প্রস্তাবে মনমোহন সিংয়ের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং দু'দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে মনমোহন সিং গৃহীত উদার অর্থনীতি ও বিশ্বায়নের প্রসঙ্গ। বলা হয়েছে বাংলাদেশ সংসদ মনে করে, মনমোহন সিংহের মৃত্যুতে ভারত একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব এবং নিবেদিত প্রাণ সমাজসেবীকে হারিয়েছে।

ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং
শেষ আপডেট: 15 March 2026 12:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভারতের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী প্রয়াত মনমোহন সিংহের (Late Dr Manmohan Singh, ex Prime Minister of India) স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বাংলাদেশ সংসদে (Bangladesh Parliament) সর্বসম্মতভাবে একটি শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদে প্রস্তাবটি পেশ করেন স্পিকার অবসরপ্রাপ্ত মেজর মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমদ (Retd Major Hafiz Uddin Ahmed, Speaker, Bangladesh Parliament)। পরে শোক প্রস্তাবের বাংলা অনুলিপি প্রকাশ করা হয়। সেটির ইংরেজি অনুবাদ মনমোহন সিংয়ের পরিবারকে পাঠিয়ে দেওয়া হবে বলে প্রস্তাবের শেষে উল্লেখ রয়েছে।
প্রস্তাবে মনমোহন সিংয়ের শিক্ষাজীবন, কর্মজীবন এবং দু'দফায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী থাকার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। উল্লেখ করা হয়েছে মনমোহন সিং গৃহীত উদার অর্থনীতি ও বিশ্বায়নের প্রসঙ্গ। বলা হয়েছে বাংলাদেশ সংসদ মনে করে, মনমোহন সিংহের মৃত্যুতে ভারত একজন বিচক্ষণ রাজনীতিবিদ, স্বনামধন্য অর্থনীতিবিদ, বিচক্ষণ ব্যক্তিত্ব এবং নিবেদিত প্রাণ সমাজসেবীকে হারিয়েছে।

ঢাকায় খালেদা জিয়া ও মনমোহন সিংয়ের সৌজন্য সাক্ষাৎ
কিন্তু ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়ন এবং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রগতিতে তাঁর অবদানের কোনও উল্লেখ শোক প্রস্তাবে নেই (No mention of Manmohan Singh of his contribution for Bangladesh)। মনমোহন সিং প্রয়াত হন ২০২৪-এর ২৬ ডিসেম্বর।
সম্প্রতি প্রয়াত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী তথা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে ভারতের সংসদে একটি শোক প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেই প্রস্তাবে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কের উন্নয়নে প্রয়াত খালেদা জিয়ার অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যদিও খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের যথেষ্ট অবনতি হয়েছিল। এমনকী বাংলাদেশ সফরে যাওয়া ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া। অনেকেই মনে করেন খালেদার ওই সিদ্ধান্ত ভারতের প্রতি ছিল চরম অবমাননাকর। তারপরও কূটনৈতিক সৌজন্য মেনে ভারতের শোক প্রস্তাবে দু'দেশের সম্পর্কের উন্নতিতে খালেদার অবদান স্বীকার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সংসদে মনমোহনকে নিয়ে গৃহীত শোক প্রস্তাবের অনুলিপি
অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রতি মনমোহন সিংয়ের ইতিবাচক মনোভাবের কথা কারও অজানা নয়। তাঁর যে উদার অর্থনীতির কথা বাংলাদেশ সংসদের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়েছে তার সুফল ওই দেশও পেয়েছে তাদের টেক্সটাইল ও গার্মেন্টস সামগ্রী রপ্তানিতে। মনমোহন সিং ওই দুই পণ্যের উপর শুল্ক কমিয়ে দিয়েছিলেন।
এছাড়া ২০১১ সালে ঢাকা শহরে প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং তিস্তার জল বন্টনে বাংলাদেশের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের যাবতীয় আয়োজন সম্পন্ন করেছিলেন। শেষ মুহূর্তে পশ্চিমবঙ্গের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার আপত্তি করায় ওই চুক্তি স্বাক্ষর করা যায়নি। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং যে বাংলাদেশকে তিস্তার জল দিতে চেয়েছিলেন শোক প্রস্তাবে এই বিষয়টির অনুল্লেখ অনেককেই বিস্মৃত করেছে। ওই সময় বাংলাদেশে ক্ষমতায় আসীন ছিলেন আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনা। প্রধানমন্ত্রী হাসিনার আমন্ত্রণে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর ওই সফরে দ্বিপাক্ষিক আরও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতা পত্র স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
মনমোহন সিংহের ১০ বছরের প্রধানমন্ত্রিত্বে বাংলাদেশ কেন্দ্রিক আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল ছিট মহল বিনিময়। এই ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং চুক্তি স্বাক্ষর নরেন্দ্র মোদী সরকারের জমানায় সম্পন্ন হলেও মুল কাজটি মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনই সেরে রেখেছিলেন। সেই চুক্তি ও স্বাক্ষরিত হয় শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন।
কূটনৈতিক মহলের একাংশের মত, মনমোহন সিংয়ের অবদানগুলি হাসিনা জমানার সঙ্গে সম্পৃক্ত বলেই শোক প্রস্তাবে সেগুলি উল্লেখ এড়িয়ে গিয়েছে বাংলাদেশের নতুন সরকার। যদিও তা কূটনৈতিক শিষ্টাচার বিরোধী বলে অনেকে মনে করছেন। বাংলাদেশের নতুন সরকার যখন ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের বার্তা দিতে চাইছে তখন মনমোহনকে নিয়ে এমন দায়সারা শোক প্রস্তাব ভিন্ন ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে কেউ কেউ মনে করেন।