
বাঁ দিকে বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা ফিরোজ খান, ডানদিকে চিন্ময় কৃষ্ণ
শেষ আপডেট: 27 November 2024 11:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চট্টগ্রামে ইসকনের সাধু চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে যে মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে সেটি দায়ের করেন স্থানীয় বিএনপি নেতা ফিরোজ খান। ২৫ অক্টোবর হিন্দু জাগরণ মঞ্চের উদ্যোগে চট্টগ্রামের লালদিঘি ময়দানে সভা হয়। যেই সভায় প্রধান বক্তা এবং অন্যতম উদ্যোক্তা ছিলেন চিন্ময় কৃষ্ণ। মাঠ লাগোয়া একটি ল্যাম্প পোস্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব একটি জাতীয় পতাকা টাঙিয়েছিল। অভিযোগ, সেই জাতীয় পতাকার উপরে ইসকনের ধ্বজা টাঙানো হয়েছিল। বিএনপি নেতা ফিরোজ খান চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কাছে ওই ঘটনা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করেন।
ঘটনা হল, অভিযোগ দায়েরের কথা জানা মাত্র বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব ফিরোজ খানকে দল থেকে বহিষ্কার করেন। দলীয় সুত্রের খবর, দলের কার্যনির্বাহী চেয়ারম্যান তারেক জিয়া লন্ডন থেকে ফোনে দলীয় নেতাদের ফিরোজ খানকে বহিষ্কারের নির্দেশ দেন। যদিও বিএনপি সরকারিভাবে বহিষ্কারের কারণ জানায়নি। চিন্ময় কৃষ্ণকে ফোনে দলের নেতারা অভিযোগ দায়েরের ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশও করেন।
যদিও বহিষ্কারের আগে মামলা প্রত্যাহার না করায় পুলিশ সক্রিয় হয়ে ওঠে। রাতারাতি অভিযুক্তদের দু'জনকে গ্রেফতার করে নেওয়া হয়। সোমবার গ্রেফতার করা হয় চিন্ময় কৃষ্ণকে। ১৮ অভিযুক্তের মধ্যে এখনও পর্যন্ত তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একদা দলীয় নেতার দায়ের করা মামলায় সাধু গ্রেফতার হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছে বিএনপি। বাংলাদেশের এই এখন সবচেয়ে বড় দলটি চিন্ময় কৃষ্ণের গ্রেফতারি নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছে। অভিযোগকারী নেতাকে বহিষ্কার করায় ইসকনের সঙ্গে বিএনপির হিন্দু ভোট নিয়ে বোঝাপড়ার তত্ত্বও রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে জোরদার। সেই জল্পনায় ঘি ঢেলেছে চিন্ময় কৃষ্ণের দফায় দফায় বিএনপি নেতা তারেক রহমানের প্রশংসা এবং তিনদিন আগে রংপুরের সভায় আওয়ামী লিগের নিন্দামন্দ। ওই সভায় চিন্ময় কৃষ্ণ অভিযোগ করেন, আওয়ামী লিগ ভোটের স্বার্থে হিন্দুদের ব্যবহার করেছে।
যদিও চিন্ময় কৃষ্ণের মুক্তির দাবিতে সরব হয়েছে শেখ হাসিনার দল। চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থানার পুলিশ মঙ্গলবার বেশি রাতে সরাইপাড়া এলাকা থেকে আওয়ামী লিগের ছয় নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতরা বেশ কিছুদিন ধরে চট্টগ্রাম পুর নিগমের সাবেক কাউন্সিলর সাবের আহমেদের বাড়িতে লুকিয়ে ছিল। তারা মঙ্গলবার রাতে শহরে অতর্কিতে মিছিল করে অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছিল।
ধৃতরা হলেন যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের স্থানীয় ছয় নেতা মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম, মোহাম্মদ আবু হেনা,
আব্দুর রহিম, জজ রশিদ, শহীদ উদ্দিন খান, এবং মোহাম্মদ ইয়াছিন উল্লাহ। ধৃতদের বুধবার আদালতে পেশ করা হবে।
অন্যদিকে, জাতীয় পতাকা অবমাননার অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ ছাড়াও মামলা দায়ের হয়েছে চট্টগ্রামের হিন্দু জাগরণ মঞ্চের সমন্বয়ক অজয় দত্ত, চট্টগ্রাম প্রবর্তক ইসকন মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলা রাজ দাস ব্রহ্মচারী, গোপাল দাস টিপু, রনি দাস,
কথক, অমিত ধর, রাজীব দাস, কৃষ্ণ কুমার দত্ত, জিকু চৌধুরী, নিউটন দে ববি, তুষার চক্রবর্তী রাজীব, মিথুন দে, রুপন ধর, রিমন দত্ত, সুকান্ত দাশ, বিশ্বজিৎ গুপ্ত রাজেশ চৌধুরী ও হৃদয় দাস। আসামি করা হয়েছে অজ্ঞাত আরও ১৫-২০ জনকে।