শেখ হাসিনা সরকার (Sheikh Hasina) পতনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বেড়েছে বলে অভিযোগ। যদিও মহম্মদ ইউনুসের (Md Yunus) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন বারবার দাবি করেছে, এই হত্যাকাণ্ডগুলি ‘সাম্প্রদায়িক নয়’ বা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’।

গ্রাফিক্স: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 6 January 2026 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: গত চার বছরে বাংলাদেশে (Bangladeshi Hindu) অন্তত ৩৫৮২ জন হিন্দু-সহ ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের উপর হিংসার ঘটনা ঘটেছে। আর গত ৩৫ দিনে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১১ জন হিন্দু। খুনের ধরন, ঘটনার ধারাবাহিকতা এবং প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া মিলিয়ে সে দেশের (Bangladesh) অশান্ত পরিবেশ নিয়ে উঠছে গুরুতর প্রশ্ন।
সোমবার, ৫ জানুয়ারি, যশোরে হিন্দু সংবাদপত্র সম্পাদক রানা কান্তি বৈরাগীকে গুলি করে খুনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নরসিংদীতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয় মুদিখানার ব্যবসায়ী মণি চক্রবর্তীর। এই দু’টি ঘটনায় মাত্র ১৮ দিনের মধ্যে নিহত হিন্দুর সংখ্যা দাঁড়াল ছয়। তার আগে, ১৮ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে গার্মেন্টস শ্রমিক দীপু চন্দ্র দাসকে ইসলামপন্থী জনতা পিটিয়ে খুন করে দেহে আগুন ধরিয়ে দেয়।
ভারত ও বাংলাদেশের (India Bangladesh) সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন খতিয়ে দেখে আরও উদ্বেগজনক তথ্য সামনে এসেছে। ২ ডিসেম্বর থেকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে অন্তত ১১ জন হিন্দু নিহত হয়েছেন। নিহতদের তালিকায় রয়েছেন ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের এক মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁর স্ত্রীও। রংপুরে বাড়ির ভিতর গলাকাটা অবস্থায় উদ্ধার হয় তাঁদের দেহ।
শেখ হাসিনা সরকার (Sheikh Hasina) পতনের পর থেকে সংখ্যালঘুদের উপর হামলা বেড়েছে বলে অভিযোগ। যদিও মহম্মদ ইউনুসের (Md Yunus) নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী প্রশাসন বারবার দাবি করেছে, এই হত্যাকাণ্ডগুলি ‘সাম্প্রদায়িক নয়’ বা ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’। কিন্তু পরিসংখ্যান অন্য কথাই বলছে।
আইনশৃঙ্খলার সার্বিক অবনতির ছবিও সামনে এসেছে। বাংলাদেশের মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুধু ২০২৫ সালেই জনতার হাতে খুন হয়েছেন ১৯৭ জন।
দীপু চন্দ্র দাসের নৃশংস হত্যার পর আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দার ঝড় ওঠে। ভারত সরকারও কড়া ভাষায় প্রতিবাদ জানায়। তবে তার পরেও একের পর এক খুন থামেনি। ২ ডিসেম্বর নরসিংদীতে গুলি করে খুন হন সোনার ব্যবসায়ী প্রণতোষ কর্মকার। একই দিনে ফরিদপুরে মাছ ব্যবসায়ী উৎপল সরকারকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। ৭ ডিসেম্বর রংপুরে খুন হন মুক্তিযোদ্ধা যোগেশচন্দ্র রায় ও তাঁর স্ত্রী সুবর্ণা রায়। ১২ ডিসেম্বর কুমিল্লায় গলাকাটা দেহ উদ্ধার হয় অটোচালক শান্ত চন্দ্র দাসের।
১৮ ডিসেম্বর দীপু চন্দ্র দাসের হত্যার পর ২৪ ডিসেম্বর রাজবাড়িতে জনতার হাতে প্রাণ যায় অমৃত মণ্ডলের। ২৯ ডিসেম্বর ময়মনসিংহে সহকর্মীর গুলিতে নিহত হন আনসার বাহিনীর সদস্য বজেন্দ্র বিশ্বাস। নতুন বছরের শুরুতেও রক্তপাত থামেনি। ৩ জানুয়ারি শরীয়তপুরের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস দগ্ধ হয়ে মারা যান। ৫ জানুয়ারি খুন হন রানাকান্তি বৈরাগী ও মণি চক্রবর্তী।
মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ অন্তর্বর্তী সরকার। ওয়াশিংটনভিত্তিক ‘হিন্দুজ ফর হিউম্যান রাইটস’ সংখ্যালঘু বিষয়ক আলাদা মন্ত্রক গঠনের দাবি তুলেছে। পাশাপাশি প্রশ্ন উঠছে, এই হত্যাকাণ্ডগুলির তদন্ত আদৌ কতটা আন্তরিক ভাবে হবে? প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে সংশয় বাড়াচ্ছে সাম্প্রতিক একটি ভাইরাল ভিডিও, যেখানে পুলিশ স্টেশনের ভিতরেই উগ্রপন্থীদের দাপট দেখা গিয়েছে।