ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। বিএনপি বাংলাদেশের পাশাপাশি সব দেশের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করে।

শেষ আপডেট: 7 January 2026 09:17
বিএনপি সরকার গড়লে বাংলাদেশের (Bangladesh) ভূখণ্ড কোনও অবস্থাতেই ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। কোনও গোপন বা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন যাতে বাংলাদেশ থেকে ভারত বিরোধী কার্যকলাপ (Anti India Activities) না চালাতে পারে, তারেক রহমান সরকার গড়লে তা নিশ্চিত করা হবে। দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর 'দ্য ওয়াল'-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এই কথা বলেছেন।
তিনি বলেছেন, ভারতের সেভেন সিস্টার্স বা উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই। বিএনপি বাংলাদেশের পাশাপাশি সব দেশের অখণ্ডতায় বিশ্বাস করে।
কূটনৈতিক মহল মনে করছে, বাংলাদেশের (Bangladesh) চলমান রাজনীতির প্রেক্ষিতে বিএনপি মহাসচিবের এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের একাংশ এবং কতিপয় রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের তরফে সেভেন সিস্টার্স অর্থাৎ উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলি নিয়ে হুমকি সূচক কথা বলা হচ্ছে তখন বিএনপি-র এই প্রবীণ নেতা উল্টো সুরে বলেছেন, এই ব্যাপারে যে বা যারা যা বলছেন তার সঙ্গে তাঁর কোনও সম্পর্ক নেই।
প্রসঙ্গত, অতীতে বিএনপি সরকারের (Former BNP Govt) সময়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল না। ২০০৪ সালে খালেদা জিয়ার (Khaleda Zia) সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে চট্টগ্রামে দশ ট্রাক অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু -দেশের সম্পর্কে ফাটল ধরে। ভারতের অভিযোগ, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের মদতে চিন থেকে ওই অস্ত্র আনানো হয়েছিল ভারতের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলির বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তির হাতে তুলে দিতে। খালেদা জিয়ার ওই সরকারের ক্ষমতায় থাকাকালে বাংলাদেশে ভারত বিরোধী জঙ্গিদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সক্রিয় ছিল বলে নয়া দিল্লির তরফে বারে বারে অভিযোগ করা হয়।
বিএনপি (BNP) বিরোধী দলে থাকার সময়ও ভারতের সঙ্গে শীতল সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। ২০১৩ সালে ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের ঢাকা সফরে শেষ মূহূর্তে তাঁর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ বাতিল করেছিলেন বিরোধী দলনেত্রী খালেদা জিয়া। ওই ঘটনায় অত্যন্ত বিরক্ত হয়েছিল ভারত।
তবে অতীতকে পিছনে ফেলে সামনের দিকে এগনোর বার্তা দিয়েছে ভারত (India)। বিএনপির চেয়ারপারসন খালেজা জিয়ার প্রয়াত হওয়ার পর তিনি প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে দু -দেশের সম্পর্কের উন্নয়নে সহায়তা করেছেন বলে ভারত সরকারি বিবৃতিতে উল্লেখ করে। খালেদা জিয়ার শেষ যাত্রায় ভারতের প্রতিনিধি হয়ে ঢাকা গিয়েছিলেন বিদেশ মন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। দিল্লিতে বাংলাদেশ দূতাবাসে খালেদার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে যান ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং।
নয়া দিল্লির এই সব পদক্ষেপকে বিএনপি সাধুবাদ জানাচ্ছে, বলেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল। সাক্ষাৎকারে শীর্ষ বিএনপি নেতা অবশ্য একথাও বলেছেন, বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতের মনোভাবের আরও পরিবর্তন জরুরি। তাঁর কথায়, ভারতের দল, জনগণ এবং সরকারের প্রতি আমার পরামর্শ তারা বাংলাদেশের মানুষের মনোভাব অনুধাবন করার চেষ্টা করবেন।
তাঁর কথায়, ভারত সরকারের উচিত হবে বাংলাদেশের নাগরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য, ভারত এতদিন শুধু আওয়ামী লিগের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে গিয়েছে। কিন্তু দেশে হাসিনা সরকারের জনপ্রিয়তা যে তলানিতে ঠেকেছিল তা বোঝার চেষ্টা করেনি। বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশার কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, দু-দেশের নদীগুলির জল বণ্টন সমস্যার সমাধান, সীমান্ত হত্যা বন্ধ এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারত হস্তক্ষেপ করবে না, এটাই বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা। এই বিষয়গুলি খুব জরুরি। এগুলি না করলে আমার মনে হয় না সম্পর্ক ভাল হবে। আমরা চাই ভারত বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তুলুক।
তিনি বলেন, একটা বিষয়ে নিশ্চিত করতে পারি, তারেক রহমান যদি সরকার গড়তে পারেন তাহলে ভারতের নিরাপত্তার কোনও সমস্যা হোক আমরা তা কখনই হতে দেব না। আমরা ভারত বিরোধী কার্যকলাপ করতে দেব না।