শেখ হাসিনার বিগত ১৫ বছরের শাসনে বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলি বারে বারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করলেও আওয়ামী লিগ সরকার তা মানেনি। হাসিনা সরকারের বক্তব্য ছিল, সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান নেই।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 20 November 2025 10:38
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট (Bangladesh Supreme Court) বৃহস্পতিবার তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর পক্ষে রায় দিল। আদালত এই ইস্যুতে কী রায় দেয় তা নিয়ে গোটা দেখে কৌতূহল তৈরি হয়েছিল। একটু আগে সে দেশের প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় দেন। সিলমোহর দেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায়।
বাংলাদেশের সংবিধানে এর ফলে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর বিধান এরপর সংযুক্ত হবে। নির্বাচন পরিচালনার লক্ষ্যে তিন মাসের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠন করা হয়। তবে আগামী সংসদ নির্বাচন মহম্মদ ইউনুসের (Muhammad Yunus) অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আইনজ্ঞদের একাংশের মত হল, জাতীয় সংসদ গঠনের পর সুপ্রিম কোর্টের (Supreme Court) রায় মেনে সংবিধানে তত্ত্বাবধায় সরকারের বিধান সংযুক্ত করতে হবে। তারপর নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান কার্যকর হবে দেশে। তবে সুপ্রিম কোর্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফেরানোর আরজি মঞ্জুর করায় সব দলই খুশি।
তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে তা হবে শুধুমাত্র নির্বাচনকালীন তিন মাসের জন্য। বাংলাদেশের সংবিধানে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনকালীন এই ধরনের সরকার গঠনের বিধান যুক্ত হয়েছিল। বিএনপি জামানায় (BNP) চালু ওই বিধান নিয়ে বাংলাদেশের দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের ইতিহাস রয়েছে।
এক পর্যায়ে বাংলাদেশ হাইকোর্ট ওই সংবিধান সংশোধনী বাতিল করে দিলে ২০১১ সালে শেখ হাসিনার সরকার সংসদে বিল এনে রায় কার্যকর করে। ফলে সংবিধান থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান বাতিল হয়ে যায়।
গত বছর হাসিনা সরকারের (Sheikh Hasina Govt) পতনের পর তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরানোর দাবিতে মামলা হয়। বাংলাদেশ হাইকোর্ট এই সংক্রান্ত ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে দেওয়ার পর মামলাটি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিবেচনাধীন ছিল। সেই মামলায় প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন ৭ সদস্যের বেঞ্চ বৃহস্পতিবার চূড়ান্ত রায় দেয়। মামলার অন্যতম শরিক ছিল বিএনপি (BNP) এবং জামাত-ই ইসলামি (Jamaat)। এছাড়া নির্বাচন সংক্রান্ত সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান বদিউল আলম মজুমদার সহ নাগরিক সমাজের একাধিক জন এই মামলায় যুক্ত ছিলেন।
শেখ হাসিনার বিগত ১৫ বছরের শাসনে বিএনপি সহ বিরোধী দলগুলি বারে বারে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দাবি করলেও আওয়ামী লিগ সরকার তা মানেনি। হাসিনা সরকারের বক্তব্য ছিল, সংবিধানের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান নেই।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আওয়ামী লিগও (Awami League) চাইছে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন মহম্মদ ইউনুস এর অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হোক। শেখ হাসিনা এবং দলের প্রথমসারির নেতারা বিগত কয়েক মাস ধরে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছেন। দলের নেতা মহম্মদ আলি আরাফাত এই বিষয়ে একাধিক সাক্ষাৎকারে সরব হয়েছেন। বেশ কয়েকটি নিবন্ধে তিনি যুক্তি দিয়েছেন কেন এখন তত্ত্বাবধাযক সরকারের অধীনে নির্বাচন হওয়া বাঞ্ছনীয়।
শেখ হাসিনার দল আশাবাদী তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠিত হলে তাদের ওপর কার্যক্রম নিষেধের নির্দেশিকা প্রত্যাহার হবে এবং আওয়ামী লিগ নির্বাচনে অংশ নিতে পারবে। এমনকী, শেখ হাসিনা এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের মৃত্যুদন্ডের সাজা ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে রদ হয়ে যেতে পারে বলে আওয়ামী লিগ আশাবাদী। তবে সুপ্রিম কোর্টের বৃহস্পতিবারের রায়ের প্রেক্ষিতে মহম্মদ ইউনুসের অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনের সম্ভাবনা তেমন একটা নেই বলেই আইন ও বিচার মহল মনে করছে।
অন্যদিকে বিএনপি এবং জামাত রাজনৈতিকভাবে তাদের পুরনো দাবি মত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফেরাতে চাইছিল। এই দুই দল মনে করছে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তা জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পাবে। তবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার সত্যিই গঠিত হলে আওয়ামী লিগ যাতে ময়দানে ফিরতে না পারে সেজন্য এই দুটি দল জোরদার চেষ্টা চালাবে।