এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে ফলাফল কী হত তা বলা মুশকিল।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 16 October 2025 09:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ বা চাকসু দখল করল উগ্র ইসলামবাদী দল জামাত ই-ইসলামির ছাত্র সংগঠন ইসলামি ছাত্র শিবির। বৃহস্পতিবার ভোররাতে গণনার ফল ঘোষণা করা হয়। শিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জেনারেল সেক্রেটারি সহ মোট ২৫টি গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করেছে। একটি অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি পদ পেয়েছে বিএনপি'র ছাত্র সংগঠন ছাত্রদল। ভোট গ্রহণ করা হয় বুধবার।
বলাই বাহুল্য, এই নির্বাচনে আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লিগকে অংশ নিতে দেওয়া হয়নি। তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলে ফলাফল কী হত তা বলা মুশকিল। ইসলামী ছাত্র শিবির এর আগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ ডাকসু এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ জাকসু দখল করে।

বাঁদিকে ছাত্রশিবিরের ভিপি প্রার্থী ইব্রাহিম হোসেন। ডান পাশে সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত সাঈদ বিন হাবিব
চাকসুতে ইসলামি ছাত্রশিবির 'সম্প্রীতির শিক্ষার্থী জোট' নামে প্যানেল দিয়েছিল। বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন ওই প্যানেলের ভিপি প্রার্থী মহম্মদ ইব্রাহিম হোসেন এবং জিএস পদে সাঈদ বিন। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলিতে ছাত্র সংসদের সভাপতি হন পদাধিকার বলে উপাচার্য। ছাত্র সংসদ নির্বাচনে তাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ভাইস প্রেসিডেন্ট পদের লড়াই।
ডাকসু, জাকসু'র মতো চাকসুতে শিবিরের জয় আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে জামাত ই ইসলামির প্রভাব নতুন নয়। তবে ১৯৮১ সালের পর ওই বিশ্ববিদ্যালয় তাদের ছাত্রশিবির সুবিধা করতে পারেনি। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, আওয়ামী লিগের ছাত্র সংগঠন ছাত্র লিগের প্রতিরোধের মুখে পেরে ওঠেনি শিবির।
পরিস্থিতির বদল ঘটে গত বছর ৫ অগস্ট। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর গত বছর অক্টোবরে ইউনুস সরকার ছাত্র লিগকে সন্ত্রাস দমন আইনে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে। ছাত্র লিগের অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে জামাতের ছাত্র সংগঠন শক্তি বৃদ্ধি করছে বলে রাজনৈতিক মহল মনে করছে।
পাশাপাশি আলোচনায় এসেছে বিএনপি'র ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের ধারাবাহিক ব্যর্থতার বিষয়টি। ইতিমধ্যে বাংলাদেশের রাজনীতিতে চর্চা শুরু হয়েছে জামাতকে আটকাতে পারে একমাত্র আওয়ামী লিগ। বিএনপি ও তাদের ছাত্রদল এই ব্যাপারে পদে পদে ব্যর্থ হচ্ছে। অনেকেই মনে করছেন ফেব্রুয়ারি মাসে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এর প্রভাব পড়তে পারে তরুণ ভোটারদের মধ্যে। ছাত্র সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের স্পষ্ট কম বয়সী ভোটারদের মধ্যে জামাত ই ইসলামি যথেষ্ট প্রভাব তৈরি করেছে।