ঢাকায় ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের পর উত্তাল বাংলাদেশ। এবার খুলনায় ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির এক শীর্ষ নেতাকে গুলি করে খুনের চেষ্টা, রাজনৈতিক হিংসা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ।

শেষ আপডেট: 22 December 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইনকিলাব মঞ্চের ওসমান হাদির মৃত্যুর রেষ কাটার আগেই বাংলাদেশে (Bangladesh) ফের চলল গুলি। এবার গুলিবিদ্ধ হলেন ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (National Citizen Party – NCP) এক শীর্ষ নেতা। খুলনায় (Khulna) মাথায় গুলি করে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে মহম্মদ মোতালেব শিকদারকে (Muhammad Motaleb Sikdar)। এই ঘটনায় নতুন করে প্রশ্নের মুখে বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি।
বাংলাদেশের প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সোমবার সকাল আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিট নাগাদ খুলনা শহরের সোনাডাঙা (Sonadanga) এলাকার একটি বাড়িতে এই হামলা হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, আচমকাই কয়েকজন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতী ওই বাড়িতে ঢুকে গুলি চালায়। গুলি লাগে মোতালেব শিকদারের মাথার বাঁ দিকে। রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন তিনি।
ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির খুলনা মহানগর সংগঠক সইফ নওয়াজ (Saif Nawaz) সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মোতালেব শিকদার এনসিপি-র (NCP) কেন্দ্রীয় সংগঠক। পাশাপাশি তিনি দলের শ্রমিক সংগঠন ‘জাতীয় শ্রমিক শক্তি’-র (Jatiya Sramik Shakti) খুলনা বিভাগীয় আহ্বায়কও। খুব শীঘ্রই খুলনায় একটি বিভাগীয় শ্রমিক সমাবেশের প্রস্তুতি চলছিল। সেই প্রস্তুতির কাজেই ব্যস্ত ছিলেন শিকদার। সেই সময় এই হামলা।
গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে (Khulna Medical College Hospital) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে মাথার সিটি স্ক্যানের (CT Scan) জন্য তাঁকে সিটি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে (City Diagnostic Center) স্থানান্তর করেন চিকিৎসকরা। হাসপাতাল সূত্রে খবর, তাঁর চিকিৎসা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত তাঁর শারীরিক অবস্থার বিস্তারিত কোনও বিবৃতি সামনে আসেনি।
সোনাডাঙা থানার (Sonadanga Police Station) ইনস্পেক্টর (ইনভেস্টিগেশন) অনিমেষ মণ্ডল (Animesh Mandal) ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, “তদন্ত শুরু হয়েছে। কী কারণে হামলা, কারা জড়িত-সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” তবে এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করা যায়নি।
এই হামলার ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ওসমান হাদির হত্যাকে কেন্দ্র করে গোটা বাংলাদেশ জুড়ে রাজনৈতিক অশান্তি চরমে। উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকায় (Dhaka) মসজিদ থেকে বেরোনোর সময় মুখোশধারী দুষ্কৃতীরা গুলি চালায় শরিফ ওসমান হাদিকে (Sharif Osman Hadi)। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুরে (Singapore) নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই ১৮ ডিসেম্বর তাঁর মৃত্যু হয়। ৩২ বছর বয়সি হাদি ছিলেন ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম মুখ এবং শেখ হাসিনা (Sheikh Hasina) সরকারের পতনের আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। ভারত-বিরোধী বক্তব্যের জন্যও তিনি পরিচিত ছিলেন।
হাদির মৃত্যুর পর থেকেই বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ, পথ অবরোধ ও হিংসাত্মক ঘটনার খবর মিলছে। সেই আবহেই এনসিপি নেতার উপর গুলি চালানোর ঘটনা রাজনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, তা বলা বাহুল্য। বিরোধীদের দাবি, দেশে কার্যত আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়েছে। রাজনৈতিক মতভেদের জেরে প্রকাশ্যে খুনের চেষ্টা নতুন নয়, কিন্তু দিনের আলোয় এ ধরনের হামলা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে।
ওসমান হাদির খুন এবং তার পরবর্তী হিংসার মধ্যেই মোতালেব শিকদারের উপর এই হামলা স্পষ্ট করে দিচ্ছে-বাংলাদেশের রাজনীতিতে হিংসা এখন আর বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।