সোমবার ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সালাহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরদিন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা তথা জাতীয় দিবস উৎসব উদ্দীপনার মধ্যে পালন করলেও আলোক সজ্জায় সংযমের পরিচয় দিতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করা যাবে না।
.jpeg.webp)
শেষ আপডেট: 9 March 2026 12:52
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আগামী ২৫ মার্চ রাত দশটা থেকে দশটা এক মিনিট পর্যন্ত গোটা বাংলাদেশ (Bangladesh) অন্ধকার থাকবে। এই প্রতীকি ব্ল্যাকআউটের (Blackout) কারণ, ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনার (Pak Army) হাতে নিহতদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন।
সোমবার ঢাকায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সালাহউদ্দিন আহমেদের (Salahuddin Ahmed) সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়েছে, পরদিন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা তথা জাতীয় দিবস উৎসব উদ্দীপনার মধ্যে পালন করলেও আলোক সজ্জায় সংযমের পরিচয় দিতে হবে। অতিরিক্ত বিদ্যুৎ খরচ করা যাবে না।

ঢাকা সচিবালয়ে বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ
আজ থেকে পঞ্চান্ন বছর আগে ১৯৭১ এর ২৫ মার্চের রাত ছিল পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের কাছে এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ওই রাতে অপারেশন সার্চলাইট নামে এক মানবতা বিরোধী অভিযান চালায়। সেই রাতে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে শুধু ঢাকাতেই ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়। হত্যালীলা চলে পূর্ব পাকিস্তানের অন্যান্য বড় শহরেও।
পাকিস্তানি সেনারা মূলত টার্গেট করেছিল শিক্ষক ও ছাত্র সমাজকে। পরে সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে তারা নির্বিচারে হত্যালীলা চালায়। সেই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের প্রমাণ লোপাট করে তৎকালীন পাকিস্তান সরকার। ওই অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল, পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা যাতে স্বাধীন দেশ গড়ার লক্ষ্যে যুদ্ধ শুরু না করে। যদিও সেদিন মাঝরাতে অর্থাৎ ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন একজন পাকিস্তানি সেনা বাংলাদেশের মাটিতে থাকা পর্যন্ত লড়াই চলবে।
অবশ্য স্বাধীনতার ঘোষণা প্রকৃতই কে দিয়েছিলেন তা নিয়ে বিগত ৫৫ বছরে বিতর্কের অবসান ঘটেনি। বিএনপির (BNP) দাবি তাদের দলের প্রতিষ্ঠাতা তথা মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অন্যদিকে আওয়ামী লিগের দাবি, চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে জিয়াউর রহমান যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সেটি আসলে বঙ্গবন্ধুর বার্তা পাঠ। বঙ্গবন্ধুর তরফে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। কারণ ২৬ মার্চ গভীর রাতেই পাকিস্তানি বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর ধানমন্ডির বাড়ি থেকে গ্রেফতার করেছিল। দুর্ভাগ্যের বিষয় হল, একাত্তরের ২৫ মার্চের রাতে পাক বাহিনীর হত্যালীলাকে এখনও রাষ্ট্রসংঘ গণধর্তা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। প্রধান কারণ নথিপত্রের অভাব।
সোমবারের সরকারি বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে বিশ্ব পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে জ্বালানি খরচে সবাইকে সাশ্রয়ী হতে হবে। ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবসে তাই অতিরিক্ত বাতি জ্বালানো যাবে না। প্রসঙ্গত বাংলাদেশ সরকার ইতিমধ্যেই একাধিক ক্ষেত্রে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে।