শুক্রবার দিল্লির সাংবাদিক সমাবেশে আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে তীব্র আপত্তি তুল্য বাংলাদেশ সরকার। রবিবার ঢাকায় বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সরকারিভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।

শেষ আপডেট: 25 January 2026 17:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার দিল্লির সাংবাদিক সমাবেশে আওয়ামী লিগ নেত্রী শেখ হাসিনার ভাষণ নিয়ে তীব্র আপত্তি তুল্য বাংলাদেশ সরকার। রবিবার ঢাকায় বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রক সরকারিভাবে তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। থাকার অভিযোগ আওয়ামী লিগ নেত্রী বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন বানচাল করতে চাইছেন। তিনি বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের ডাক এবং তার কর্মীদের হিংসায় প্ররোচনা দিয়েছেন। ভারতে বসে শেখ হাসিনার এই জাতীয় মন্তব্যে বাংলাদেশ সরকার বিস্মিত এবং বেদনা হতো বলে ঢাকার বিদেশ মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে।
রবিবার বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মানবতাবিরোধী অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দণ্ডিত পলাতক শেখ হাসিনাকে ২৩ জানুয়ারি নয়াদিল্লিতে একটি জনসমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ বিস্ময় ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ওই বক্তব্যে তিনি প্রকাশ্যেই বাংলাদেশের সরকার উৎখাতের আহ্বান জানান এবং আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ভণ্ডুল করতে তার দলীয় অনুগতদের ও সাধারণ জনগণকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হতে স্পষ্ট উসকানি দেন।
অন্তর্বর্তী সরকার বলেছে, 'আওয়ামী লিগের নেতৃত্বের এই নির্লজ্জ উসকানিই আবারও প্রমাণ করে কেন অন্তর্বর্তী সরকার দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল।
প্রসঙ্গত গত শুক্রবার দিল্লিতে ফরেন কলেজপন্ডেন্টস ক্লাব অফ সাউথ এশিয়া আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন সাবেক নেতা মন্ত্রী সংসদ উপস্থিত ছিলেন। সেই অনুষ্ঠানে শেখ হাসিনার অডিও ভাষণ শোনানো হয়। তাতে তিনি পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। তার অন্যতম হলো মহম্মদ ইউনুসের পদত্যাগ এবং অন্তর্ভুক্তি সরকারের সময়ে সংঘটিত হিংসা কখনো তান্ত্রিক ঘটনাবলীর রাষ্ট্রসংঘের তদন্ত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, নির্বাচনপূর্ব সময়ে এবং নির্বাচনের দিন সংঘটিত সহিংসতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য বাংলাদেশ এই ‘গোষ্ঠীকে’ দায়ী করবে এবং তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করতে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
ঢাকার বিদেশ মন্ত্রণালয় জানায়, দ্বিপাক্ষিক প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী বার বার বলা সত্ত্বেও শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে হস্তান্তরের বিষয়ে ভারতের দায়বদ্ধতা এখনও পালন না করা এবং পরিবর্তে তাঁকে ভারতের মাটিতে বসে এ ধরনের ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া—এতে বাংলাদেশ গভীরভাবে ক্ষুব্ধ।
সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য স্পষ্টভাবে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর এবং শান্তি ও নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেলছে।'
বিদেশ মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, ভারতের রাজধানীতে এ ধরনের অনুষ্ঠানের অনুমতি দেওয়া এবং গণহত্যাকারী হাসিনাকে প্রকাশ্যে ঘৃণামূলক বক্তব্য দিতে দেওয়া রাষ্ট্রসমূহের পারস্পরিক সম্পর্কের নীতিমালা—যার মধ্যে সার্বভৌমত্বের প্রতি সম্মান, অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং সুপ্রতিবেশী সম্পর্কের নীতি অন্তর্ভুক্ত—এর পরিপন্থী এবং এটি বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের প্রতি একটি সুস্পষ্ট অপমান।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে 'এটি বাংলাদেশ–ভারত সম্পর্কের ভবিষ্যতের ক্ষেত্রে একটি বিপজ্জনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারগুলোর পারস্পরিক কল্যাণকর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তোলা, রূপ দেওয়া ও লালন করার সক্ষমতাকে গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।'