকা নিয়েও। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আমার ভুল হয়েছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী দেশেই আছেন।
প্রশ্ন হল, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে উদগ্রীব কেন ইউনুস? অন্যদিকে, স্টারমার কেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না? বুধবার রাতে লন্ডনে এক অনুষ্ঠানে ইউনুস বলেছেন, শেখ হাসিনার সময়ে বাংলাদেশের বিপুল অর্থ ব্রিটেনে চালান করা হয়েছে। ওই কালো টাকা উদ্ধারে ব্রিটিশ সরকারের সহায়তা দরকার। তাই তিনি স্টারমারের সঙ্গে দেখা করে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চাইবেন বলে এসেছেন। প্রসঙ্গত, সেই কারণে ইউনুসের সফরসঙ্গীদের মধ্যে বাংলাদেশ দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধানও আছেন।
কিন্তু ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেন ইউনুসের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না? জানা যাচ্ছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দল লেবার পার্টির অন্দরে এই বৈঠক নিয়ে আপত্তি আছে। বাংলাদেশে ইউনুসের অন্তবর্তী সরকারের সময় গণতন্ত্র, মানবাধিকার ঘটনায় ক্ষুব্ধ ব্রিটেনের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলি। বিশেষ করে আওয়ামী লিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন বাতিল, হাজার হাজার নেতা-কর্মীকে জেলে পোরার ঘটনায় ব্রিটেনের মানবাধিকার এবং গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করা প্রতিষ্ঠানগুলি বিরক্ত। ইউনুসের সফরের সময় আওয়ামী লিগ লন্ডন-সহ বহু শহরে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করছে।
লেবার পার্টিরই সদস্য শেখ হাসিনার বোন শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ। হাসিনার সঙ্গে মিলে দুর্নীতিতে যুক্ত অভিযোগ ওঠায় তিনি নৈতিক দায়িত্ব নিয়ে লেবার মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে এখনও সাংসদ আছেন তাই-ই শুধু নয়, লেবার পার্টির এই নেত্রী দলে যথেষ্ট প্রভাবশালী এবং স্টারমারের অত্যন্ত আস্থাশীল। বস্তুত, স্টারমার প্রশাসন টিউলিপকে দুর্নীতির অভিযোগ থেকে মুক্তি দিলেও তিনি নৈতিক দায় স্বীকার করে মন্ত্রিসভা থেকে সরে গিয়েছেন। নিজেকে নির্দোষ দাবি করে টিউলিপ প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে লন্ডনে দেখা করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু ইউনুস রাজি হননি।