ওই ঘটনায় উত্তাল হয় বাংলাদেশ। তখনই বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক থেকে বলা হয়েছিল অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তাদের গ্রেফতার করা মাত্র যেন বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

শেষ আপডেট: 9 March 2026 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পশ্চিমবঙ্গে ধৃত দুই দুষ্কৃতীকে দ্রুত হেফাজতে চায় বাংলাদেশ সরকার (Bangladesh)। বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সোমবার ঢাকায় বলেছেন, সরকার কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে। ভারত সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত দুই দুষ্কৃতিকে গ্রেফতারের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদও জানিয়েছেন হাদি হত্যাকারীদের দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকার সক্রিয়। একই কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের প্রধান আলি হোসেন ফকির।
এদিকে, বাংলাদেশ সরকারের কলকাতার উপ দূতাবাসের ডেপুটি হাইকমিশনার শিকদার মহম্মদ আশরাফুর রহমানের অফিস ধৃত দুষ্কৃতীদের হেফাজতে পেতে ভারত সরকারের কাছে রবিবার রাতেই কনস্যুলার এক্সেস চেয়েছেন। উপ দূতাবাসে তরফে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই খবর জানানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে ফয়সাল করিম মাসুদ এবং আলমগীর হোসেন নামের ধৃত দুই দুষ্কৃতীকে ভারতীয় গণমাধ্যম শরিফ ওসমান বিন হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করেছে।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের ইনকিলাব মঞ্চের প্রয়াত আহ্বায়ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী সন্দেহে বনগাঁ থেকে শনিবার গভীর রাতে দু'জনকে গ্রেফতার করে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের স্পেশাল টাক্স ফোর্স। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তে ধৃতরা বলেছে, তারা মেঘালয় সীমান্ত দিয়ে ভারতে প্রবেশ করেছিল। তারপর ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে তারা বনগাঁয় জড়ো হয়েছিল দেশে ফিরে যাওয়ার জন্য। বিশ্বস্ত সূত্রে খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের ট্রাস্ট ফোর্স তাদের গ্রেফতার করে। ওই সংস্থা জানিয়েছে বাংলাদেশের তোলাবাজি এবং হত্যাকাণ্ডের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িত দুই আসামি ভারতে প্রবেশ করে বনগাঁয় অবস্থান করছে বলে তারা জানতে পারে। বাংলাদেশ পুলিশ জানিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের ধৃতরা ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ক শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারী। জানা গিয়েছে বাংলাদেশের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার একজন শীর্ষ কর্তা সম্প্রতি ভারত সফরে এসে হাদি হত্যাকারীদের বিষয়ে কথা বলে জানি।
এ বছরের গোড়ায় বাংলাদেশের নির্বাচনী প্রচার চলাকালীন ঢাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে হাদিকে হত্যা করা হয়েছিল। প্রয়াত হাদি ঢাকা ৮ আসনে নির্দল প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে ঠিক ছিল। মনোনয়নপত্র পেশ করার আগেই তাঁকে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় উত্তাল হয় বাংলাদেশ। তখনই বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক থেকে বলা হয়েছিল অভিযুক্তরা ভারতে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে। তাদের গ্রেফতার করা মাত্র যেন বাংলাদেশ সরকারের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
তবে কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক একাধিক সূত্র জানিয়েছে বাংলাদেশের সঙ্গে বন্দি বিনিময় চুক্তি থাকলেও এত দুষ্কৃতীদের হস্তান্তর দ্রুত হওয়ার সম্ভাবনা কম। ধৃতরা ভারতে কোনও অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিল কিনা কি ব্যাপারে নিশ্চিত হতে হবে। এ জন্য একাধিক রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন। ধৃত দুষ্কৃতীরা ভারতে কোন অপরাধ করে থাকলে প্রথমে সেই অপরাধের বিচার হবে এ দেশে। বিচার শেষ সাজা ভোগ করার পর তাদের হস্তান্তরের প্রশ্ন আসবে। হস্তান্তরের পর বাংলাদেশ পুলিশ হাজির হত্যাকারী হিসেবে তাদের বিচারের আওতায় আনতে পারবে। তবে কনস্যুলার এক্সেস বা কূটনৈতিক সহযোগিতার সুযোগ দেওয়া হলে বাংলাদেশ পুলিশ পশ্চিমবঙ্গে এসে ধৃতদের হাদি হত্যাকাণ্ডের মামলায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে। এই ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভারত সরকারের। কেন্দ্রীয় সরকার এখনও ধৃত ২ দুষ্কৃতির বিষয়ে কিছু জানায়নি।